বিপাকে পড়েছেন নোকিয়ার বাটন ফোন ব্যবহারকারীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক: বাটন ফোন দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন আর বাটন ফোনের গুরুত্ব দিচ্ছে না মোবাইল জগতে আধিপত্ব বিস্তারকারী কোম্পানি নোকিয়া।

একটা সময় জনপ্রিয় থাকলেও এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাটন ফোন ব্যবহারকারীদের।

মোবাইল ব্যবহার করলেও গ্রাহকরা পাচ্ছেন না কাস্টমার সার্ভিস সেবা।

সাইফুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক জানান, বছর দেড়েক আগে নোকিয়ার একটি বাটন (ফিচার) মোবাইল ফোন কেনেন তিনি। বছর পার হতেই মোবাইল ফোনটি দিয়ে কথা বলতে গেলে স্পষ্ট কথা শোনা যায় না, আবার নেটওয়ার্কেও সমস্যা করতে থাকে।

সমস্যার সমাধানে সাইফুল ছুটে যান নোকিয়ার কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে (গ্রাহক সেবা কেন্দ্র)। কিন্তু তাকে হতাশ হতে হয়। কারণ কাস্টমার কেয়ার তাকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। নোকিয়ার কোনো বাটন মোবাইল ফোনের সার্ভিস (সেবা) কাস্টমার কেয়ার থেকে দেয়া হয় না বলে তাকে জানিয়ে দেয় কাস্টমার কেয়ার।

নোকিয়ার সব কাস্টমার কেয়ার থেকে বাটন মোবাইল ফোনের সার্ভিস (সেবা) দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় সাইফুলের মতোই বিপাকে পড়তে হচ্ছে নোকিয়ার বাটন ফোন কেনা সব গ্রাহকদের।

কয়েকটি কাস্টমার কেয়ারে কথা বলে জানা যায়, অফিসিয়ালি কাস্টমার কেয়ারে বাটন মোবাইলের সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো মোবাইলের সার্ভিস কাস্টমার কেয়ার থেকে দেয়া হচ্ছে না।

তবে মোবাইল কেনার এক বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে, যে দোকান থেকে সেটা কেনা, গ্রাহক সেই দোকানে গেলে তারা মোবাইলটি পরিবর্তন করে দেবে। মোবাইল কেনার পর মেয়াদ এক বছর পার হলে আর কোনো সেবা পাওয়া যাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে নোকিয়ার আটটি মডেলের বাটন মোবাইল বাজারে রয়েছে। দেড় হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে এসব মোবইল বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তিন হাজার ২৫০ টাকায় নোকিয়া-২১৬, দুই হাজার ৮০০ টাকায় নোকিয়া-১৫০, তিন হাজার ৮৫ টাকায় নোকিয়া-২১০, চার হাজার ৬০০ টাকায় নোকিয়া-৩৩১০ এবং পাঁচ হাজার ৪০০ টাকায় নোকিয়া-২৩০ ফোন বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া ১০৫ মডেলের মোবাইলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা। নোকিয়া-১০৬’র মূল্য এক হাজার ৬০০ টাকা এবং নোকিয়া-১৩০’র মূল্য দুই হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাটন মোবাইলগুলোতে শুধু এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ওয়ারেন্টি নেই। এক বছরের মধ্যে মোবাইলের কিছু হলে পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে। এজন্য গ্রাহক যে প্রতিষ্ঠান থেকে মোবাইল কিনবেন সেই প্রতিষ্ঠানেই নিয়ে যেতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে এ সুবিধা পাবেন না বলে জানিয়েছেন মোবাইল বিক্রি করেন এমনি একাধিক  প্রতিষ্ঠান।

কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য কোম্পানির মোবাইলে ওয়ারেন্টি দেয়া হয়। কিন্তু নোকিয়ার বাটন মোবাইলে এক বছরের গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে মোবাইলের কিছু হলে গ্রাহক সেটি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। এক বছরের বেশি হলে নিজ খরচে অন্য জায়গা থেকে সেরে নিতে হবে।

নোকিয়ার কাস্টমার কেয়ার তো বাটন মোবাইলের কোনো সার্ভিস দেয় না- এমন প্রশ্ন করলে বিক্রেতারা বলেন, কে বলছে এ কথা? আপনি টাকা দিলেই কাস্টমার কেয়ার থেকে মোবাইল সেরে দেবে।

মোবাইল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়া মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যে দোকান থেকে ফোন কেনা সেই দোকানে যোগাযোগ করলে বলে কাস্টমার কেয়ারে গেলে মোবাইল ঠিক করে দেবে অথবা লোকালে কোথাও ঠিক করে নিতে হবে।

এরপর নোকিয়ার গুলশান ও বসুন্ধরার কাস্টমার কেয়ারে গেলে দু’জায়গা থেকেই জানানো হয়, কাস্টমার কেয়ার থেকে বাটন মোবাইলের কোনো সার্ভিস দেয়া হয় না। গুলিস্থান অথবা অন্য কোনো সাধারণ সার্ভিস সেন্টার থেকে মোবাইল সেরে নিতে হবে।

মোবাইল নষ্ট হলে, সেই মোবাইল আর ঠিক করা যাবে না। এটা আবার কেমন নিয়ম! কোম্পানি যে মোবাইলের সার্ভিস দিতে পারে না, সেই মোবাইল কেন বাজারে রাখবে? একজন মানুষ কি এক বছরের জন্য ফোন কেনে? আর কম দামে বাটন মোবাইল কারা কেনে? যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তারাই সাধারণ এ মোবাইল কেনে। বছর বছর নতুন মোবাইল কেনা কি সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব? এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন এক বাটন ফোন ব্যবহারকারী গ্রাহক।

বাটন মোবাইল কেনার এক বছর পর গ্রাহকদের কোনো সার্ভিস না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে নোকিয়ার জোনাল সেলস ম্যানেজার মো. তারেক বলেন, ‘আমরা বাটন মোবাইলে এক বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছি। এক বছরের মধ্যে কিছু হলে গ্রাহককে মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে দেয়া হয়।’

‘তাহলে কি আপনাদের মোবাইলের মেয়াদ এক বছর’- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এক বছরের জন্য নয়। এক বছরে আপনি ফুল রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি পাবেন। এক বছর পর নিজ খরচে সেরে নিতে হবে।’

আপনাদের কাস্টমার কেয়ার থেকে তো কোনো সার্ভিস দেয়া হয় না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিস্টেমটা আসলে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। ফিচার ফোনগুলো সাধারণত গ্রাহক কেনেন আশপাশের দোকান থেকে। তাই দূরের কাস্টমার কেয়ারে না গিয়ে, যে দোকান থেকে কেনা সেখান থেকেই গ্রাহকের রিপ্লেসমেন্টের ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এটা করা।’

ঢা/এমআই

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )