শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর বরিশালের স্কুল-কলেজ, খুশি অভিভাবকরা

বরিশাল প্রতিনিধি: সকাল থেকেই বরিশালের প্রতিটি রাস্তায় ছিল শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। স্কুলের প্রিয় পোশাকটি গায়ে জড়িয়ে তারা ছুটছিল স্কুলের পথে। স্কুল-কলেজের সামনে আবার সেই অভিভাবকদের জটলা। ফুটপাতে পত্রিকা বিছিয়ে চলছে তাদের খোশগল্প। প্রায় দেড় বছর পর রোববার নগরীর রাস্তায় এমন দৃশ্য চোখে পড়লো। বরিশালের স্কুল-কলেজগুলোতেও স্বাস্থ্য বিধি রক্ষায় কড়াকড়ি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদ-গরম উপেক্ষা করেই স্কুল-কলেজগুলোর ফটকের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা সময়মতো হাজির হয়েছেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য দিনের মতো স্কুল-কলেজগুলোর সামনে ঝালমুড়ি, চানাচুরসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো বসতে দেখা যায়নি।

বরিশাল জিলা স্কুলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এরপর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে সামাজিক দূরত্ব মেনে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়া ছিলো কর্তৃপক্ষের। ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকতে দেয়া হয়নি অভিভাবকদের।

স্কুলে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও রোববার ক্যাম্পাস ছিল অনেকটা ফাঁকা। কারণ প্রথম দিন ক্লাস হচ্ছে এসএসসি এবং ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের। নিয়মিত ক্লাস হবে তাদের। অন্যান্য শ্রেণীর ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন।

দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে পেরে এবং সহপাঠী-বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে স্কুল চালিয়ে যেতে চান তারা। আগে অনলাইনে ক্লাস হলেও এখন সরাসরি ক্লাসে পড়াশোনায় মনোযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের।

সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারায় হাফ ছেড়ে বেচেছেন অভিভাবকরা। প্রথম দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি তারাও। করোনা সুরক্ষায় এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান অভিভাবকরা।

অভিভাবক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘আজ অনেক কষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়েছে। রিকশা পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর আবার স্কুলের সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাও বিড়ম্বনা। তবে এত দিন পর মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, সঙ্গে তো যেতেই হবে।’

স্কুলের ছাত্রী আইরিন আক্তার বলেন, এতোদিন পর বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় যেমন আনন্দ লাগছে আবার অনেককে দেখতে অচেনা লাগছে। কারণ, দেড় বছরে সবার চেহারাই অনেকটা বদলে গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ কম হয়েছে বলে মনে করেন বরিশাল জিলা স্কুলের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক ফাহমিদা বেগম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য এবং উচ্ছাসেও ঘাটতি রয়েছে বলে প্রথম দিন মনে হয়েছে তার কাছে। যদিও পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট আগ্রহ আছে বলে তিনি জানান।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রথম দিন ভালোভাবেই অতিবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। কঠোর বিধি-নিষেধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করতে পারছেন না বলে তিনি জানান। আপাতত পঞ্চম ও দশম শ্রেণীর ক্লাস হবে সপ্তাহে ৬ দিন এবং অন্যান্য শ্রেণীর ক্লাস সপ্তাহে ১ দিন করে হবে বলে জানান জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশনা শতভাগ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন তারা। বিগত দিনে পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজর থাকবে বলে তিনি জানান।

স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে সকালে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল মারুফ। এ সময় তিনি বলেন, করোনা মেনে নিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান তারা। প্রথম দিনের সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

ঢা/এমএইচ/মমি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এইরকম আরো খবর: