‘হাজিয়া সোফিয়া’ নিয়ে এরদোগানের হুংকার!

‘হাজিয়া সোফিয়া’ নিয়ে এরদোগানের হুংকার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবারো তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপত্যকর্মটি এক সময় খ্রিস্টানদের চার্চ ছিল যা ইস্তাম্বুলে বাইজেন্টাইন শাসনামলে বানানো হয়। কিন্তু বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্থা্পনাটি অসাম্প্রদায়িক স্থাপত্যশৈলী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এরদোগান এবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ‘হাজিয়া সোফিয়া’ মসজিদ হিসেবেই ব্যবহার হবে।

এর আগেও ‘হাজিয়া সোফিয়া’র ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। অনেক আগে থেকেই এ বিতর্ক চলে আসলেও এবার যেন বিতর্কের মাত্রাটা বেশি চড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এবারে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশে চুড়ান্ত বোঝাপড়া হয়ে যাবে।

‘হাজিয়া সোফিয়া’কে মসজিদ বলা হবে নাকি জাদুঘর এটিই বিতর্কের মূল কারণ। অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই স্থাপনাটি এক সময় গীর্জা তথা খ্রিস্টানদের উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা হাজিয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল।

এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল পাল্টা দখলের ঘটনার পর ১৪৫৩ সালে ওসমানিয় শাসনামলে এটিকে মসজিদে পরিণত করা হয়।

এরপর তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ করেন এবং হাজিয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করেন।

বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ওই স্থাপনা তথা জাদুঘরকে ফের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদের ব্যাপারে গ্রিসের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দাবির প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট সাফ বলে দিয়েছেন, ‘তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।’

তিনি ইস্তাম্বুলের লুনাত এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘হাজিয়া সোফিয়া মসজিদের ব্যাপারে তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ তুরস্কের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।’

ঢা/আরকেএস

(Visited 4 times, 1 visits today)