স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক : নাইমের ৮১ রানের ভর করে প্রথমবারের মতো ভারতের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজ জেতার স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু নাইমের সাজঘরে ফেরার পর আর কেউ মাঠে দাঁড়াতে পারে নি।

শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হলো টাইগারেরদের। অলআউট হয়ে ভারতের কাছে ৩০ রানে হারে বাংলাদেশ। চাহার ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেয়।

খেলার শুরুর দিকে মাত্র ১২ রানে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলেন তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাইম শেখ।

তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। তাদের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। ৩৪ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ফিফটি করেন নাইম।

এরপর খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নেই। ২৯ বলে ২৭ রান করে দিপক চাহারের তৃতীয় শিকার মিঠুন। ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিবম দুবের গতির বলে স্ট্যাম্প ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের।

এরআগে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নির্ধারণী খেলায় প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে স্বাগতিক ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন স্রেয়াশ আয়ার।

এছাড়া ৫২ রান করেন লোকেশ রাহুল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন শফিউল ইসলাম।

তার বলে স্ট্যাম্প উড়ে যায় ভারত সেরা ওপেনার রোহিত শর্মার। তিন ম্যাচ সিরিজে এ নিয়ে দুইবার শফিউলের শিকার হন রোহিত।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শফিউলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ভারতীয় অনিয়মিত অধিনায়ক রোহিত। সেই ম্যাচে ৯ রানে আউট হওয়া রোহিত তৃতীয় ম্যাচে ফেরেন ৬ বলে মাত্র ২ রান করে। রোহিত শর্মার বিদায়ে ১.৩ ওভারে দলীয় ৩ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ভারতের।

এরপর দলীয় ৩৫ রানে ভারতীয় শিবিরে ফের আঘাত হানেন শফিউল। তার বলে ডিপ মিডউইকেটে ফিল্ডিং করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন শেখর ধাওয়ান। সাজঘরে ফেরার আগে ১৬ বলে ১৯ রান করার সুযোগ পান তিনি।

ধাওয়ান আউট হওয়ার পর শফিউলের ওই ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দেন নতুন ব্যাটসম্যান স্রেয়াশ আয়ার। কিন্তু স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করা অনিভিজ্ঞ আমিনুল ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি।

দলীয় ৩৫ রানের দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন লোকেশ রাহুল। তার ব্যাটে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে খেলায় ফেরে স্বাগতিকরা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ৩১তম ম্যাচে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন রাহুল।

ফিফটির পর ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করার আগেই আল-আমিন হোসেনের শিকার হন তিনি। আল আমিনের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৫ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন রাহুল। তার বিদায়ে ১২.১ ওভারে ৯৪ রানে তিন উইকেট হারায় ভারত।

শূন্য রানেই সাজঘরে ফেরার কথা ছিল স্রেয়াশ আয়ারের। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন তিনি। কিন্তু স্কয়ার লেগে ফিল্ডিং করা অনভিজ্ঞ আমিনুল ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। যে কারণে দলীয় ৩৭ রানে শফিউল ইসলামের বলে লাইফ পান স্রেয়াশ।

ইনিংসের শুরুতে নতুন জীবন পেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ভারতীয় এ তরুণ ব্যাটসম্যান। ১৫তম ওভারে আফিফ হোসেনকে টানা তিন বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন।

ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার ১৯ বল আগে অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকারের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অফের ফিল্ডার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ৩৩ বল খেলে দৃষ্টি নন্দন ৫টি ছক্কা ও তিন চারের সাহায্যে ৬২ রান করেন।

সৌম্যর যে ওভারে স্রেয়াশ আয়ার আউট হন সেই ওভারের প্রথম বলেই আউট হন রিশব প্যান্ট। তিনি সৌম্যর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন।

১৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করা ভারত শেষ তিন ওভারে তুলে নেয় ৩০ রান। তাতেই ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৪। বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন শফিউল ও সৌম্য।

ঢা/এমএম

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )