শনির দশায় মিসবাহ সিরাজ

শনির দশায় মিসবাহ সিরাজ

সিলেট প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের পদ হারানোর বেদনায় আহত সিরাজের কপালে যেন শনির দশা লেগেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পদ হারানোর পর এবার সিলেট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) থেকেও বাদ পড়ছেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

এর আগে ২০০৯ সালে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় এক যুগ পর তাকে এবার এ পদ ছাড়তে হচ্ছে।

তবে এটাকে নতুনদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন একসময়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

তিনি বলেন, এক দশক পিপি পদে দায়িত্ব পালন করেছি। বার কাউন্সিলের সেরা আইনজীবী নির্বাচিত হয়েছি। এবার নতুন কেউ পিপি পদে আসুক, এটাই চাই।

তিনি আরও বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে দলের দুর্দিন থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দায়ে খন্দকার মুশতাককেও সিলেটে গণপিটুনি দিয়েছি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে মহানগর ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করেছি। গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছি। দলের জন্য নিবেদিত আছি, থাকবো।

এদিকে আদালত পাড়ায় গুঞ্জন চলছে নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন।

তবে আপাতত কাউকে কিছু জানাতে পারছেন না উল্লেখ করে সবাইকে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছেন তিনি।

কারণ এদিনই পিপি পদে তাকে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা আছে।

এর আগে দলের ২১ তম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কমিটিতে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের জায়গা হয়নি। অথচ তিনবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় ফলে প্রত্যাশা ছিল বেশি।

সম্মেলনের আগে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি আসতে পারেন এমন আলোচনাও ছিল সিলেটজুড়ে। তবে কমিটি ঘোষণার পরপর সেই আলোচনা মিলিয়ে যায়।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ১৯৭৭ সালে মদন মোহন কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিও হন।

১৯৮১ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও হন।

পরবর্তী সময় ২০০২-২০০৮ সাল পর্যন্ত দুই দফা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৯-২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি টানা তিনবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া ২০০৯ সালে সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পান তিনি। ফলে সিলেটে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করতে থাকেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

এতে তাকে কেন্দ্র করে বলয়ও গড়ে উঠে। পরপর দুইবার তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়টা সুখকর ছিল না মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের জন্য।

নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সাবেক মেয়র কামরানের বিরোধী হিসেবে অবস্থান নেন।

এতে করে সিলেট আওয়ামী লীগের কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

দুই বার সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালনকালে সিলেটে দলকে চাঙ্গা করতে পারেননি তিনি।

পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও সুবিধা করতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

এতে করে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। শেষে তৃতীয়বার সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর তাকে সিলেট বিভাগ থেকে সরিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বর্তমানে দলের তার পদপদবী না থাকায় দলীয় অনুষ্ঠানে তেমন একটা দেখা যায় না তাকে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানে অনেকটা উপেক্ষিত তিনি।

তবে তাকে উপেক্ষার শুরুটা হয়েছিল সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। ২৭ ও ২৯ জুলাই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আমন্ত্রণ পেলেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মিসবাহ সিরাজকে। এনিয়ে তখন সিলেটজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

এরও আগে ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে ইউজলেস নেইম বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

ঢা/এসএএস/আরকেএস

(Visited 1 times, 1 visits today)