ভিপিএস বনাম ভিপিএন

vps vs vpn dhaka18.com
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ প্রযুক্তি ডেস্ক: ভিপিএস এবং ভিপিএন সাধারণভাবে বিভ্রান্তিকর দুইটি পরিভাষা। শব্দ দুটি আদ্যক্ষর একই রকম হওয়ায় দুটোকে তালগোল করে ফেলার সুযোগ বেশি থাকে। প্রক্ষান্তরে, এদের প্রতিটিই আলাদা আলাদা সেবা দিয়ে থাকে।

মূলত Virtual Private Server (VPS) ওয়েব হোস্টিং-এর একটি ফর্ম বা রুপ, সেখানে Virtual Private Network (VPN) এমন একটি পরিষেবা যখন আপনি ওয়েব সার্ফিং করেন যেটি আপনাকে সর্বসম্মতিক্রমে বেনামী অবস্থায় থাকার সুযোগ করে দেয়।

যদিও এরা দুইটি সম্পূর্ণ আলাদা পরিষেবা তথাপিও এদের নামগুলির কারনে আমরা এদের হরহামেশা একই গোত্রভুক্ত মনে করে থাকি। বিশেষত যখন আমরা নিয়মিত এবং বিভিন্ন বিশেষ প্রয়োজনে অনলাইনে সার্ফিং করি।

ভিপিএস(VPS) কি?

শুরুতেই জেনে নিই ভিপিএস হোস্টিং কি এবং কীভাবে এটি আলাদা বা অনন্য।

ভিপিএস ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভারকে বোঝায়। এটি হোস্টিং সংস্থাগুলি দ্বারা প্রস্তাবিত ওয়েব হোস্টিংয়ের একটি ফর্ম যা আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য ভার্চুয়াল সার্ভার পরিমন্ডল সরবরাহ করে।

আসুন একটু সহজে বুঝি, বর্তমান সময়ে সাথে তাল মিলিয়ে সবাই মোটামুটি ডেডিকেটেড হোস্টিং, শেয়ারড হোস্টিং, ম্যানেজড হোস্টিং, ওয়ার্ডপ্রেস ভিপিএস হোস্টিং, ক্লাউড হোস্টিং এবং আরও এরকম কিছু শব্দের সাথে কম-বেশি পরিচিত?

সার্ভার মানে আহামরি কিছু না, এর মানে হল এমন একটি কম্পিউটার যা ওয়েবসাইটের ফাইল এবং ডেটা সঞ্চয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। আপনি যখন কোনো ব্রাউজারে এড্রেসবারে ডোমেইন নাম টাইপ করেন তখন ব্রাউজারটি সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে এবং সঞ্চিত সমস্ত ফাইলের তথ্য সরবরাহ করে।

যখন এই একটি সার্ভার কম্পিউটারকে কোন সফটওয়্যার বা সিস্টেমের মধ্যে ফেলে ভাগ করে অনেকগুলো সার্ভার তৈরি করা হয় তখন প্রত্যেক ভাগকে এক একটা ভিপিএস বলে।

তেমনিভাবে যখন একটি কম্পিউটার একটি এবং শুধুমাত্র একটি সার্ভার হিসেবে কাজ করে তখন তাকে বলা হয় ডেডিকেটেড সার্ভার।

যেহেতু এই প্রযুক্তিতে অনেক ধরণ আছে, তাই এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধাও আছে।

ভিপিএস এর সুবিধাগুলো হলঃ

ডেডিকেটেড সার্ভার না হলেও এর স্বাদ এখানে পাওয়া যায় এবং সাশ্রয়ী।
সার্ভার কাস্টমাইজেশন সুবিধাও একটা বড় বিষয়। আপনার সুবিধামত আপনার ওয়েবসাইট চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করে পরিমানমতো অর্থ প্রদান করে সেবা নেওয়া সম্ভব। যেমনটা আমাদের দেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো বর্তমানে ডেটা, মিনিট এবং এসএমএস এর প্ল্যান আপনাকেই তৈরি করার স্বাধীনতা দেয়।

এখানে আপনার সার্ভার স্কেলিং করাটা সহজ। ভিপিএস হোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি গ্রাজুয়ালি আপনার এক্সেসে থাকা সার্ভার রিসোর্সের সংখ্যা এক্সপ্যান্ড করতে পারেন, এবং অপ্রয়োজনীয় রিসোর্স গুলো বাদ দিয়ে অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে পারেন।

বৃহত্তর সার্ভার কন্ট্রোলের স্বাদ পাওয়া যায় এখানে। আপনি যখন ভিপিএস এর সাথে সেয়ারড হোস্টিং এর তুলনা করবেন তখন আপনি হায়ার লেভেলের এক্সেসিং এর ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। এছাড়াও মূল রুট অ্যাক্সেস এবং নির্দিষ্ট সার্ভার স্ক্রিপ্টগুলি চালনার দক্ষতা পাবেন।

এই সার্ভিসের মাধ্যমে একদম সর্বোচ্চ টেকনিক্যাল সাপোর্ট পাওয়া যায়। স্ট্যান্ডার্ড ডেডিকেটেড সার্ভার-এর তুলনায় এখানে অনেক উন্নত প্রযুক্তিকর্মীদের এক্সেস থাকে।

এর কিছু অসুবিধাও জেনে নেওয়া দরকারঃ

এটি সেয়ারড হোস্টিং এর তুলনায় কিছুটা ব্যয়বহুল। যদিও ডেডিকেটেড হোস্টিং-এর তুলনায় খরচ কম, তবে এর খরচ মূলত নির্ভর করে সামগ্রীক প্রয়োজনীয়তার উপর। এটা সাশ্রয়ী হলেও বেশ খানিকটা মাসিক উচ্চমূল্য প্রদান করতে হয়।

বিভাজন প্রক্রিয়া কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করে। ভিপিএস সার্ভারের অন্য কোন সাইট যদি হিউজ ভলিউম-এর ফিজিক্যাল সার্ভার রিসোর্স ইউজ করে তখন সাইটের পারফরম্যান্স কিছুটা স্লোডাউন হয়ে যায়। যদিও সাধারনত এই সমস্যা তখনি হবে যখন আপনি খুব নিম্নমানের ভিপিএস হোস্ট ব্যবহার করতে থাকবেন।

আপনি তখনি ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার করবেন যখন আপনি স্পীড এবং পারফরম্যন্স সমান্তরাল ভাবে চান, যখন সার্ভার এনভাইরনমেন্টে আরও বেশি কন্ট্রোল এবং ফ্লেক্সিবল সার্ভার রিসোর্স দরকার পড়ে।

ভিপিএস নিয়ে অনেক কথা হলো, এবার আসা যাক ভিপিএন নিয়ে।

ভিপিএন(VPN) কি?

মূলত ভিপিএন একটি সিকিউর এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ক তৈরি করে যেটি আমাদের সমগ্র নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা জুড়ে প্রসারিত। এটি মুলত কোন ডেটা সুরক্ষিতভাবে আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে অনলাইনে সর্বসম্মতিক্রমে বেনামী অবস্থায় থাকার সুযোগ প্রদান করে।

আরও সহজে বলছি, ভিপিএন মূলত একটি কাল্পনিক টানেল যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সহজে এবং নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদান করা যায়। আমরা যেটা ইন্টারনেট বলি এটি মূলত একটি পাবলিক নেটওয়ার্ক। পৃথিবীর সবাই এই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত। তাই এখানে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিই হলো ভিপিএন(VPN)।

আপনি যখন আপনার ডিভাইসটিকে ভিপিএনে কানেক্ট করেন তখন এটা অন্য কোন একটা কম্পিউটারে(সার্ভারে) নিজেকে সংযুক্ত করে এবং ইন্টারনেটের সাথে আপনার যোগাযোগের জন্য একটি গোপন রাস্তা বা সুড়ঙ্গ তৈরি করে। আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার(আইএসপি) এই সুড়ঙ্গের উপস্থিতি বুঝতে পারলেও এর মধ্যে ঢুকতে পারবেনা। ফলে আপনি কোন সাইট ব্রাউজ করছেন কিংবা কী ডেটা পাস করছেন তা আইএসপি জানতে পারবে না। তখন আপনার দেশে বা আইএসপিতে যদি কোন সাইট ব্লক করা থাকে সেই সাইটটিও আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে ব্রাউজ করতে পারেন। আর এই সব ডেটা ভিপিএন ব্যবহারের সময় এনক্রিপ্টেড বা অননুমোদিত পথ প্রতিরোধ করে।

আপনি যখন ভিপিএন ছাড়া কোন সাইটে প্রবেশ করেন বা তথ্য আদানপ্রদান করেন তখন বিভিন্ন টুল ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে আপনার ফুটপ্রিন্ট বের করা সম্ভব। সেখান থেকে কেউ চাইলে আপনার সংবেদনশীল তথ্য যেমন ব্যাঙ্ক একাউন্ট, ইমেইল বা ব্যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি বের করে ফেলতে পারে, যেটি ভিপিএন ব্যবহার করলে সম্ভব হয় না।

এবারে জেনে নেবো ভিপিএন ব্যবহারের বিশেষ কিছু সুবিধা:

জিওরেস্ট্রিক্টেড কন্টেন্টের এক্সেস পেতে ভিপিএন এর জুড়ি নেই। যেহেতু এটি এমন একটি বাইপাস যেটি আপনার আইএসপি ধরতে পারে না। তাই যেসব সাইট আপনার দেশাংশ বন্ধ বা ব্লক করা সেসব সাইট সহজেই ভিপিএন ব্যবহার করে ভিজিট করা সম্ভব।

যেহেতু ভিপিএন নেটওয়ার্কে আপনার ডেটা ছাড়ার পূর্বে এনক্রিপ্ট করে ফেলে তাই এটা আপনাকে নিরাপদ রাখে, সুরক্ষা দেয়। আপনাকে যদি প্রায়শই বাড়ির বাইরে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে হয় তবে ভিপিএন আপনাকে অনলাইনে নিরাপদ রাখবে।

চমৎকার কিছু সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এর বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে

ধীরগতির ইন্টারনেট কানেকশন। যেহেতু এই সিস্টেমটি আপনার ডেটাকে এনক্রিপ্ট করে, তাই এটি কার্যত আপনার ইন্টারনেট কানেকশনকে কিছুটা ধীরগতি করে দেয়। আর যদি আপনি ধীরগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তবে এটি কার্যত আপনার কানেকশনকে অকেজো করে দিতে পারে।

এখানেও সিকিউরিটি ইস্যু থেকে যায়। ভিপিএন গুলি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। একেবারে হাই লেভেলের সিকিউরিটি আপনার ভিপিএনকে কনফিগার করার উপর নির্ভর করে। অনেক সময় আপনার ডেটা সিকিউর থাকলেও IP এবং DNS লিক হতে পারে।

বিভিন্ন কারনে ভিপিএন কানেকশন ড্রপ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার এক্সিস্টিং এননেমাস কানেকশন আর থাকে না, সেটি পাবলিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে যায়। যদিও কিছু কিছু ভিপিএন “কিল সুইচ” ব্যবহার করে যেটি ড্রপ দেখা দিলে কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

ভিপিএস হোস্টিং এমন একটি পরিষেবা যা আপনাকে ভার্চুয়াল সার্ভার এনভাইরনমেন্টে আপনার ওয়েবসাইটটি হোস্ট করার অনুমতি দেয়। যেখানে কোনও ভিপিএন একটি ইউজার ওরিয়েন্টেড টুল যা আপনাকে নিরাপদে এবং সুরক্ষিতভাবে ওয়েব ব্রাউজ করতে দেয়।

কোনো ভিপিএস এবং ভিপিএন সম্ভবত একমাত্র যে বিষয়টির মিল রয়েছে এবং সেটি হল প্রতিটি সার্ভিসই ভার্চুয়ালাইজেশন প্রদান করে।

যেহেতু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রয়োজন নির্দেশ করে যদিও ব্যবহারকারী হিসাবে আপনি উভয় পরিষেবায়ই নির্ভর করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি একটি বৃহত এবং হাই ট্র্যাফিক ওয়েবসাইট থাকে, তবে আপনি নিজের সাইটটি হোস্ট করার জন্য ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন। তারপরে, আপনি ইন্টারনেটে যে কোনও ডেটা প্রেরণ, তার সুরক্ষা এবং আপনি নিজের সাইট পরিচালনা করতে ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস করার সময় ভিপিএন সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।

লিখেছেন, আরাফাত রানা

ঢা/এস

(Visited 18 times, 1 visits today)