স্বপ্নকে পূর্ণতা দিলেন বর্ষা

  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছোট বেলায় স্বপ্ন ছিল নায়িকা হওয়ার। মা সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের এ ব্যপারে অনুপ্রেরণাও ছিল, বাবার কিছুটা আপত্তি থাকলেও বর্ষা চৌধুরীর সামনে বাঁধার দেয়াল টেনে দেননি কখনো, বাবার এই মৌন সমর্থন পেয়ে মা তাকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন বুলবুল ললিত কলা একাডেমীতে (বাফা)।

১৯৯৯ থেকে ২০০২ টানা তিন বছর ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে ‘আধুনিক নৃত্য’ এবং সংগীতের উপর প্রশিক্ষণ নেন।

বর্ষা বলেন, ‘ক্লাসিক গান আয়ত্তে নেওয়ার পর প্রথম এ্যালবাম প্রকাশের কথা মাথায় আসে। ২০০৩ সালে ওই ভাবনার বাস্তবায়ন হয় ‘স্বপ্নযাত্রা’ এ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে।

এ সম্পর্কে তিনি ঢাকা ১৮.কমকে বলেন, ‘প্রথম এ্যালবামেই আমার গাওয়া গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারায় আমার সংগীতের প্রতি উৎসাহ ও উদ্দীপনা বেড়ে গিয়েছিল। চিন্তা ছিল, ভবিষ্যতে অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত হলেও গানের চর্চাটা অভ্যাহত রাখবো সব সময়।‘

কিন্তু সব চিন্তার ফিল কি একরকম হয়? বর্ষার জীবনে হঠাৎ মেঘহীন কালো ঝড় বয়ে যাওয়ার পর এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।

যে ঝড় জীবনকে তছনছ করে দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল কৃত্রিমভাবে। কিন্তু সেই ঝড় বর্ষাকে ভাঙতে পারেনি।

দীর্ঘ তিন বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার নতুন করে লক্ষ্যের পথে পা বাড়িয়েছেন হার না বর্ষা। তবে এবার আর নায়িকা হিসেবে না কন্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন ।

কন্ঠশিল্পী পরিচয়ের বাইরে সুর ও সংগীত পরিচালনার জানান দিতে ২০০৯ সালে বর্ষা বাজারে আসেন একটি মিক্সড এ্যালবাম নিয়ে। বর্ষার ফিচারিং এই এ্যালবাম এর শিরোনাম ছিল ‘বর্ষা মিক্সড’।

তার কথায়, ‘এই এ্যালবামে একটি গান ছিল ‘ফল ইন লাভ’ শিরোনামের গানটি মিউজিক ভিডিও করেছিলাম। এটি ছিল এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে করা একটি কাজ। এই মিউজিক ভিডিওটিতে একটি সত্য ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল।‘

২০১১ সালে সঙ্গীতা থেকে প্রকাশিত হয় ‘ডুয়েট বর্ষা’ শিরোনামের আরেকটি এ্যালবাম। এতে তার সাথে দ্বৈত কন্ঠে গান করেন বেশ কয়েকজন মেধাবী কন্ঠশিল্পী।

এই এ্যালবামের আইটেম ট্র্যাক ‘লাইলি মজনু’ ও ‘সুখের আবেশ, শিরোনামের গান দুইটি বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল। গান নিয়ে সময়ের সাথে সাথে বর্ষা তার ভাবনার বদল করেন। আর সেটাই তার কাজে দেখা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে সিডি চয়েস থেকে বাজারে আসে বর্ষার নতুন একক এ্যালবাম ‘বর্ষা-২’। এই এ্যালবামের ‘তোর ছোয়াতে’ , ‘তোমাকে চাই’ ও ‘ভাবছি তোমাকে’ শিরোনামের গান গুলো শ্রোতাপ্রিয় হয়।

এতে বর্ষার সাথে ডুয়েট গেয়েছিলেন যথাক্রমে কাজী শুভ, আপন ও বর্ণ চক্রবর্তী। একক এ্যালবামের বাইরে এ পর্যন্ত বেশকিছু মিক্সড এ্যালবামেও গেয়েছেন বর্ষা।

অডিও গানের পাশাপাশি বর্ষা এরইমধ্যে ’একমুঠো স্বপ্ন’, ’আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, ‘হৃদয়ে ৭১’ ও ‘তুমি চাঁদের চেয়ে সুন্দর’ নামের চারটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন।

২০১৬ সালে সঙ্গীতা থেকে প্রকাশিত হয় ‘প্রেম কুমারী’ শিরোনামের একটি নতুন মিউজিক ভিডিও।

২০১৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে উৎসর্গ করে সিডি চয়েস এর ব্যানারে ‘বঙ্গবন্ধু হে মহান নেতা’ শিরোনামে নতুন গান প্রকাশ করেন তিনি। এই গানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকেন ।

২০০৯ থেকে তার রাজনীতিতেও পথচলা শুরু হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যের পদ অর্জন করেন ২০১৭ সালে।

এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘ আমি সেই ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে বড় হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

বর্তমানে তিনি প্রথম সারির সাংবাদিক হিসেবে ‘দৈনিক প্রকৃতির সংবাদ’ পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

এই বছর তার স্বপ্নপূরনের অংশ হিসেবে ‘অফিসার’ শিরনামের একটি চলচ্চিত্রে নিজেকে খলনায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্র টি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নায়ক ডি এ তায়েব, প্রযোজনায় মাহবুবা শাহরীন এবং পরিবেশনায় এস জি প্রোডাকশন।

বর্ষা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। ডি এ তায়েব ভাইয়া চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞ রইল।’ অভিনয়ের পাশাপাশি বর্ষা নিয়মিত গানও করছেন।

এছাড়া উপস্থাপক, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং রাজপথেও কাজ করছেন তিনি।

ঢা/মমি

এপ্রিল ২৩, ২০২০ ৮:০০

(Visited 2,091 times, 1 visits today)