ব্রীজে চড়তে বাঁশের সাঁকো !

নিউজ ডেস্ক: খাল পেরুতে ব্রীজ তৈরী করেছে সরকার। আর সেই ব্রীজে চড়তে পারত হতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। এমনই চিত্র লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের চরবৈরাতী এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৮ সালের শেষের দিকের ব্রীজের দু পাশের সড়কটি বন্যায় ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পরে। বন্যা পরবর্তী সময়ে যাতায়াত এর জন্য এলাকাবাসী নির্মান করে একটি বাঁশের সাঁকো।

বন্যা পরবর্তী সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ছিল একটি বাঁশের সাঁকো। সেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুল, কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হয়েছে ব্রীজের সাথে তৈরী করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে।

কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার  ইউনিয়নের চরবৈরাতী এলাকার একটি খালের উপর একটি  ব্রীজ নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি চরবৈরাতী এলাকায় ২ লাখ ৯১ হাজার ১৬০ টাকা ব্যয়ে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর বৈরাতী গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষের মাঠ থেকে ফসল আনতে হলে ব্রীজটি ছিল একমাত্র ভরসা। এছাড়া তুষভান্ডার থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়  যাতায়াতের সহজ পথ হিসেবে চরবৈরাতী এলাকার এই ব্রীজটি একমাত্র মাধ্যম। এই বিপুল সংখ্যাক মানুষের জন্য ৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

গত বছরে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে বন্যায় তীব্র পানির স্রোতের কারণে ব্রীজের সংযোগ সড়কটির এক অংশ ভেঙ্গে গিয়ে খালের সৃষ্টি হয়। এতে  সাধারন মানুষ ও যানবাহন চলাচলসহ মাঠ থেকে ফসল আনতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। চলাচলের জন্য স্থানীয় ভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্রীজটির এ অবস্থার কারণে চরবৈরাতী গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন নিত্য দিনের হয়ে দাড়িয়েছে।

এলাকাবাসী জানায় এবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগে সড়কটি সংস্কার করা না গেলে বর্ষায় এলাকা থেকে বেরহওয়া দূরসাধ্য হয়ে পড়বে। এছাড়াও চর বৈরাতী এলাকায় বিপুল পরিমান তামাক এবং ভু্ট্রা উৎপাদন হয় বলেও জানা গেছে। যোগাযোগের সড়ক না থাকায় কৃষক তার কষ্টে অর্জিত ফসল ন্যা্য্য মূল্য বিক্রয় ও করতে পারতেছেন না।

চর বৈরাতী এন জামান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন,শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন, কৃষক হাকিম উদ্দিন,মৌলভী হানিফ সহ কয়েকজন বলেন, চর বৈরাতী এলাকাবাসীর র্দীঘদিনের প্রাণের দাবী ছিল এই ব্রীজটি। গত বছরর বন্যায় সংযোগ সড়কটি ভেঙে  যাওয়ায় ব্রীজটি দিয়ে চলাচল করতে পারি নাই। বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রীজটির সংযোগ সড়কটি সচল করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ব্রীজটি দিয়ে স্কুল,কলেজ সহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার যাতায়াতের সহজ পথ হওয়ার কারণে আমাদের জন্য ব্রীজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়াও  বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন আমাদের নিত্য দিনের হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রীজের সংযোগ সড়কটি যাতে দ্রুত সংস্কার পুর্বক চলাচলের উপযোগী করা হয় তার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা যায়, বদলী জনিত কারনে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোগদান করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করা হবে।

(Visited 3 times, 1 visits today)