বিদ্যালয়ের মাঠ দখল

বিদ্যালয়ের মাঠ দখল
বিদ্যালয়ের মাঠ দখল
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে স্থায়ী দোকান ও হাট।

বিদ্যালয় চলাকালীন সপ্তাহে দুই দিন এই হাট বসায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। শিক্ষকদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৯২ শতক জমির ওপর ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ২৯৫ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক ও ১ জন নৈশ্যপ্রহরী রয়েছেন।

প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এ বিদ্যালয়-সংলগ্ন বিদ্যালয়ের মাঠেই তৈরি করেছেন স্থায়ী দোকান এবং বাণিজ্যিক হাট।
দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে দুই দিন সোম ও বৃহস্পতিবার এ হাটে বেচা-কেনা করে। হাটের দিন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন যানবহনে করে আসা কাঁচামাল বিদ্যালয়ের মাঠেই লোড-আনলোড করে।

এছাড়াও হাটের অস্থায়ী দোকানদাররা তরিতরকারিসহ বিভিন্ন মাল বিক্রয় করেন।

এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, হাটের দু’দিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে  দেয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজর নেই।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আরা জানান, সপ্তাহের সোম আর বৃহস্পতিবার স্কুলে যেতে মন চায় না। চারদিকের চিৎকার-চেঁচামেচি ও মাইকের শব্দে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না।

তিনি আরও জানান, সপ্তাহের অন্য দিন মাঠ ফাঁকা থাকলেও হাটের ময়লা-আবর্জনার পঁচা গন্ধে প্রতিদিনই ক্লাস করতে সমস্যা হয়, মাঠে খেলাধুলা করতেও কষ্ট হয়।

ইব্রাহিমপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক অভিভাবক জানান, শিশুরা তো লেখাপড়া-খেলাধুলার মধ্যে দিয়েই শিখবে।

স্কুলের মাঠ দখল করে দোকান তৈরি, বেঁচাকেনার জন্য নিয়মিত হাট বসানো এবং তা সরকারিভাবে ইজারার বন্দোবস্ত দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা জানা নেই আমার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর সমাধান মেলেনি আজও।

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসানো বন্ধ করা। জনকল্যাণে গুণগত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিছুর রহমান শেখ জানান, শিশুরা স্কুলে শুধুমাত্র লেখাপড়া করতে আসে না, খেলাধুলাও করতে আসে।

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে হাট অপসারণসহ বিদ্যালয়ের অন্য সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, বিষয়গুলো নিয়ে বহুবার আমরা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আমাদের সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি।

দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাকী সালাম মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ হতে হাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে, আশা রাখি দ্রুত সমাধান হবে।

ঢা/কেএস/আরকেএস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )