ভাস্কর্য বিতর্ক; কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ

  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ প্রতিবেদক: প্রায় দুই মাস ধরে রাজধানীর ধোলাইপাড় চত্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির বিরোধিতা করে আসছিল অনেকগুলো ইসলামপন্থী দল, তবে হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গতকালই প্রথমবারের মত কড়া ভাষায় নিজের ভাস্কর্য-বিরোধী অবস্থান পরিস্কার করেন।

শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর তার বক্তব্যে বলেন, যে কোনো ‘ভাস্কর্য তৈরি করা হলে তা টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ফেলা হবে।’

হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্যের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ঐ মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বক্তব্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশ হেফাজত ইসলামীর আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর ভাস্কর্য-বিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ করে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

এই ইস্যুতে এতদিন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও শনিবার দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা যা বলছেন:
শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন যে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ফেলবে বলে কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, এদেশের আবহমানকালের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে আমরা মনে করি।”

“তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরির চেষ্টা করছে।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অপচেষ্টা’ হিসেবে বিবৃত করেছেন।

তিনি বলেন, “সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান সহ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে ভাস্কর্য হতে পারবে না কেন?”

“এই ধরণের উগ্রবাদী, জঙ্গিবাদী কথাবার্তা বলে তারা ইসলামের মত শান্তির ধর্মকে মানুষের কাছে বিতর্কিত করে তুলছে এবং মূর্খের মত উন্মাদনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকার বা জনগণ কেউই এটি বরদাস্ত করবে না।”

তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করলেও দলটি বা এর কোনো অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ভাস্কর্য তৈরির বিরোধিতা নিয়ে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই ইসলামপন্থী কয়েকটি দল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে আসলেও বিষয়টি আলোচনায় আসে ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় একটি সম্মেলনে খেলাফত মজলিশের শীর্ষ নেতার বক্তব্যের পর।

সেসময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুঁড়ে ফেলবেন।

এরপর আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে।

ঢাকায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবেও সমাবেশ করে ভাস্কর্যের বিরোধীতাকারীদের উচিৎ জবাব দেবার হুমকি দেয়।

ঢা/জবা

নভেম্বর ২৮, ২০২০ ৭:৫০

(Visited 69 times, 1 visits today)