মৌলভীবাজারে কমলা চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি

মৌলভীবাজারে কমলা চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাগান গুলোতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সু-স্বাদুকমলা। পাহাড়ি জনপদের কমলা চাষিদের মুখে বইছে আনন্দের হাসি। আর এ কমলা বদলে দিয়েছে অত্রাঞ্চলের চাষিদের জীবন। কমলা ফলনের পাশাপাশি বাজার দর সন্তোষ জনক হওয়ায় চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছ থেকে পাকা,আধা পাকা কমলা সংগ্রহ ও খাঁচাবন্দি করে পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে টাকা গুনতে গুনতে প্রশান্তির হাসিমুখে ঘরে ফিরছেন চাষিরা।

এ অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বেশী কমলা বিক্রি হবে হলে আশা করছেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ মৌসুমে প্রায় দ্বিগুন বেশী কমলার ফলন ও বিক্রি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতা ও চাষিরা পাকা ও আধা পাকা কমলা স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানী ঢাকা, ভৈরব ও সিলেটে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক যোগে নিয়ে বিক্রি করছেন।

উপজেলার গোয়াল বাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া, শুকনাছড়া, ডুমাবারই, লাঠিটিলা, লাঠিছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল, সাগরনাল ইউনিয়নের পুটিছড়া, পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের কালাছড়া ও টালিয়াউড়া এবং জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সহ অন্যান্য গ্রামের টিলাবাড়ি গুলোতে কমলার পাশাপাশি বাতাবি লেবু, আদা লেবু, শাসনি ও জাড়া লেবুর বাগান রয়েছে।

এছাড়া ও অত্রাঞ্চলের মাটি গুলো মাল্টা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বিধায়, কৃষকরা গত ২/৩ বছর যাবত তা আবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। এ বাগান গুলোতে পেশা হিসেবে সর্বদা পরিচর্যা করা ওই গ্রাম গুলোর মানুষের পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক একটি বাগান থেকে প্রায়৩/৪লাখ টাকার ফলন পাওয়া যায়। কমলা চাষে যেমন খরচ কম, তেমন শ্রমও দিতে হয়না এমন টাই জানিয়েছেন অত্র বাগান গুলোর কৃষকরা। ফলে, কমলাও মাল্টা চাষে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বীও হচ্ছেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯১ হেক্টরজমিতে ৮৫ টি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে গোয়াল বাড়ি ইউনিয়নে শতকরা ৮০ ভাগ বাগান রয়েছে। এ বাগান গুলোতে ২ জাতের কমলার চাষাবাদ হচ্ছে। এক জাতের নাম খাসি ও অপর জাতের নাম নাগপুড়ি। অত্রাঞ্চলের অধিকাংশ কমলা খাসি জাতের চাষাবাদ হচ্ছে। এ বাগানগুলো থেকে চলতি মৌসুমে ৫৫০ মেট্রিক টন কমলা লেবুর ফলন প্রাপ্তির আশা রয়েছে।

লালছড়া গ্রামের কমলা চাষি মোরশেদ মিয়া (৫০) বলেন, কমলা এক বছর বেশিহলে অন্য বছর কম হয়। এ বছর সময় মতবৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবারের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, এবারে কমলার বাজারমূল্য গত বছরের তুলনায় বেশি, আকারেও মোটামুটি বড়। তিনি ইতো মধ্যে ১লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। আরো ৪লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানালেন। এছাড়া একই গ্রামের অন্যান্য চাষীরা জানান, প্রতিবছর ভারতীয় কমলা বাংলাদেশে আসায় আমাদের কমলা বিক্রি করতে সমস্যা হয়। তা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন জানান, অত্রাঞ্চলের কমলা চাষিরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী কমলা বাগানের পরিচর্যা করেছেন। পোকামাকড় ও রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণ করায় এবং কৃষি অফিসের দিক নির্দেশনা সঠিক ভাবে পালন করায় এ বছর জুড়ী উপজেলায় গত বছরের ন্যায় ভালোনা হলেও মোটামুটি ভালো হয়েছে। কারণ,সময়মতো বৃষ্টিপাতনা হওয়া।

আরো জানান,অত্রাঞ্চলে কমলা চাষিদের কমলার পাশাপাশি মাল্টা আবাদে আগ্রহ দেখে মাটির গুনাগুন যাচাই করে বিগত ২/৩ বছরে ৭০ জন চাষির মাঝে ৭০টি মাল্টার চারা বিতরণ এবং দার্জিলিং থেকে আমদানিকৃত সু-মিষ্ট ও সুস্বাদু কমলার কলম পরীক্ষামূলক ভাবে রোপন করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন চাষিদের মাঝে বিতরণ করেছি। ভারতীয় কমলা আমাদের বাজারে আসতেনা পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

ঢা/এসআর/এসআর

নভেম্বর ১, ২০২০ ৮:২২

(Visited 57 times, 1 visits today)