যা থাকছে মুস্তফা কামালের স্মার্ট বাজেটে

  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজেও একজন ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা। এখন তিনি নীতিনির্ধারকের আসনে। দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প-বাণিজ্যবান্ধব একটি বাজেটই তার কাছে প্রত্যাশা।

উদ্যোক্তার কষ্ট তিনি বোঝেন। উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে আয়ও করতে হবে। বসাতে হবে কর। সেই কর কতটা জনবান্ধব, নাকি গোষ্ঠীবান্ধব হবে সেটিও জানা যাবে আজকের বাজেট বক্তৃতায়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালেরও এটি প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী এবার তার বাজেটের শিরোনাম করেছেন ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এবারের বাজেট হবে ‘স্মার্ট’ বাজেট। এবার গতানুগতিক বাজেট হবে না। প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হচ্ছে এই বাজেট। বাজেট বক্তার বইও হবে সংক্ষিপ্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রীর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতা: সম্ভাবনাময় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১৬৩ পাতার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, উচ্চ প্রবৃদ্ধি রচনা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১২৮ পাতার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১১৮ পাতার।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের পরিধি ছিল ১৫০ পাতার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের আকার ছিল ১৫৬ পাতার।

যে কারনে ‘স্মার্ট’ বাজেট

এবারের বাজেটকে কেন স্মার্ট বাজেট বলছেন, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এবারের বাজেটের আকার বাড়লেও বাজেট বক্তৃতার বই হবে সংক্ষিপ্ত। বাজেটের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হলেও তা অর্জন করতে চেষ্টা হবে সাধ্যের মধ্যে, যা সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য হবে সহজপাঠ্য। দেড়শ-দুশ পাতার বাজেট বক্তৃতার বই নয়, এবার বাজেট বক্তৃতার বই সর্বোচ্চ ১০০ পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে। আর এর মধ্যেই থাকবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। আমরা কাজে বিশ্বাসী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেট প্রণয়ন কোনও বড় কথা নয়, বাজেট বাস্তবায়নই বড় কাজ। এটিই আমার বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু এক বছরের জন্য নয়, সূদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ করে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে তৈরি হবে এবারের বাজেট। সাধারণ মানুষের জন্যই তৈরি হচ্ছে এবছরের বাজেট।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগের বছরগুলোয় একই কাঠামোতে তৈরি হলেও ভ্যাট আইন কার্যকর করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে এবারের বাজেটে, যা আগের বাজেটগুলোতে ছিল না।

আইন কার্যকর করতে ভ্যাটের একটি স্তর ভেঙে ক্রেতার সুবিধার্থে তিন স্তর থেকে পাঁচ স্তরের ভ্যাট কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে এনবিআরের জন্য নতুন করে দিকনির্দেশনা থাকবে।

আর সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমলেও এ বিষয়ে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা থাকবে। আর এসবই হবে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। এসব কারণেই অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটকে ‘স্মার্ট বাজেট’ দাবি করছেন।

বাজেটের আকার

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) ধরা হয়েছে দুই লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করবহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও বাজেটে উল্লেখ থাকছে। আসন্ন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ঋণ নেওয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

নতুন যে আশা

অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ, তার প্রথম বাজেট হবে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। শুধু এক বছরের জন্য নয়, সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ করে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে তৈরি করা হয়েছে এবারের বাজেট। সেটি কতোটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে সেটি দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরেকটি বছর।

ঢা/এমএম

(Visited 9 times, 1 visits today)