স্কুলের অনলাইন ক্লাস হবে ‘ম্যাসেঞ্জার ফর কিডস’ অ্যাপে

ছোটদের জন্য ফেসবুকের নতুন অ্যাপ ‘ম্যাসেঞ্জার ফর কিডস’

ঢাকা১৮ ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে ফেসবুকের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর কিছু কারণের মধ্যে প্রধান ও উল্লেখ যোগ্য কারণ হলো “লকডাউন”। করোনাকালীন সময়ে লকডাউন দিয়ে দেয়ার পর থেকে অফিস থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে অনলাইনেই। আর ফেসবুক সহজ ও সুবিধাজনক হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে ফেসবুক।

বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের গাইড করছেন। যেখানে শিক্ষার্থীদের অনেকেরই বয়স ১৬ বছরের নিচে।

এদিকে কিছু গবেষণায় বলা হচ্ছে ফেসবুক ১৬ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য নয়। তাই ১৬ বছরের নিচে বা শিশুদের জন্য ফেসবুক নতুন একটি অপশন ও অ্যাপ যুক্ত করেছে যার নাম “Messenger For Kids”। অ্যাপটি প্লে-স্টোর ও অ্যাপেল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

ফেসবুকে ঘটিত অপরাধের বিষয়ে ক্রাইম রিসার্চ এন্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্র্যাফ)-এর সভাপতি জেনিফার আলম বলেন, আমরা এমন অনেক কেইস পাই যে ফেইক পরিচয়ধারি মানুষ বাচ্চাদের অ্যাডাল্ট ও ডিস্টার্বইং ছবি পাঠাচ্ছে আর বাচ্চারা এগুলো দেখছে ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে, নিজেকে দোষী মনে করছে অনেক বেশি। অনেক সময় বাচ্চাদের আরও অনেকভাবে হ্যারেজমেন্টের কেইস আমরা পেয়ে থাকি।

জেনিফার আলম আরো বলেন, গার্ডিয়ান যদি “ম্যাসেঞ্জার ফর কিডস” অ্যাপটি বাচ্চাদের ব্যবহার করতে দেয় তাহলে এই ধরনের সমস্যা খুব সহজেই অ্যাভইড করা সম্ভব। আমি বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকদের উদ্দেশে বলবো, যারা ফেসবুকে বাচ্চাদের গাইড করছেন বা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন তারা দয়া করে রিকমেন্ড করুন এই অ্যাপটি ব্যবহার করার, এতে করে বাচ্চারা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবে।

মেসেঞ্জার ফর কিডস-এর মাধ্যমে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে:
১। কিডস অ্যাকাউন্টের ওপর প্যারেন্টের ফুল কন্ট্রোল।
২। আপনার সন্তান ফেসবুকে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে বা কথা বলতে পারবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।
৩। ম্যাসেঞ্জারে কাউকে অ্যাড করতে হলে প্যারেন্টস অ্যাকাউন্টের পারমিশন লাগবে।
৪। আপনার সন্তান কার সঙ্গে চ্যাট করছে, কি ছবি বা ভিডিও আদান-প্রদান করছে সব নোটিফিকেশন পাবেন প্যারেন্টস অ্যাকাউন্টে।
৫। কিডস অ্যাকাউন্টে কে কল দিচ্ছে, কাকে কল দেওয়া হচ্ছে প্যারেন্টস অ্যাকাউন্টে নোটিফিকেশন যাবে।
৬। এই অ্যাকাউন্টের তৈরির জন্য বাচ্চাদের কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ফোন নম্বরের প্রয়োজন নেই।
৭। একটি বিশেষ সুবিধা হলো কোন ম্যাসেজ বা কনভারসেশন হাইড করা যায় না, এতে করে খুব সহজেই প্যারেন্টরা মনিটর করতে পারবে কিডস কনভারসেশন অ্যাক্টিভিটি।
৮। এতে কোন ধরনের অ্যাড শো করবে না, এতে করে বাচ্চার ব্যবহৃত অ্যাপে অ্যাডাল্ট কোন অ্যাড আসবে না।
৯। ম্যাসেঞ্জার ফর কিডস-এর সকল ফিচার কিডস ফ্রেন্ডলি, সুতরাং এখানে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট আসার চিন্তায় থাকবে না।
১০। কিডস ইউজাররা যদি কোন কনটেন্ট, ম্যাসেজ বা কোন কিছুতে রিপোর্ট করে তাহলে অভিভাবকদের অ্যাকাউন্টে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

ঢা/আরকেএস

(Visited 3 times, 1 visits today)