`বুলবুল‘ এর প্রভাবে শুরু বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, উপকূলে দমকা বাতাস

wind

নিউজ ডেস্ক : অতি প্রবল ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সঙ্গে মেঘলা আকাশ। উপকূলীয় এলাকায় বইছে প্রবল দমকা বাতাস।

এদিকে শুক্রবার দুপুর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতেই গভীর নিম্নচাপ থেকে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় (সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম)-এ পরিণত হয়েছে ‘বুলবুল’।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব: হাতিয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার , ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে তার দূরত্ব ৩৯০ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ঘূর্ণিঝড় রয়েছে প্রায় ৬৩০ কিলোমিটার দূরে। বঙ্গোপসাগরে বুলবুলের ঘূর্ণনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার।

আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্রমতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ রাজ্যের সাগর দ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে তা আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় আছড়ে পড়বে বুলবুল, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে পারছেন না আবোওয়াবিদরা।

কারণ, মাঝেমধ্যেই গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে বুলবুলের। তবে আবহাওয়াবিদদের অনুমান, সুন্দরবনের উপর দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’: সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকত

সাগরদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের খেপুপাড়া— এর মধ্যেই কোনও একটি জায়গায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বুলবুলের। তবে অভিমুখ এখনও পর্যন্ত খেপুপাড়ার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে বলে আবহাওয়াবিদদের মত।

সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা,  বেলা বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। উপকূলবর্তী এলাকায় বুলবুলের প্রভাব আরও বেশি হবে।

ইতিমধ্যেই দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বেড়েছে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতাও। আগে থেকেই প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। মৎসজীবীদের সুমদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকা পড়েছেন কয়েকশ’ পর্যটক। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর কিছুটা উত্তাল। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরণের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিচ্ছে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায়  ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র অবস্থান। এ কারণে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকতে দেখাতে বলা হয়েছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দুপরের পর থেকে সকল ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে হাতিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একটি করে সিগন্যাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে রাত থেকে হাতিয়ায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

আকাশ অনেকটা মেঘলা আকার ধারণ করায় দিনের বেলায়ও অন্ধকার নেমে এসেছে। সকল নৌ-যানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের মাধ্যম সি ট্রাকসহ সকল যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। নিঝুম দ্বীপসহ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সিগন্যাল পতাকা উত্তোলন ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শনিবার বিকালের পর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব অনুভূত হতে পারে৷ মধ্যরাতে খুলনা অঞ্চল দিয়ে বুলবুল উপকূল অতিক্রম করতে পারে৷ আপাতত এর গতিমুখ সুন্দরবনের দিকে রয়েছে৷

সকালে ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল৷

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল৷

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগুতে থাকা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এরই মধ্যে প্রবল আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঘূর্ণিঝড়টি কখনো বেশি গতি পাচ্ছে, আবার কখনো থেমে যাচ্ছে। গতিবেগ কখনো বেশি হচ্ছে, কখনো কম হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে যেসব সাইক্লোনেন সৃষ্টি হয়, উপকূলে আঘাত করার আগে সাধারণত সেগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী সাইক্লোনটি বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঢা/তাশা

(Visited 1 times, 1 visits today)