লাইলাতুল কদর কি কোন নির্দিষ্ট রাতে আসে?

ইসলাম ডেস্ক: লাইলাতুল কদরের রাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র কোরআন ও একাধিক হাদিসের ভাবার্থ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ রাতে কোরআনে কারিম নাজিল হয়েছে বলে এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।

এর আগে হাজার হাজার মাস বা হাজার হাজার বছর তাওরাত, যবুর, ইনজিল প্রভৃতি আসমানি গ্রন্থ আল্লাহর বিধান পালনে জগতে নেতৃত্বদান করেছে।কোরআন নাজিলের কদরের রাত থেকে শুধু কোরআন আল্লাহর বিধান হিসেবে জগতে নেতৃত্ব দেয়া শুরু করেছে।

আগেকার হাজার হাজার মাস-বছরের নেতৃত্ব দেয়া আসমানি গ্রন্থগুলোকে রহিত করেছে এবং আল্লাহর নবুওয়ত ও রিসালতের ঝাণ্ডা বনি ইসরাইলের কাছ থেকে বনি ইসমাইলের কাছে এসেছে। এ কারণে কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম হওয়া যুক্তিযুক্ত।

একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের ইবাদত-বন্দেগির বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বললেন, বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি হাজার বছর দিনে জিহাদে ও রাতে নফল ইবাদত করে কাটিয়েছেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম পরস্পর আলোচনা করছিলেন যে আগেকার উম্মতদের কত সৌভাগ্য! তাঁরা হায়াতও বেশি পেয়েছেন, আমলও বেশি করেছেন, আর আমাদের হায়াতও কম আমলও কম। আমাদের আয়ু কম হওয়ায় আমরা আমলের দিক দিয়ে তাঁদের থেকে অনেক পেছনে পড়ে গেলাম।

তখন আল্লাহ তাআলা সুরা কদর নাজিল করলেন। এ সুরায় আল্লাহ পাক উম্মতে মুহাম্মাদি (সা.)-কে সুসংবাদ দিলেন যে কোনো উম্মত যদি জীবনে শবে কদর শুধু একবার পেয়ে যায় এবং ওই রাতকে যথাযথ কদর করে ও ইবাদত করে, তাহলে সে যেন হাজার মাসের (তিরাশি বছর চার মাসের) চেয়ে অধিককাল ইবাদত করল।

লাইলাতুল কদর প্রতি বছর নির্দিষ্ট একই রাতে বা বিভিন্ন রাতেও হতে পারে। হতে পারে এক বছর ২১ তারিখে, আরেক বছর ২৩ তারিখে এবং অন্য আরেক বছর ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখে। আবার একই বছরেও অঞ্চলভিত্তিক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক একাধিক রাত লাইলাতুল কদর হতে পারে। যেমন বাংলাদেশে ২৭ তারিখ এবং সৌদি আরবে ২৯ তারিখ। প্রকৃত ব্যাপার মহান আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

লাইলাতুল কদর কত তারিখ এ বিষয়ে ৪০টির অধিক মত রয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মত হলো রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতের যে কোনো এক রাতে অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯তম রাতে।

রমজানের ২৭ তারিখে লাইলাতুল কদর একেবারে সুনির্দিষ্ট- এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। তবে বহুসংখ্যক প্রমাণ রয়েছে যে, ২৭ তারিখে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। একে শুধু সম্ভাবনা হিসেবে গ্রহণ করা যায়, সুনিশ্চিত হিসেবে নয়। হাদিস শরীফে এসেছে,

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، وَعِكْرِمَةَ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ هِيَ فِي الْعَشْرِ، هِيَ فِي تِسْعٍ يَمْضِينَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ ‏”‏‏.‏ يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ‏.‏ قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ أَيُّوبَ‏.‏ وَعَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الْتَمِسُوا فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ‏.‏

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল ক্বাদর। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, তোমরা ২৪তম রাতে তালাশ কর।

শেষ সাতের দুটি অর্থ একটি হলো, সপ্তম দিনে অর্থাৎ ২৭ তারিখে অথবা শেষ সাতটি রাতের যে কোনো একটি রাতে। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে (শায়খ আলবানীও সহিহ বলেছেন) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা ২৭ তারিখে অনুসন্ধান করে। -মুসনাদে আহমাদ: ৮/৪২৬, হা. নং : ৪৮০৮, ১০/৪৯৩, হা. নং: ৬৪৭৪

আসুন, রমজানের শেষ দশকের বিজােড় রাত গুলোতে আমরা লাইলাতুল কদরকে ইবাদতের মাধ্যমে তালাশ করি।আল্লাহ পাক আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন

ঢা/ইআ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )