বাইডেনই হচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

বাইডেনই হচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট
  •  
  •  
  •  
  •  

শফিকুল আলম: আসন্ন ইউএস ইলেকশন জরীপ বলছে জো বাইডেন হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

জো বাইডেন ইউএস ইলেকশনকে প্রতিদিন তাঁর অনুকুলে বিজয় অনেকটা দৃঢ় করছেন যা’ হয়তো সহজেই তাঁকে হোয়াইট হাউজে নিয়ে যেতে সক্ষম করবে। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে এবং বাইডেন জিতে যেতে পারেন বা জিতবেন এমনটি শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু আজকের বিবেচনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রাম্পের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ২০১৬ সালের ভুল জরীপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জরীপকারীরা মাথায় রেখেই বলছেন যে বাইডেনই হচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

আমরা হয়তো অভ্যস্ত রয়েছি যে ট্রাম্প প্রশাসনে নানান খবর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রচারিত হয় এবং নতুন নতুন খবর তৈরী হয়। গত সপ্তাহে আমরা ট্রাম্পের করোনাক্রান্ত হওয়া, করোনামুক্ত হওয়া ইত্যাদি খবরগুলোও বেশ দ্রুত ঘটতে দেখলাম।

সুপ্রিমকার্ট জাস্টিস রুথ বেডার জিনসবার্গের মৃত্যু, তাঁর স্থলে বিচারপতি নিয়োগদান, ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন, প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট, ট্রাম্পের কোভিড আক্রান্ত হওয়া সব মিলে নির্বাচনী জরীপে বড় ধরনের একটি নেতিবাচক ফলাফল অব্যাহতভাবে ট্রাম্পকে নির্বাচনে পরাজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

Dr Grgic বলেন, “আমরা দেখছি ট্রাম্প করোনাভাইরাস প্যানডেমিক কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সিংহাসনত্যাগী হতে যাচ্ছেন এবং এটাই হচ্ছে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন।”

তিনি বলেন, “ট্রাম্প করোনাভাইরাস প্যানডেমিক অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছেন এবং করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি যা’ যা’ করেছেন যেকোনো পাবলিক হেলথ এক্সপার্ট তা’ না করতে বলতেন।”

“তিনি আরও বলেন, “ আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবেনা যে গত দু’সপ্তাহে যে গ্যাপ তৈরী হয়েছে সেই গ্যাপ ক্রমশ: বৃদ্ধি পাবে এবং অধিকহারে বয়স্ক ভোটার জো বাইডেনের দিকে অব্যাহতভাবে ঝুঁকবে।”

দৃশ্যত: মি: ট্রাম্প ইনফেকশন মুক্ত। বিশেষজ্ঞগন মনে করেন যে বিষয়গুলোতে বিতর্ক রয়েছে সে বিষয়ে তাঁর আলোচনা করা উচিত নয়। যেসব বিষয়ে তাঁর সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেসব বিষয়ে বেশি কথা বলা উচিত। তা’হলে হয়তো নির্বাচন তাঁর অনুকুলে ফিরে আসতে পারে। যদিও সকল ভার্চুয়াল পূর্বানুমান রিপাবলিকানদের জন্য একটি মারাত্মক পরাজয় চিত্র চিত্রন করে। আবার নির্বাচনটিও একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অবশ্য সকল পূর্বানুমান তখনই সত্য হবে যখন নির্বাচন ফ্রি এবং ফেয়ার হবে এবং আদালতের কোনো ইন্টারভেনশন থাকবেনা। মার্কিন আদালতগুলো এই মুহূর্তে ভোটিং মেকানিক্স ২০২০ কি রকম হবে তা’ নির্ধারনে কাজ করছে। যদি ভোটিং রুলস্ যথাযথভাবে সেটলড না হয় তবে সকল পূর্বানুমানের মধ্যে এক ফোঁটা লবনযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় তা’ হচ্ছে ট্রাম্পের উৎসাহী সাপোর্টারদের উৎসাহের কমতি নেই। ডেমোক্র্যাট শিবিরে এতো উৎসাহী সাপোর্টারদের উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়না। ট্রাম্প সাপোর্টার এবং ভোটাররা তাঁকে পূন:নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট কাষ্ট করতে বেশ আগ্রহী; যেটি ডেমোক্র্যাট শিবিরে লক্ষ্য করা যায়না। জরীপের ফলাফল গ্যাপে যেমন বাইডেন এগিয়ে; উৎসাহের গ্যাপে ততোটাই পিছিয়ে। অবশ্য বাইডেন নিজেও অনেকটা নীরবতা পছন্দ করেন বলে মনে হচ্ছে। জো বাইডেন নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য প্রথম থেকেই এ রকম।

দ্বিতীয় টার্মে কোনো প্রেসিডেন্ট পূন: নির্বাচিত হবেন কি-না তা’ মূল্যায়নের জন্য ১৯৮০ সালের পর থেকে একটি প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, “Are you better off today than you were four years before?” এই প্রশ্নটি প্রথম করেছিলেন রোনাল্ড রিগান তাঁর দ্বিতীয় টার্মের নির্বাচনী রেলীতে। তারপর থেকে প্রেসিডেন্টদের পারফর্মেন্সর মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্নটি।

Gallup poll মাসিক জরীপ করে থাকে। তিনটি বিষয়ের ওপর সেপ্টেম্বর মাসের ফলাফল হচ্ছে: প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কতোটা যোগ্যতার সাথে কাজ করেছেন-44% ট্রাম্পের এ্যাপ্রুভাল রয়েছে।
আমেরিকানরা ট্রাম্পের কাজে কতোটা সন্তুষ্ট- 14% মানুষ সন্তুষ্ট।

ট্রাম্পের ওপর ইকোনোমিক ম্যানেজমেন্টে মানুষের কতোটা কনফিডেন্স রয়েছে- (-10%) মাইনাস দশ শতাংশ মানুষের কনফিডেন্স রয়েছে, অর্থাৎ কারোরই কোনো আস্থা নেই।

অথচ করোনা প্যানডেমিকের পূর্বে একই প্রশ্নের উত্তরে 56% মানুষ বলতেন তারা চার বছর আগের থেকে অনেক ভালো রয়েছেন। এটি বিগত সকল প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিলো। কিন্তু তাঁকে দ্বিতীয় বার নির্বাচনে আমেরিকার জনগন আগ্রহী নয়। ট্রাম্প চার বছর পরে জনগনকে যদি ভালোও রাখেন তারপরও আমেরিকার জনগনের রাজনৈতিক স্বাভাবিকতার প্রচন্ড আকুলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ট্রাম্পকে স্বাভাবিক রাজনীতিকের সাথে তারা মেলাতে পারেননা। তারপরও কোনো অজানা কারনে আমেরিকার জনগনের এক তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের ডাইহার্ড সাপোর্টার রয়েছে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

অক্টোবর ১৭, ২০২০ ৭:০২

(Visited 80 times, 1 visits today)