মমতাজ উদদীন আহমদ- এর আজ ৮৫তম জন্মবার্ষিকী

  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ ডেস্কঃ প্রখ্যাত অধ্যাপক, সাহিত্যিক, নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজ উদদীন আহমদ আজ তাঁর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী।

জন্মঃ ১৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ ইং
মৃত্যুঃ ২ জুন ২০১৯ ইং

মমতাজ উদদীন আহমদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, সাহিত্যিক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত যিনি এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। মমতাজ উদদীন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

দেশ বিভক্তের পর তার পরিবার বাংলাদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে আসে। তার পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মাতার নাম সখিনা বেগম।

প্রারম্ভিক জীবনঃ মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বর্তমান ভোলাহাট উপজেলার রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক পাস করে পরবর্তী কালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্মজীবনঃ মমতাজউদদীন আহমদ ৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেছেন। ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন।

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ভারতের দিল্লী, জয়পুর এবং কোলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসাবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার লেখা নাটক কি চাহ শঙ্খ চিল এবং রাজা অনুস্বরের পালা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকসমূহে নিয়মিত কলামও লিখে থাকতেন।

এছাড়াও তার বেশ কিছু নাটক, বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
মমতাজউদদীন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। মমতাজ উদদীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক জীবনঃ
মমতাজউদদীন আহমদ অবিভক্ত বাংলার মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায় তার শৈশব অতিবাহিত করেন। ছাত্রাবস্থায়ও তিনি তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে অংশ নেন। রাজশাহীর ভাষা আন্দোলন কর্মী গোলাম আরিফ টিপুর সাথে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন।

তিনি রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা পালন করেন; ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে তিনি রাজনীতির কারণে কারাবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য (গবেষণা ও প্রবন্ধ) অবদানঃ

* বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত
* বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত
* প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
* প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু

নাটকঃ
* নাট্যত্রয়ী
* হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার
* স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (১৯৭১)
* কি চাহ শঙ্খ চিল (১৯৮৫)
* প্রেম বিবাহ সুটকেশ
* জমিদার দর্পণ
* রাজা অনুস্বরের পালা
* ক্ষত বিক্ষত
* রঙ্গপঞ্চাদশ
* বকুল পুরের স্বাধীনতা
* সাত ঘাটের কানাকড়ি
* রাক্ষসী

গদ্য রচনাসমগ্রঃ
* চার্লি চ্যাপেলিন – ভাঁড় নয় ভব ঘুরে নয়
* আমার ভিতরে আমি
* জগতের যত মহাকাব্য
* হৃদয় ছু আছে
* লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
* মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ
* সাহসী অথচ সাহস্য
* নেকাবী এবং অন্যগণ
* জন্তুর ভিতর মানুষ
* ভালবাসিলেই
* সজল তোমর ঠিকানা (উপন্যাস)
* এক যে জোড়া, এক যে মধুমতি (উপনাস্য)
* অন্ধকার নয় আলোর দিকে

সম্মাননা ও পুরস্কারঃ শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।
* বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬);
* একুশে পদক (১৯৯৭);
* নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে;
* বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা;
* বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার;
* আলাউল সাহিত্য পুরস্কার।

[ঢা-এফ/এ]

জানুয়ারি ১৮, ২০২১ ৫:৩৩

(Visited 26 times, 1 visits today)