রাজধানীতে ২ সাংবাদিকের উপর ২০ পুলিশের হামলা

  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর রূপনগর আবাসিক মোড়ে পুলিশের বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই সাংবাদিক হলেন, ‘enews71.com’- এর সম্পাদক শওকত হায়দার ও পোর্টালটির বিশেষ প্রতিবেদক মো. জিহাদ।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, হাসপাতালে ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীকে রক্ত দিয়ে বাসায় ফেরার সময় রূপনগর মোড়ে লাজ ফার্মার কাছে আসার পর জিহাদকে ‘বাইরইচস ক্যা’ বলে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে পুলিশ। জিহাদকে মারতে দেখে এসময় মোবাইলে ভিডিও করতে থাকলে টা দেখে সম্পাদক শওকত হায়দারকেও মারতে শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের মারধরে জখম শওকত ও জিহাদ তাদের বারবার বুঝাতে ব্যর্থ হন।

আহত সাংবাদিক শওকত হায়দার বলেন, ‘রূপনগরে সুরক্ষা জেনারেল হাসপাতালে রক্ত দিয়ে আমি ও জিহাদ হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম। রূপনগর মোড়ে লাজ ফার্মার কাছে আসার পর জিহাদকে ‘বাইরইচস ক্যা’ বলে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে পুলিশ।’

‘আমি একটু পেছনে ছিলাম। জিহাদকে মারতে দেখে মোবাইলে ভিডিও করতে শুরু করি। তা দেখে আমাকেও মারতে শুরু করে। বারবার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্য ঝাঁপিয়ে পড়ে মারতে থাকে। আমাদের জিজ্ঞাসাও করেনি কোথায় গিয়েছিলাম। আমরা বারবার নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে রক্ত দিয়ে ফেরার কথা বলছিলাম। কিন্তু আমাদের কোনও কথা শোনেনি। রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের মারা হয়। ওখানে যত জন পুলিশ সদস্য ছিল, সবাই মেরেছে। মারতে পেরে তারা আনন্দ পাচ্ছিল।’

ঘটনাস্থলে রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোকাম্মেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনিও এসে লাঠি দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন বলে জানান সাংবাদিক শওকত হায়দার। তিনি বলেন, ‘পুলিশের অন্য সদস্যরা যখন আমাদের মারছিল, তখন রূপনগর থানার পরিদর্শক মোকাম্মেলও ছিলেন। আমাদের পরিচয় পেয়ে রক্ষা করার পরিবর্তে তিনি নিজেও মেরেছেন। শেষে আমার বাড়ি বরিশাল শোনার পর বলেছেন, আমার বাড়িও বরিশাল। অনেক মারছো। এবার ছেড়ে দাও।’

সাংবাদিক শওকত জানান, মারধরের সময় তার মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলেট করে দেয় পুলিশ সদস্যরা। তার সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা ছিল। পুলিশ মারধরের সময় সেই টাকা কোথায় পড়েছে, তা আর খুঁজে পাননি তিনি। দুজনই হাতে-পায়ে মারাত্মক জখম হওয়ায় পর মিরপুর ১১ নম্বরে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা না। পাবলিককে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় পড়ে গিয়ে আহত হতে পারেন। আর কোনও সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টা জানি না।’

মারধরের বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘গতকালকে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে উনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা হাসপাতাল থেকে বাসায় এসেছেন। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে একসঙ্গে বসে সমাধান করে নেবো।’

ঢা/এফএইচপি

এপ্রিল ৮, ২০২০ ৬:২০

(Visited 5 times, 1 visits today)