যে কাজগুলো করলে মৃত্যুর পরেও সওয়াব হতে থাকবে

  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক: দুনিয়াতে ভালো কাজ করুন কিংবা খারাপ কাজ করুন! একজন মুসলিম ধর্মের অনুসারী হলে তার ভেতরে সৃষ্টিকর্তার ভয় স্বভাবতই থাকে। খারাপ কাজ যারা করেন, তারাও জানেন এর প্রতিদান তিনি পাবেন। মনের মধ্যে ভয় কাজ করে। এজন্যই খারাপ পথেরে দিকে অগ্রসর হলেও বারবার ফিরে আসার চেষ্টা করেন। কাজের জন্য অনুতপ্ত হন।

বুঝে শুনে কিংবা অজ্ঞতায়। স্রষ্টার অবাধ্য হলেও মৃত্যু, কবর, জান্নাত, জাহান্নামের ভয় যার আছে সে মৃত্যুর পরের জীবনে একটু ভালো থাকবারই আশা করেন।

পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়। সবাইকে চলে যেতে হয়। যাওয়ার সময় কেউ সঙ্গে যাবে না। যাবে শুধু নিজের কৃত আমল। কিয়ামতের দিন কঠিন সময়ে তারাই মুক্তি ও সফলকাম হবে যাদের সৎ আমলের পাল্লা ভারি হবে। আর মৃত্যুর পরও সৎ আমলের পাল্লা ভারি হতে পারে একমাত্র সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল চালু থাকে। ক. সদকায়ে জারিয়া, খ. ইলম, যার দ্বারা মানুষের উপকার হয় ও গ. সুসন্তান, যে পিতামাতার জন্য দোয়া করে। -সহিহ মুসলিম শরিফ

সদকায়ে জারিয়া আরবি শব্দ। সদকা শব্দের অর্থ দান করা এবং জারিয়া অর্থ প্রবহমান, সদাস্থায়ী প্রভৃতি। সদকায়ে জারিয়া হলো- এমন দান যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ এই পৃথিবী যত দিন থাকবে তত দিন পর্যন্ত কবরে শুয়ে শুয়ে সদকাকারী ব্যক্তি এর সওয়াব পেতেই থাকবে। বিধায় প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সদকায়ে জারিয়ার আমলের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। তবে দান কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নয় বরং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে করতে হবে।

এ সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। যেমন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমলনামায় যা থেকে নেকি যোগ হবে তা হলো- যদি সে শিক্ষা অর্জনের পর তা অপরকে শিক্ষা দেয় ও প্রচার করে, অথবা সৎ সন্তান রেখে যায়, অথবা ভালো বই রেখে যায়, অথবা মসজিদ নির্মাণ করে দেয়, অথবা মুসাফিরের জন্য সরাইখানা নির্মাণ করে, অথবা নদী খনন করে দেয় অথবা জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য সম্পদ থেকে সদকা করে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪২

সদকায়ে জারিয়ার কাজগুলো এমন হতে পারে-

১. রক্ত দান করার মাধ্যমে।

২. এতিমের লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া।

৩. মসজিদ নির্মাণ কিংবা মসজিদের প্রয়োজনীয় আসবারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা।

৪. প্রয়োজনীয় এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

৫. কোরআন শিক্ষা দেওয়া বা কোরআন শিক্ষা ব্যবস্থাপ করে দেওয়া।

৬. অসহায়-দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থায় হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেওয়া।

৭. কবরস্থানের জন্য জমি দান করা কিংবা জমি ক্রয়ে আর্থিক সহায়তা করা। মৃতদের সৎকারের খরচ জোগানো কিংবা বহনের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ে সাহায্য করা।

৮. মুসলমানদের কল্যাণে আসে এমন ইসলামি বই-তাফসির, হাদিস, ফিকাহ শাস্ত্রের বই-পুস্তক মুদ্রণ কিংবা বিতরণে সহায়তা করা।

৯. অত্যাচারিত মুসলমান সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো।

ঢা/এমআই

(Visited 7 times, 1 visits today)