সফল ড্রাগন চাষী আসাদের বাগান পরিদর্শনে কৃষি অফিসার

সফল ড্রাগন চাষী আসাদের বাগান পরিদর্শনে কৃষি অফিসার
  •  
  •  
  •  
  •  

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ড্রাগন চাষ করে আলোর মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজরাহাটি এলাকার কৃষক মো. আসাদ আলী। ২০১৯ সালের শেষের দিকে দেড় বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগনের চাষ শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যে কয়েকটি গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে।

পানের ব্যবসা করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। এমন সময় ইউটিউব চ্যানেলে ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের চাষ করে সফল হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তিনি। ইউটিউব আর এক বন্ধুর পরামর্শে শুরু করেন এই ড্রাগন চাষ।

গতকাল দুপুরে হাজরাহাটি এলাকার সফল চাষী আসাদ আলীর ড্রাগন বাগান পরিদর্শন করেছেন মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ।

এসময় মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রকিবুল হাসান, হিসাবরক্ষন অফিসার শামসুল হুদা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ সাবিহা সুলতানা, উপসহকারী উদ্ভিদ সহকারী অফিসার ফরহাদ শরীফ, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সবেদ আলী, উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহিরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সাবুবিন ইসলাম, ইউপি সদস্য দুলাল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারিসারি করে খুঁটি (পাথর সিমেন্ট ঢালাই) বেয়ে ড্রাগন গাছ বেড়ে উঠেছে। খুঁটির মাথার উপর আবার চারকোনা আকৃতি রডের বৃত্তাকার করে টায়ার দিয়ে ঘেরা। একেকটা খুঁটির চারপাশে চারটি করে ড্রাগনের গাছ লাগানো আছে। সেগুলোই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে।

ড্রাগন বাগানের মালিক আসাদ আলী জানান, তার ড্রাগন বাগানে দেড় বিঘা জমিতে ২২৫টি খুঁটি রয়েছে। প্রতিটি খুঁটির সাথে ৪-৫ টি চারা রোপন করা। এখন যত্ন শেষে গাছগুলো খুঁটি পর্যন্ত উঠে গেছে। সাত ফিট এই খুঁটি মাটিতে দুই ফিট দেওয়া (পোঁতা) আছে।

ড্রাগন গাছ লাগানোর পর থেকেই নিজেই শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আর এই কাজে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ও সন্তান। কৃষক মো. আসাদ আলী জানান, ইউটিউব চ্যানেলে ড্রাগন চাষ দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হই। এরপর ঝিনাইদহের এক বন্ধুর পরামর্শে সেখানকার ড্রাগন বাগান ঘুরে ঘুরে জ্ঞান লাভ করি। আবার সেখান থেকেই চারা কিনে শুরু করি বাগান।

ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়াও আমি প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ড্রাগন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। আমার এই বাগানে জৈব সার বেশি লাগে। রাসায়নিক সার কম লাগে। আমাকে এই বাগান করতে কৃষি অফিসসহ স্থানীয় সেতু এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রকিবুল হাসান বলেন, ড্রাগন একটি পুষ্টিকর ফল। এ ফলে রয়েছে অধিক পরিমাণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। কৃষক আসাদ আলী পরীক্ষামূলকভাবে দেড় বিঘা জমিতে ২২৫ টি খুঁটি করে ড্রাগনের চাষ করে সফলতা পেতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোন পতিত জমি ফেলে না রেখে চাষের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার বাস্তবায়ন এই মিরপুর উপজেলায় সম্পন্ন হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, এই ফল চাষ করতে জৈব সার একটু বেশি লাগে। রাসায়নিক সার কম লাগে। আমরা তাকে ভার্মি কম্পোস্ট করতে সহায়তা করবো। এছাড়াও প্রতিনিয়ত তার বাগানে গিয়ে উপসহকারী পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

কৃষক আসাদ আলীর এই ড্রাগন ফলের চাষে সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যেই ওয়াটার পাম্প, পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি প্রদান করেছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢা/এমএমজে/আরকেএস

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ ১০:৩৫

(Visited 55 times, 1 visits today)