ভিনদেশী সংস্কৃতি, সমকামিতা ও বাংলাদেশ

ভিনদেশী সংস্কৃতি সমকামিতা ও বাংলাদেশ
  •  
  •  
  •  
  •  

একটা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তৈরী হয় তার ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, খাদ্যাভ্যাস, পোষাক, উৎসব, সামাজিক আচার, শিল্পকলা ইত্যাদির সমন্বয়ে।মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই সংস্কৃতি মানব সমাজের অংশ। এক কথায় সংস্কৃতি একটা জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক ‘আত্মপরিচয়’। সংস্কৃতি হারিয়ে গেলে সে জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারিয়ে যায়।

সংস্কৃতি অনেক উপাদান নিয়ে গঠিত হলেও এর অন্যতম মূল বা প্রধান উপাদান ভাষা। কারন জনগোষ্ঠী তৈরীতে ভাষা মূল ভূমিকা পালন করে বা প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় ভাষাভিত্তিক জনগোষ্ঠী ও তার সংস্কৃতি তৈরী হয়, এভাবেও বলা যেতে পারে। পশ্চিমা সংস্কৃতি, প্রাচ্য সংস্কৃতি, ল্যাটিন সংস্কৃতি, মধ্যপ্রাচ্যীয় সংস্কৃতি, আফ্রিকান সংস্কৃতি, বাংলার সংস্কৃতির দিকে নজর দিলেই এই ধারনা প্রতিলক্ষিত হয়।
বাংলার সংস্কৃতি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সংস্কৃতি। শত শত বছর ধরে বাংলার সংস্কৃতি সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, খাদ্যাভ্যাস, পোষাক, উৎসব, সামাজিক আচার, শিল্পকলায় নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, বৈচিত্রতা ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।

তবে সংস্কৃতি এখন আর স্থির নয়। স্বরুপ যাই হোক না কেন প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিই প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। আমাদের বর্তমান পরস্পর সংযুক্ত দুনিয়ায় সংস্কৃতি একটি প্রধান বিষয়। কারণ এই দুনিয়া গড়ে উঠেছে নৃতাত্বিকভাবে বিচিত্র অসংখ্য সমাজের সমন্বয়ে। শক্তিশালী সংস্কৃতি প্রভাব বিস্তার করেছে দূর্বল সংস্কৃতিতে। তবে ধর্মের উত্থানের পর ধর্মও কিছু কিছু সংস্কৃতিতে তার প্রভাব বিস্তার করেছে। যেমন পশ্চিমা সংস্কৃতির শেকড় প্রোথিত রয়েছে গ্রেকো-রোমান যুগের ধ্রুপদী যুগ এবং ১৪ শতকে খ্রিষ্ট ধর্মের উত্থান পর্বে। অন্যদিকে ইহুদি, খৃষ্টান, ইসলাম, বাহাই, কনফুসিয়াস, জরাথুষ্ট সহ বেশীরভাগ ধর্মের রীতিনীতির মিল পাওয়া যায় তাদের উৎপত্তিস্থল মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিও বার বার ভীনদেশী অপসংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। পশ্চিমা, মধ্যপ্রাচ্য ও হিন্দি সংস্কৃতির বহু মিশ্রণ ঘটেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা মুক্তির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিবে। এমনিতেই পার্শবর্তী দেশ হওয়ায় বহু হিন্দি সংস্কৃতির মিশ্রণ ইতোমধ্যে ঘটেছে। হিন্দী সিরিয়াল দেখে বাংলাদেশে ডিভোর্সের পরিমান বেড়েছে। ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে একাধিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অপসংস্কৃতির দ্বারাও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ‘সমকামিতা’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বহু প্রাচীন ও সাধারন সংস্কৃতি। যা বর্তমানে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর বহু দেশেও এই সমকামিতা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই সমস্যা বাংলাদেশে বহু পুরোনো হলেও গতকিছুদিন যাবৎ তা বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোয় গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশীরভাগ দেশ মুসলিম দেশ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বললে আবেগপ্রবন বাংলাদেশের মানুষ ভাবেন ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। তাই হয়তো মিডিয়াগুলো সমকামি বলৎকারের বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের যে যে অঞ্চলের মানুষ বেশী মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন সেসব অঞ্চলের সমকামি বলৎকার ও ধর্ষণের হার দেখলে সহজেই তা অনুধাবন করা যায়।

বর্তমান পরস্পরসংযুক্ত দুনিয়ায় সংস্কৃতির এই মিশ্রণ  আর আটকানো সম্ভব নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন। এক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি অন্য জনগোষ্ঠীতে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। এক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির অন্য জনগোষ্ঠীর জন্য কাল হয়ে উঠতে পারে। ধ্বংস করে দিতে পারে তার ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ। এক সংস্কৃতি অন্য সংকৃতির জন্য অপশক্তি হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই ভীনদেশী সংস্কৃতির ভালোটা রেখে খারাপটা প্রতিরোধ করতে হবে। অযাচিত ও অনাকাংখিত ভীনদেশী অপসংস্কৃতির পথ বন্ধ করে বাংলার সংস্কৃতির স্বকীয়তা, বৈশিষ্ট্য ও আত্বপরিচয় ধরে রাখাতে হবে। নাহলে হয়তো অচিরেই বাংলাদেশের মানুষ বাংলার চেয়ে হিন্দিতে কথা বলতে বেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করবে এবং বলৎকারকারী সমকামিদের থেকে সমকামিতা বৈধতার দাবী ও ফতোয়া আসতে পারে। আর তা হলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে আমাদের সংস্কৃতি,সমাজ ও আমাদের ধর্ম।

লেখক পরিচিতি:
আশিক ফারুকী,  লেখক ও কলামিস্ট।

ঢা/এসআর

ডিসেম্বর ২, ২০২০ ৭:১৮

(Visited 150 times, 1 visits today)