‘ফেসবুক’ দ্বিতীয় পত্র; শেষ পর্ব

'ফেসবুক' দ্বিতীয় পত্র; Photo Source : Pinterest
  •  
  •  
  •  
  •  

আগের পর্বের পরঃ

৪ – নিচের লাইনগুলোর ভাবসম্প্রসারন লিখ

কাঁটা হেরি ক্ষান্ত
কেন কমল তুলিতে
ফেসবুক বিনা সুখ লাভ
হয় কি মহীতে?

উত্তর – ফেসবুকে অনায়াসে লব্ধ জিনিসের চেয়ে কষ্ট করিয়া প্রাপ্ত কিছুর মূল্য অধিক। প্রকৃত সুখ সেই ডিজিটাল নাগরিক পেয়ে থাকেন যিনি ফেসবুকের কঠিন বাস্তবতার পথ পাড়ি দিয়ে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আহোরণ করিয়াছেন (যাহারা এই ফেসবুকে সিলি-ব্রিটি হইয়া উচ্চে অবস্থান করিতেছেন এবং হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতোন হাজার হাজার অনুসারী লইয়া ঘুরিতেছেন)।

আগের পর্ব পড়ুন..

ফেসবুকের এই ডিজিটাল জীবনে গলা ধাক্কা (ব্লক), চপেটাঘাত (সাময়িক ব্লক কিংবা মিউট), খোলা মাঠে বস্ত্রহরণ (বিভিন্ন পোস্টে করা কমেন্টের উপর অন্য কেহ অতি মাতব্বরি করিয়া যখন নাস্তানাবুদ করিয়া থাকে বা Add Me আবালের অত্যাচারে শান্তিতে ফেসবুকের ময়দানে ঘুরিতে না পারে, ইত্যাদি),

কমেন্টে কমেন্টে ঝগড়া, জি-লাচ্ছির (জিলাস) কারণে ঘন ঘন কটু উক্তির অত্যাচার, ডিজিটাল বন্ধু তালিকায় যুক্ত হইয়া নীরব CCTV বন্ধু হইয়া যাবতীয় কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ, ইত্যাকার কারণে অনেকেই দীর্ঘ ও কষ্টদায়ক পথ অতিক্রম করিয়া থাকে।

তাহাদের টাইম লাইন ঘুরিয়া আসিলেই এইসব তিক্ত করল্লা অভিজ্ঞতার খুঁটিনাটি অনেক সময়ই খুঁজিয়া পাওয়া যায়। তবে সুন্দরী ডিজিটাল নাগরিকরা তাহাদের রূপের কারণে কষ্ট না করিয়াই সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আহোরণ করিতে পারেন। এই সুখে শান্তি নাই, বরঞ্চ উৎকণ্ঠা অধিক।

তাহারা Add Me আবালদের অত্যাচার, গোপন বক্সে ঢিল ছুড়িয়া চিরকুট পাঠানো দলের অনবরত জ্বালাময়ী অত্যাচার সহ্য করিয়া সিলি-ব্রিটি হইয়াছেন। Add Me আবালদের অনুরোধ যখন তাহার ডিজিটাল লেজে ঝুলিয়া থাকে তখন তাহা – হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পেছনের গুচ্ছের মতো দেখা যায় যাহাদের ফলোয়ার নামে আখ্যা দেয়া হইয়াছে।

ইহাদের কেহ কেহ আবার জি-লাচ্ছি (জিলাস) ভণ্ড (যাহারা সতি-সন্যাসীদের মতো বক্তব্য দিয়া বেড়াইবেন তাহাদের টাইম লাইনে অথচ অন্য অনেকের লেজে পাড়া দিয়া বেড়াইবেন গোপনে তাহাদের দুষ্টু শিষ্যের সাহায্য লইয়া) ডিজিটাল সদস্যদের মাধ্যমে অত্যাধিক লাঞ্ছিত হইয়া থাকেন।

প্রথম পর্ব পড়ুন..

এছাড়া তাহারা Add Me আবাল, ডিজিটাল ইভ-টিজার দুষ্টু গরু/ছাগল, চপেটাঘাত প্রাপ্তি, ঠাডা মারা চপেটাঘাত (ব্লক) ইত্যাকার ধরণের সেইরাম বিকট কাঁটা হেরিয়া ক্ষান্ত না হইয়া ফেসবুকের কমল তুলিয়াছেন, তাই তাহারা আজ মহীতে আছেন, অর্থাৎ সর্বোচ্চ শিখরে আছেন।

* টিকা – ১যেহেতু উপরের কাব্যের ভাবসম্প্রসারন হইয়াছে তাই “ফেসবুকিং একটি ভয়ানক ব্যাধি” প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন নেই কারণ ইহা প্রশ্নপত্রে “অথবা” হিসাবে লেখা আছে।
* টিকা – ২ অতি উৎসাহীরা যোগাযোগ করিলে জানাইয়া বাধিত করিতে পারি এই ব্যাধির ভাবসম্প্রসারন।

৫ – ফেসবুকে প্রেমের প্ররোচনায় ধোঁকা থেকে মুক্তি পাবার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট একটি প্রতিবেদন লিখ।

উত্তর – জনাব ফেসবুক জেলা প্রশাসক,

জনাবের নিকট অধম প্রেমময়ীর নিবেদন এই যে, আমাকে ডিজিটাল ধোঁকা হইতে রক্ষা করিবার জন্য সাহায্য প্রদান করিয়া আমাকে বাধিত করিবেন। আমি এই ফেসবুকের একজন বিশিষ্ট ডিজিটাল তথ্য ব্যবসায়ী। তথ্য ব্যবসায়ের প্রয়োজনে অদ্যাবধি ফেসবুক জেলার বিভিধ Add Me আবালের বন্ধু অনুরোধ গ্রহণ করিয়াছিলাম। এইসব আবালদের কাছ হইতে ডিজিটাল প্রেমের নানান অভিনব ধোঁকার সম্মুখীন হইয়াছি।

কেহ মিথ্যাচারে আমার গোপন বাক্সে ফুলেল শুভেচ্ছার বন্যা আনিয়া, কেহ দুষ্টু ও নষ্ট কথার ফুলঝুরি ছড়াইয়া, কেহ ডিজিটাল মন লইয়া দড়ি টানাটানি খেলিবার মতোন টান টান করিয়া হঠাৎ করিয়া ছাড়িয়া দিয়া। কেহ “নদীর কুলকুল” বা কেহ “চাঁদের আলো” বা কেহ “রসের ডিব্বা” ইত্যাকার ডিজিটাল নাম লইয়া আসিয়া ডিজটাল প্রেমের বন্যায় ভাসাইবার পাঁয়তারা কষিয়া আমাকে বিব্রত করিতেছে।

অতঃপর জনাবের নিকট সংক্ষিপ্ত এই প্রতিবেদন সাপেক্ষে অনুরোধ জানাইতেছি যে, জনাব এই সকল ডিজিটাল প্রেমের প্ররোচনা হইতে আমাকে সহ এই ফেসবুক জেলার সকল প্রেমময়ী নাগরিকের ভবিষ্যৎ রক্ষা করিবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সকল দুষ্টু ও নষ্ট প্রেম প্রতারককে ডাণ্ডা ও ঠাডা মারা ব্লকের মাধ্যমে ডিজিটাল জেলহাজতে স্থানান্তর করেন।

ইতি,

একজন ডিজিটাল প্রেম প্রতারিত ডিজিটাল শিক্ষিকা।

(যিনি এই প্রশ্ন সাময়িক পরীক্ষার জন্য সনাক্ত করিয়াছেন, নিজের অভিজ্ঞতার কষ্ট হইতে তিনি এই প্রশ্ন করিয়াছেন যেন তাহার পক্ষ লইয়া ছাত্রছাত্রীরা সঠিক প্রতিবেদন লিখিয়া দেয় এবং তিনি তাহা কপি পেস্ট করিয়া প্রশাসকের কাছে পাঠাইয়া নীচে – সংগৃহীত লিখিয়া পাঠাইয়া দিতে পারেন)।

আগের পর্ব পড়ুন..

৬ – পত্র লিখ : ধরো, তোমার নেট প্যাকেজ শেষ হইয়াছে, তুমি ফেসবুকে ঢুকতে পারিতেছ না। এমতাবস্থায় মেগাবাইট কেনার জন্য টাকা চাহিয়া তোমার পিতার নিকট একটি পত্র লিখ।

(অরিজিনাল প্রশ্নে ভাষাগত সমস্যা থাকায় কিছুটা পরিবর্তন করিয়া লইয়াছি)

উত্তর – সুপ্রিয় পিতা, বিভিধ দুষ্ট প্রকৃতির ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনার প্রিয় পুত্রের ইন্টারনেট মেগাবাইটে ঘাটতি হইয়াছে বিধায় অদ্য সন্ধ্যায় আমি প্রিয় মাতাকে ভিডিও কলে কথা বলিতে পারি নাই। আমাদের মাতা-পুত্রের কথোপকথনের বাক্যবাণ শুনিয়া আপনি যে নিয়মিত হাস্যরসের উপাদান পাইয়া সুস্থ থাকিতে পারেন তাহা আজ সম্ভব হইতেছে না যদি আপনি অনতিবিলম্বে আমার মোবাইলে কিছু অর্থ বিকাশ করিয়া না পাঠান কিংবা কয়েক হাজার মেগাবাইট ক্রয় করিয়া আমাকে পাঠাইয়া না দিতে পারেন।

মেগাবাইট ক্রয়ের পরেই আমি ভিডিও কল করিতে পারিব। আপনার অজানা নেই যে দুষ্ট চক্রের বিভিন্ন কোম্পানী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, ইত্যাদির কথা বলিয়া দ্রুত লয়ে আমাদের মেগাবাইট লবণ মাখাইয়া কাঁচা চাবাইয়া খাইয়া ফেলে। যদি অর্থ বা মেগাবাইটে প্রেরণ না করেন, তাহলে আপনার নিকট বিশেষ অনুরোধ, মাতাকে বলিবেন যেন তিনি দুশ্চিন্তা না করে। তাহাকে সুস্থ রাখিতে আমার এই ভিডিও কল প্রয়োজন কিন্তু মেগাবাইটের অভাবে তাহা সম্ভব হইতেছে না।

নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখিবেন। মেগাবাইটের ঘাটতি পূরণ হওয়া মাত্র কল করিবার অপেক্ষায়,

আপনার সুপ্রিয় ডিজিটাল পুত্র

৭ – একটি সংক্ষিপ্ত রচনা লিখ (যে কোনও একটি) :

(ক) একজন সেলিব্রেটির আত্নকাহিনী
(খ) ফেসবুকীয় প্রেম
(গ) হ্যাকিং সমস্যা এবং তার প্রতিকার…!!!

উত্তর – হ্যাকিং সমস্যা এবং তার প্রতিকার:

বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেউ কাহারও একাউন্টে সিঁধ কাটিয়া ঢুকিয়া যাইবার ব্যবস্থাকে হ্যাকিং বলা হয়। এই হ্যাকিং এর কারণে শান্তিতে বসবাস করা অনুপযুক্ত হইতেছে। এই বিষয়ের প্রতিকার লইয়া রচনা সাধারণত প্রাচীন পদ্ধতির মতোন অতি বড় না হইয়া, ছোট হইবে। ইহাই ডিজিটাল রচনার তেলসমাতি।

স্বীয় ফেসবুক প্রোফাইলের সেটিংস অংশে যাইয়া, দুই ধাপের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে জাগাইয়া দিতে হইবে। এই পদ্ধতিতে কেহ যদি ফেসবুকের ঘরের চাবি চাহিয়া টানাটানি করিতে থাকে তাহা হইলে তৎক্ষণাৎ মোবাইলে একখানা পত্র আসিবে। সেই পত্রে বিশেষ কিছু সংখ্যা লেখা হইবে যাহা চাবি খুলিবার কাজে লাগিবে।

প্রথম পর্ব পড়ুন..

যেহেতু ডিজিটাল সিঁধ কাটা পার্টি এই চাবির খবর তাহার মোবাইলে পাইবে না সুতরাং সে যদি তাহার ইমেইল বসাইয়া সিঁধ কাটার কাজ করে তাহা হইলে লাভ হইবে না। এই পত্রে আরও উল্লেখ থাকিবে যদি আপনি আপনার ঘরের ভিত্তি ও তালা সিমেন্ট দিয়া বাধাইতে চাহেন তাহা হইলে নিচের লিঙ্কে প্রবেশ করিয়া কতৃপক্ষকে জানাইয়া দিতে পারেন যে-

পরবর্তীতে – হাম একলা মে কামরে মে, চাবি খো গায়া – একাউন্ট এর মালিক হিসাবে আপনাকে সনাক্ত করিয়া রাখে। এই পদ্ধতির অনুসরণ করিলে, কোনও ডিজিটাল বাপের-ব্যাটা থাকিবে না যে সিঁধ কাটা কর্মকান্ড করিতে পারিবে আপনার প্রোফাইলে ঢুকিবার প্রয়াসে। ইহাদের দেখিবা মাত্র কতৃপক্ষ ব্যাপক বাঁশি ফুঁকিয়া ইহাদের তাড়াইয়া দিবে।

[সমাপ্ত, আলী আহসান; ১৮/০৬/২০২০]

আলী আহসান প্রিন্স
আলী আহসান প্রিন্স

লেখক পরিচিতিঃ ইউকে প্রবাসী বাংলাদেশী; তিনি পেশায় ম্যাকলারেন রেসিং কোম্পানীতে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট অফ বিজনেস টেকনোলোজি হিসাবে কর্মরত আছেন।
[ঢা-এফএ]

জুন ২৯, ২০২০ ১০:৪৭

(Visited 31 times, 1 visits today)