বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষায় ড. ইমরান এইচ সরকার’রা (ভিডিও) 

  •  
  •  
  •  
  •  

নুরুল আমিন হাসান : রাজধানীতে বিনামূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষ, সাধারণ মানুষ, ভাসমান মানুষদের করোনা ভাইরাসের পরিক্ষা ও তাদের মাঝে সচেতনাতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছেন ড. ইমরান এইচ সরকারসহ এক দল তরুণ চিকিৎসক। সেই সাথে অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।

উত্তরার আব্দুল্লার বেড়িবাধ এলাকায় বৃহস্পতিবার ( ০৯ এপ্রিল) ড. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে এমন কার্যক্রম করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আয়ের মানুষ, সাধারণ মানুষ, ভাসমান মানুষসহ যারা করোনা ভাইরাসে প্রাথমিক পরিক্ষা করার জন্য লাইনে দাড়িয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাদেরকে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়ে যাত্রী স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। সেই সাথে তাদেরকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনা তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখ্যপাত্র ও ব্লগার ড. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত ভাবেই উদ্যেগ নিয়েই আমরা সাধারণ ডাক্তাররা প্রস্তুতি নিয়ে মেডিকেল টিম নিয়ে বের হয়েছি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমরা পরিক্ষা করছি। ইতিমধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় হাজার খানেক মানুষকে আমরা পরিক্ষা করে ফেলেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দিন ব্যাপী মানুষের জ্বর তাপমাত্রা নিচ্ছি। যাদের জ্বরের হিট্রি নিচ্ছি। তাদের মধ্যে যাদের অন্যান্য সমস্য আছে (যেমন- শ্বাসকষ্ট বা কাশি) তাদের আরো ভালো করে হিস্ট্রি নিচ্ছি। হিস্ট্রি নিয়ে যদি মনে করি, তার করোনা পরিক্ষা করবার দরকার আছে। সেক্ষেত্রে আমরা আইইডিসিআর এর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। যাতে আইইডিসিআর এ স্যাম্পল নিয়ে করোন পরিক্ষা করতে পারে।

‘অন্যান্য যারা সাধারণ রোগী যারা কোথাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অপরিদিকে সাধারণ রোগের ঔষুধদের জন্য বের হতে হয়। আমরা চেষ্টা করি সে ঔষুধগুলো তাদের দিয়ে দিতে। সেই সাথে সাধারণ চিকিৎসাগুলো তাদের করিয়ে দিতে। যেন তাদের বাহিরে না থাকতে হয়’ বলেও জানান তিনি।

ইমরান বলেন, ‘যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের খাবার কেনার পাশাপাশি ঔষুধ কেনাও একটাও কঠিন ব্যাপার। আমরা যদি সে ঔষুধ দিয়ে সহযোগীতা করতে পারি তাহলে তাদের জন্য হেল্প হয়। এইভাবেই আমাদের কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করছি’।

‘আমরা চেষ্টা করছি একাধিক মেডিকেল টিম ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় নামাতে। কারণ, ইতিমধ্যেই কমিউনিটি সংক্রমণ হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে’।

রাস্তায় বা নিম্ন আয়ের মানুষ যারা আছেন, যারা বিভিন্ন ধরণের কাজে ব্যস্ত (যেমন- পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিকিউরিটি গার্ড, গণমাধ্যম কর্মী) তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝঁকি আছে। আমরা রাস্তায় তাদেরকেও পরিক্ষার আওতায় নিয়ে আসছি। তাদের হিস্ট্রি নিচ্ছি, তাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ কি না তা দেখছি। দেখে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দিচ্ছি, প্রয়োজনীয় গাইড লাইন দিচ্ছি। একই সাথে সবাইকে সচেতন করার জন্য কাজ করছি। সবাইকে প্রাইমারী সচেতনতা বুঝিয়ে দিচ্ছি। তারা যেন ঘরে থাকে, বার বার হাত ধোয়, মাস্ক ছাড়া যেন বের না হয়, চলার ক্ষেত্রে দূরত্ব মেইনটেইন করে এসব সামগ্রিক বিষয় নিয়ে জনসচেতনতা তৈরী করাটাও আমাদের উদ্দেশ্য।

এ কার্যক্রমের উদ্দ্যেক্তাকে এবং কতজন ডাক্তার কাজ করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমি নিজেই এ উদ্যেগ নিয়েছি। এখানে আমাদের আরো অনেক ডাক্তার কাজ করছেন। ইতিমধ্যে দুটো মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর বাইরে আমরা আরো তিনটি মেডিকেল টিম নামাচ্ছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দিন ব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছি। প্রতিদিনই প্রায় ২/৩ শত রোগীকে স্ক্রিনিং করছি। যাদের দেখা যাচ্ছে নানান অসুবিধা আছে, তাদেরকে আমাদের অন্যান্য পরিক্ষা নিরীক্ষার উপকরণ আছে সেগুলো দিয়ে পরিক্ষা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আমরা বের করার চেষ্টা করছি, তার কতটা করোনার ঝুঁকি আছে। এতে কাউকে সন্দেহ হলেই তাকে আইসোলেশন করে পরিক্ষার আওতায় নিয়ে আসি’।

কার্যক্রমের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম নিম্ন আয়ের মানুষ, সাধারণ মানুষ, ভাষমান মানুষ, যারা কাজ করছে, যারা সার্ভিস দিচ্ছে এই মানুষগুলো খুবই অনিরাপদভাবে রাস্তায় আছে। তখন আমরা চিন্তা করলাম তাদের পক্ষে হাসপাতালে যাওয়া বা ডাক্তার খুঁজে বের করা কঠিন। আমরাই যদি তাদের কাছে গিয়ে পরিক্ষাটা করতে পারি, তাহলে তাদের উপকার হয়। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা নেমেছি’।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ‘ঢাকার বাহিরেও প্রস্তুতি চলছে।   পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই ডাক্তার রাস্তায় নামিয়ে ঘরে ঘরে, রাস্তায় ও পথ্যে ঘাটে যারা আছেন তাদেরকে পরিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কতদিন চলবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম তিন দিন যাবৎ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এর আগেও দিন পরিক্ষামূলকভাবে আমরা কাজ করেছি। যতদিন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।

এ পর্যন্ত কারো মাঝে করোনার লক্ষণ পাওয়া গেছে কি না? জানতে চাইলে ড. ইমরান বলেন, ‘বেশ কিছু রোগীর এমন টেম্পারেচার (তাপমাত্রা) পেয়েছি। তাদেরকে স্ক্রিনিং এর জন্য আইইডিসিআর এর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরের দাপটা তাদের কাছে। যখন কোন রোগীর করোনার সিমটম (লক্ষণ) পাওয়া যায়, তখন আর আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি না। তাদেরকে আমরা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসছি। তাদেরকে যেখানো করোনার চিকিৎসা হয় বা করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা হয় সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।

ঢা/ এনএএইচ/

 

এপ্রিল ১০, ২০২০ ১২:২০

(Visited 43 times, 1 visits today)