৩২ বছর ধরে শেকলবন্দী মহিলাকে উদ্ধার করলেন ওসি

শেকলবন্দী মহিলা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বড়লেখায় ৩২ বছর ধরে শেকলবন্দী মানসিক ভারসাম্যহীন নারী হবিবুন নেছা (৫৮)-কে উদ্ধার করেছেন থানার ওসি ইয়াছিনুল হক।

মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

দুই ছেলে ও এক মেয়ে নাবালক থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কে বিকৃতি দেখা দেয় ওই নারীর। আর তখন থেকেই তার লাঞ্চনা-গঞ্চনার জীবন শুরু। স্বামী মুহিবুর রহমান স্ত্রীর প্রতি ধর্মীয়, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব নেয়াতো দুরের কথা বরং ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পৃথক সংসার শুরু করেন তিনি।

স্বামী ও ছেলেরা আজ প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার ব্যবসায়ী। কিন্তু ৩২ বছর ধরে ভাইয়ের চোপড়ায় শেকলবন্দী মানবেতর জীবন যাপন করলেও ভরণপোষন, সুচিকিৎসা কিংবা মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেয়ারও তারা প্রয়োজন মনে করেনি। তারা যেন ওই নারীর মৃত্যুর খবরেরই অপেক্ষায় ছিলেন।

পায়ে লোহার তালাবদ্ধ শেকল আর পাকার খুটিতে রশিতে বাধা জীবনই যেন হবিবুনের নিয়তি।

তবে অমানবিক এ ঘটনার খবর পেয়ে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হতভাগী ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

সরেজমিনে এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখা সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের মুহিবুর রহমান স্ত্রী হবিবুন নেছার ব্রেনে সমস্যা দেখা দিলে ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে সাথে নিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করে পৃথক সংসার শুরু করেন, খোঁজ নেননি মানসিক রোগী স্ত্রীর। দুই ছেলে ও মেয়ে বড় হয়েও মানসিক রোগী মায়ের খোঁজ খবর রাখেনি।

প্রায় ৩২ বছর ধরে হবিবুন নেছার বড়ভাই ইসলাম উদ্দিন বোনের দেখাশুনা করছেন। পাকা বসতঘরের
উত্তর দিকের একটি চোপড়া ঘরে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পায়ে লোহার শেকল ও রশি দিয়ে তাকে বেঁধে রেখেছেন। কংকালসার হবিবুন নেছা শুধু তাকিয়েই থাকেন। কথা বলতে গিয়ে দুর্বল শরীরের কারণে কোন কিছুই স্পষ্ট করতে পারেন না।

ইসলাম উদ্দিন জানান, বিয়ের ৫-৬ বছরের মধ্যেই ছোট বোনের মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ওষুধ পাতি করেছেন কিন্তু সারেনি। স্বামী ও ছেলে-মেয়েরা খোঁজ-খবর নেয় না। ভাগ্না নাজিম উদ্দিন ও আলা উদ্দিন বিয়ে সাদি করেছে। উত্তর চৌমুহনায় তাদের ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে। অনেক অনুনয় বিনয় করা
স্বত্তেও তারা মায়ের কোন খোজই রাখে না।

নোংরা চোপড়াঘরে ময়লা আবর্জনার মধ্যে একজন মানুষকে বেধে রাখা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুলে দিলে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে ক্ষতি সাধন করায় এভাবে রেখেছেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, স্ত্রী কিংবা মা পাগল হলেও স্বামী ও সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব তার সুকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া। ভরনপোষণ ও সেবা শুশ্রুষা করা। ৩২ বছর ধরে একজন মানসিক রোগীকে নোংরা স্থানে এভাবে বেধে রাখা অত্যন্ত অমানবিক, মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

খবর পাওয়ার পরই শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। স্বামী ও সন্তানদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন তিনি।

ঢা/এসআর/আরকেএস

(Visited 4 times, 1 visits today)