‘রুটিন’ করে শিশুদের বলাৎকার করতেন হুজুর!

  •  
  •  
  •  
  •  

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:  পেশা শিক্ষকতা হলেও নেশা তার ভিন্ন। ছোট ছেলেশিশুদের প্রতি প্রবলভাবে যৌনাসক্ত তিনি। বিকৃত এই যৌন কামনা চরিতার্থের ক্ষেত্রেও আবার অদ্ভুত তরিকা তার। এক শিশু দিয়ে টানা একাধিক রাত তৃপ্তি খুঁজে পান না। প্রতিরাতের জন্যই চাই নতুন মুখ, ভিন্নভিন্ন শিশু। বিকৃত রুচির এই বলাৎকারকারী (৩৫) শিক্ষকতার মহান পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছেন মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশুনা করতে আসা কমবয়সী ছেলেশিশুদেরকে। কোনো ছাত্র রাজি না হলে বা প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসতো ‘হুজুরের’ নির্যাতনের খড়গ। নানা অজুহাতে ক্রমাগত মারপিটের শিকার হবার পর বাধ্য হয়েই হুজুরের শয্যাসঙ্গী হতে রাজি হয়ে যেত কোমলমতি শিশুরা। এভাবে দীর্ঘকাল তার বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষার নিরাপদ বাস্তবায়ন শেষে অবশেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন লম্পট শিক্ষক নাছির উদ্দিন।

মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তিনি শিশু বলাৎকার করার কথা স্বীকারও করে নেন। পাশাপাশি বলাৎকারের শিকার চারজন শিশুছাত্র আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তাদের ওপর নাছিরের নৃশংস নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাধীন ছোট বেউলা নিবাসী নুরুল ইসলামের পুত্র নাছির বছর দুয়েক আগে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থিত এই মাদ্রাসার শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন। তার সন্দেহজনক চরিত্র সম্পর্কে ছাত্রদের মধ্যে কানাঘুষা থাকলেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় প্রশাসনের তরফে কিছু করা সম্ভব হচ্ছিলো না। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাদের শিশু সন্তানকে বলাৎকার করার বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তৎপর হয়। ওই রাতেই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যৌন কামনার দিক থেকে নাছির দীর্ঘদিন ধরেই ছেলেশিশুদের প্রতি দুর্বল। ৫ বছর দুবাই থাকার পর মূলত এই শিশু বলাৎকারে আসক্তিই তাকে মাদ্রাসা শিক্ষকতার পেশায় টেনে আনে। শিক্ষকতায় নিয়োজিত থেকে অদ্ভুত উপায়ে তিনি তার আকাঙ্খা পূরণ করে চলেন। তার প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাত্ররা পালাক্রমে শয্যাসঙ্গী হিসেবে তার মনোরঞ্জনে ব্যাপৃত হয়। এমনকি তিনি রুটিনের মতো করে রাখেন, কে কবে তাকে বিছানায় সময় দেবে। তার ছেলেশিশু আসক্তির এই বিকৃত রুচির কথা জানতে পেরে ২০১৮ সালে তার স্ত্রী একমাত্র সন্তানসহ তাকে ছেড়ে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশুর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আলেম বানানোর উদ্দেশ্যে ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলাম। গার্মেন্টসে চাকুরি করে বহু কষ্টে ছেলের পড়ালেখার খরচ দেই। কিন্তু মানুষ রূপী এই শয়তান আমাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। একে ক্রসফায়ারে দেন স্যার। এ মানুষ না।

এ প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, মামলার খবর জানতে পেরে অভিযুক্ত বলাৎকারকারী নাছির পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তার আগেই সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসি।

অক্টোবর ২০, ২০২০ ৯:১৫

(Visited 57 times, 1 visits today)