বিএনপি স্বর্ণলতার মতো আর আ’লীগ পোড় খাওয়া দল: প্রধানমন্ত্রী

  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক:  “বিএনপি স্বর্ণলতার মতো” মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি দেখতে সুন্দর কিন্তু শেকড় নেই। দেখতে হবে বিএনপির জন্ম কোথায়।

এসময় নিজের দল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পোড় খাওয়া দল। এই দলে সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী আছে বলে মনে করি না।

তিনি বলেন, কিছু লোক আসবে যাবে, এটা রাজনীতিতে স্বাভাবিক।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্রুনেই সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেই বিএনপির এক সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। এর আগেও জাতীয় ঐক্য মনোনীত একাধিক সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন।

এ নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে এবং সব মহলেই চলে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বিরোধীদের শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ কিংবা কোনো হাত আছে কী না এমন প্রশ্নকে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই।

বিরোধী দলগুলোর যারা শপথ নিয়েছেন, তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছেন।

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমানের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাপ দিতে যাবো কেন?

তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি।  জনগণের চাপ আছে তাদের ওপর। ’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল। অন্য কোনো দল থেকে তাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়।  কিন্তু তারা যেহেতু  এখনো আবেদন করেনি, তাই সে ব্যাপারে কীভাবে বলি?’

তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়াকে কিন্তু গ্রেফতার করিনি। খালেদা জিয়া কোর্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত।

আর মামলাটা আওয়ামী লীগ সরকারও করেনি। মামলাটি চলছে ১০ বছর ধরে।  কিন্তু সরকার কোর্টকে প্রভাবিত করেনি।

এসময় আরও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গণমাধ্যম সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো অনেকে চ্যানেল চাইছে। তথ্যমন্ত্রীর (ড. হাছান মাহমুদ) সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

বললাম যত চাইছে, দিয়ে দিতে। কিছু না হোক, কিছু লোকেরতো চাকরি হবে, কর্মসংস্থান হবে।

ছাপা পত্রিকার সামনে প্রযুক্তি যে বাস্তবতা দাঁড় করিয়েছে সেটা সংশ্লিষ্টদের মানতেই হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেবল বাংলাদেশে নয়, প্রযুক্তি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সেজন্য এক ধরনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকলে হবে না। আধুনিকতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে অনেক নামিদামি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পত্রিকা কেবল অনলাইন চলে এসেছে। ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের, সোজা কথা অনলাইনে চলে এসেছে।

এখন কাগজের ব্যবহার হয় না। প্রযুক্তি এবং আধুনিকতার প্রভাবে এভাবে বিবর্তন আসতে থাকবে। তাই বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সবকিছু ডিজিটালাইজড করে দিয়েছি, স্যাটেলাইটও হয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও টিভি চালানো যায়।

তিন মাসের জন্য বিনা পয়সায় (টিভি চ্যানেল) চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো সেভাবে নিচ্ছে না।

অথচ বিদেশি জায়গায় অনেক টাকা দিচ্ছে। কিভাবে আমাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অল্প খরচে টেলিভিশন চালাতে পারে সেজন্য কথা চলছে।

‘আর ভালো অনুষ্ঠান যারা করবে, মানুষ তাদের দেখবে। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সুতরাং গ্রাহক কখনো কমবে না’- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে সরকারের যা করণীয়, তা সরকার করেছে।

বাকিটা মালিকপক্ষের, সেখান থেকে সাংবাদিকরা যা আদায় করে নিতে পারেন, সেটা তাদের ব্যাপার।

উল্লেখ্য, ব্রুনাইয়ের সুলতানের আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ব্রুনাই সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফর শেষে গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দেশে ফিরে আসেন।

ব্রুনাই সফর নিয়ে শুক্রবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢা/এমআই

এপ্রিল ২৬, ২০১৯ ৭:৪১

(Visited 2 times, 1 visits today)