মেহেরপুরের প্রধান সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন অবৈধ যানবাহনের দখলে। অবাধে বেপরোয়া গতিতে চলছে এইসব যানবাহন। শিশু-কিশোর ও অদক্ষ চাকলরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মেহেরপুরের সড়ক গুলো।

নিয়ন্ত্রণহীন এইসব অবৈধ যানবাহনের কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কেউ বরণ করছে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব আবার কাউকে দিতে হচ্ছে জীবন।

আলমসাধু, নছিসন, করিমন, আলগামন, পাখি ভ্যান এরম হরেক রকম নাম দেওয়া হয়েছে এই অবৈধ যানের। তিন চাকার এই যানবাহনে তেমন কোন নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা থাকে না। তাই হর হামেসায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

চলতি মাসের ৮ তারিখ (মঙ্গলবার) গাংনীতে পাখি ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়। এদের মধ্যে চার জনকে রেফার্ড করা হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে।

গত মাসের ২৪ তারিখে মেহেরপুরের বিসিক এলাকায় পাখি ভ্যানের ধাক্কায় সাংবাদিক ইয়াদুল মোমিন মারাত্মক জখম হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ।

এছাড়াও গত ২৮ আগস্ট সদর উপজেলার ইসলামনগর-খোকসা গ্রামের মাঠে স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ যান আলমসাধুর ধাক্কায় খেজমত আলী (৫২) নামের এক কৃষক নিহত হন। এর আগে ৯ জুলাই মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মীর মাহবুব (৫৮) বিদ্যালয় থেকে মোটর সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় গরু বোঝাই ট্রলির ধাক্কায় নিহত হন।

এসব অবৈধ যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে মেহেরপুরের বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশকের কাজে। বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য বহন করায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউই।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে প্রায় প্রতিদিনিই ৫-৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছে। এই দুর্ঘটনার অধিকাংশই অবৈধ পরিবহনের কারণে ঘটেছে।

হাসপাতালের আরএমও ডা. এহসানুল কবির বলেন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। প্রায় প্রতিদিন ৫-৭ জন সড়ক দুর্ঘনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে তিন চাকার অবৈধ পরিবহনের কারণে। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ঘটনার পরিমাণ অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।

মেহেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে চেপপোস্ট বসিয়ে এসব অবৈধ গাড়ি আটক করা হলেও থামছে না এদের চলাচল। গত তিন দিনে মেহেরপুর পুলিশের অভিযানে ২৩টি অবৈধ পরিবহন আটক করা হয়। তারপরও মেহেরপুরের প্রধান সড়কে চোখ রাখলেই দেখা যাবে এদের অধিপত্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের এই মেহেরপুরে প্রায় ৭ হাজার ইজিবাইক ও ৩ হাজার সেলোইঞ্জিন চালিত অবৈধ যানবাহন চলাচল করে। যানজট থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এইসব পরিবহনকেই।

মেহেরপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, অবৈধ নসিমন, করিমনের কারণে আমাদের বড় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। অবৈধ গাড়িগুলো রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। তাদের এই বেপরোয়ার কারণে অনেক সময় আমাদের দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।

শামীম, সিদ্দিক, আসাদুল সহ বেশ কয়েকজন নসিমন চালক বলেন, আমরা গরিব মানুষ, এইসব গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাই। যদি এগুলো বন্ধ হয়ে যায় আমরা কোথায় যাব।

এ বিষয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী বলেন, সেলোইঞ্জিন চালিত এইসব অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিজেদের সচেতন হতে হবে। এসব গাড়িগুলো যেখানে তৈরি হয় আগে সেই কারখানা বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও অবৈধ যানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এবং বেশ কিছু গাড়ি আমরা ইতিমধ্যে আটক করেছি।

ঢা/এমআই/রুপক

(Visited 1 times, 1 visits today)