ঈদ কার্ড – সেট আবার কি?

ঈদ কার্ড
  •  
  •  
  •  
  •  

আজাদুল হকঃ ঈদ আসলে আমাদের ছোট বেলায় অস্থির হয়ে যেতাম ঈদ কার্ড কেনার জন্য, বানানোর জন্য। ঈদ কার্ড কেনাটা ছিল বিলাসিতা।

তাও নিউ মার্কেটে গিয়ে হাজার হাজার কার্ড দেখতাম। বইয়ের দোকান গুলোর সামনে সারি সারি করে সাজানো থাকত এই কার্ড। আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এগুলো থেকে দু’ একটা বাছাই করতাম।

আর বাকীগুলো বানাতাম নিজেরা। কার্ড বোর্ড কেটে ভাজ করে এই ঈদ কার্ড কার্ড বানাতাম। আর মাঝে মাঝে এই কার্ড বোর্ড কিনতে না পারলে, আপাদের বোটানীর প্রাকটিক্যাল খাতার দু’একটা পাতা চুরি করে সেগুলো কেটে ফেলতাম।

এই প্রাকটিক্যাল খাতার পাতা গুলোর ওপর একটা পাতলা ট্রেসিং পেপার থাকত। সেটা দিয়ে আবার একটু আধটু মাতবরি মার্কা কার্ড বানাতাম।

এরপর লাল, নীল রঙয়ের কলম দিয়ে ঈদ মোবারক লিখে, খামে পুরে রেখে দিতাম ঈদের আগের রাতের জন্য। তখন এক ধরণের বল পয়েন্ট কলম পাওয়া যেত যেতে থাকত চার রকম কালি মানে ফোর-ইন-ওয়ান।

একটা করে বোতাম টিপলে এক রকমের নিব বের হত। এই কলমগুলো টিপাটিপি করে ঈদ কার্ডে ঈদ মোবারক লিখতাম। চাঁদ দেখা গেলে শুরু হয়ে যেত ঈদের আনন্দ। তখন সবাইকে এই কার্ড দিতাম।

এই মজার ব্যাপারটা হারিয়ে গেছে এখন পুরোটাই। এখন ঈদ আসলে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমেইল ভরে যায় কপি করা ঈদ কার্ডের গিফ আর জেপেগ ফাইলে। খুব কমি কার্ড আসে যা যত্ন করে বানানো।

যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে জীবন, তার মধ্যে আবার আরেক প্যাচ। ঈদ হয়ে গেল ইদ!!!

ইদ মোরারক লিখতে গিয়ে কেমন যে হালকা হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে যেমন তেমন করে বলে ফেললেই হল, এমন কিছু বললাম। তাই একটু না হয় ভুল করেই বলি, ঈদ মোবারক। ক্ষমা করবেন, বাংলা একাডেমী।

আজাদুল হক
আজাদুল হক

লেখক পরিচিতিঃ আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী তড়িৎ প্রকৌশলী; সাবেক কর্মী জনসন স্পেস সেন্টার – নাসা, হিউষ্টন, টেক্সাস।
[ঢা-এফ/এ]

জুলাই ২৬, ২০২০ ১:৩১

(Visited 16 times, 1 visits today)