সহযোগিতা করে ছবি-ভিডিও তৈরি অসুস্থ মানসিকতা

  •  
  •  
  •  
  •  

‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে…’-কথাগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগের এখনই সময়। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক বিচ্ছিন্ন মাহামারির উল্লেখ থাকলেও করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল।

ভ্যাক্সিনহীন এই মহামারি থেকে বাঁচতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে লকডাউনে সারাদেশ। ঘরবন্দি দেশের মানুষ। সামর্থ্যবানরা ভালো থাকার চেষ্টায় আছেন, সামর্থ্যহীনদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে সহোযোগিতা পাঠাচ্ছেন।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, ‘ত্রাণ নিয়ে ছবির পোজ না দিয়ে চলে যাওয়ায় গায়ে হাত!’, ‘ত্রাণের ছবিপর্ব শেষে ত্রাণ কেড়ে নেয়া’- এমন অনেক ঘটনা ঘটছে দেশে যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

এরা কতটা নিম্নরুচি আর বিকৃত মানসিকতার মানুষ হলে সরকারি ত্রাণে নিজের ছবি তুলতে চায়? সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ। সবাই নয়, তবে কিছু কিছু ত্রাণদাতাগণ ত্রাণ দিয়ে ভিডিও বানানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মত্ত আছেন।

তারা একবারও কি নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেছেন- ত্রাণের এই ভিডিওর ছড়াছড়িতে মহৎ কাজের মহত্ত্বটা কতখানি রইল? ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিওতে সাংবাদিকদের নিকট একজন পিতা বলছিলেন, ‘কাজ নেই তাই ঘরে খাবার নেই।

সাহায্য নিলাম, পরদিন জানতে পারলাম আমাকে ইন্টারনেটে ফকির বানিয়ে দেয়া হয়েছে’। এই কথাগুলো বলে মানুষটা চোখের পানি ছাড়ল! আপনাদের দানের উদ্দেশ্য নিশ্চয় মানুষটাকে কাঁদানো নয়! তাহলে কেন এই লোকদেখানো কাজ করে সামাজিকভাবে মানুষগুলোকে অপমানিত করেন? ভাইরাস বিস্তার রোধে লকডাউনে ঘরবন্দি দেশের মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিড়ম্বনায় আছেন সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আত্মসম্মান আর লোকলজ্জার কারণে এ মানুষগুলো উপোষ থাকলেও হাত বাড়াতে পারছেন না।

বিত্তবান ফোটোবাজ দানশীলগণ-মধ্যবিত্তরা ঘরে উপোষ থেকেও হাত না পাতার কারণ আপনাদের ফটো আর ভিডিও নয়তো? তাদের অনেকেই নিঃস্ব না, পরিস্থিতির কারণে আজ সহায়তা নিতে আসছে।

আজ যিনি দাতা, আল্লাহ চাইলে কাল সে গ্রহীতা বনে যেতে পারেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) বলছেন, ‘লোক দেখানো দানে আল্লাহর রহমত নেই, এতে অহংকার প্রকাশ পায়। অহংকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ অপছন্দ করেন’।

তাই সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ান। তবে ছবি, ভিডিও বা এ ধরনের কোনোকিছুর দ্বারা যেন এই মানুষগুলো সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেটা নিশ্চয়ই খেয়াল রাখবেন।

ত্রাণ নয়, বরং এই সহযোগিতাগুলোকে দুঃসময়ের উপহার বলুন। শারীরিক ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিরাপদ থাকুন।

লেখক: খাইরুল ইমদাদ (সাবেক শিক্ষার্থী), নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এপ্রিল ১৬, ২০২০ ৫:১৬

(Visited 23 times, 1 visits today)