শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান ঢাবি প্রশাসন

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান ঢাবি প্রশাসন
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মু সামাদ শিক্ষার্থীদের লাচ্ছি খাইয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।

প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক একে এম গোলাম রাব্বানী, ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের গাড়িতে করে অনশনরত শিক্ষার্থীদের হাসতাপালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাবি’র প্রোভিসি ড. মো সামাদ।

উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনেন এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসার সময় ঠিক করে দেন।

তিনি বলেন, ‌‘তোমাদের সব অভিযোগ আমরা শুনব। আমরা চাই আগামীতে আরো সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে। তবে আমি আবারো বলছি, এবার যা ঘটেছে তার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। আমি চাই তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করতে। আমি তোমাদের অনশন ভাঙাতে জোর করব না। তবে আমি চাইব তোমরা আমার কথা শুনবে এবং আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করব।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। ভিপি নুরুল হক বলেন, ‘আমি জানি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি করার ফলে মৈত্রি হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করার ব্যাপারে আমি একমত। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনাদের সঙ্গে থাকব।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আকাশের অবস্থা ভালো না। আজকে আপনারা অনশন ভাঙুন।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘তোমাদের দাবিগুলো আমরা শুনব। স্বচ্ছতার কোনো শেষ নেই। পরবর্তীতে আমরা আরো গুরুত্ব দেব।’

এর আগে, অনশনে থাকা বাকি চার শিক্ষার্থীরা হলেন, সিইসি’র চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজিম, জার্নালিজম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না, পপুলেশন্স সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন ও আইআর’র দ্বিতীয় বর্ষের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম।

এছাড়া বাকি চার শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে- ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ তাহা, ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা শোয়েব মাহমুদ, সিইসি’র মাস্টার্সের শিক্ষার্থীর মিম আরাফাত মানব ও দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল এখনও হাসপাতালে রয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় অসুস্থ তিন শিক্ষার্থী হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে অনশনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ফের অসুস্থ হওয়ায় তাদের আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মার্চ ১৬, ২০১৯ ১:১৮

(Visited 26 times, 1 visits today)