‘ফেসবুক’ দ্বিতীয় পত্র; পর্ব-১

Photo source: Pinterest

প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ২০২০
ফেসবুক হাই স্কুল এন্ড কলেজ (ফেহাক)
বিষয় – ফেসবুক ২য় পত্র
পূর্ণমান – ১০০

১ – শব্দার্থ লিখঃ Tag, Notification, Comment, Poke, Group, Subscriber

উত্তর:
Tag – যে কোনও পুষ্টিং এর মধ্যে চিক্কুর পাড়িয়া কাউকে তাহার নাম ধইরা টাইনা আনা

Notification – নিশ্চয় কেউ কিছু করিয়াছে, সেই ব্যাপারে ডিজিটাল পোষ্টম্যান লাল জামা পিন্দা আসিয়াছে

Comment – মনের মধ্যে যা ফাল দিয়াছে তাহা টানিয়া বাইর করিয়া বানান করিয়া লিখিত জমা দেয়া

Poke – যাহাকে মন চায় তাহাকে ডিজিটাল গুঁতা দেয়া (লাল জামা পিন্দা পোষ্টম্যান আসিয়া তাহা জানান দেয়)

Group – ফেহাকের (ফেসবুকের স্কুলের) পেছনের বাগানের ঘেরা বাগানে বসিয়া সংসার, কর্ম সবকিছু ফাঁকি দিয়া গুলতানি মারিবার স্থান। এইখানে যাবতীয় Tag, Notification, ইত্যাদি কর্মমান্ড সম্পন্ন করা যায়। বিশেষ সাবধানতার জন্য বাহিরে তালা ঝুলাইয়া দেয়ার ব্যবস্থা আছে যাহাতে যে অনাহুত কেহ এইখানে হান্দাইতে না পারে। বেয়াদ্দপি করিলে ঘাড় ধাক্কা দিয়া এখান হইতে বাহিরা করিয়া দেবার ব্যবস্থাও আছে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী হিসাবে ডিজিটাল মনিটরদের আনাগোনা থাকে। রক্ষাকারীদের কেহ কেহ ভুল করিয়া কাউকে ধাক্কা মারিয়া বাহির করিয়া দিতে পারে। দুষ্টু দলের কেহ যদি অহেতুক ঝামেলা বাধাইতে চেষ্টা করে তাহা হইলেও আইন রক্ষাকারীরা বাগান হইতে তাহাকে টুকুস করিয়া ধাক্কা মারিয়া বাহির করিয়া দিতে পারে।

প্রায়ই আইন রক্ষাকারী মনিটররা লাইভ বিনোদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করিয়া পিকনিক ভাব আনিয়া নিজেরাই নাচিয়া কুদিয়া হাসিয়া ঢলিয়া সদস্যদের আনন্দ উপহার দিতে উদ্যত হইয়া থাকে।

Subscriber – নিয়মিত ডিজিটাল কর্মকান্ড, ক্লাস, শিক্ষনীয় বক্তব্য, লাইভ আচার অনুষ্ঠান, ইত্যাদি দেখিবার ইচ্ছা পোষণ করিয়া নাম লিখিয়া রাখিবার পদ্ধতিকে Subscriber বলা হইয়া থাকে। যে ক্লাসের বা বিষয়ের জন্য নাম লিখিয়া রাখা হয় সেইখানে যাহা ঘটিবে তাহা লাল জামা পিন্দিয়া নোটিফিকেশান পোষ্টম্যান আসিয়া জানাইয়া যাইবে। পোষ্টম্যানের হাত ধরিয়া Subscribed ক্লাসে বা অনুষ্ঠান কক্ষে প্রবেশ করা যাইবে।

২ – পূর্ণরূপ লিখ LOL, OMG, HBD, WTF, ILU

উত্তর:
LOL – হাসিতে হাসিতে গড়াইয়া পড়িয়া লুলা হইয়া যাওয়া, যাহা ডিজিটাল সংস্কৃত ভাষায় “লুল রে লুল” বলিয়া খ্যাত
OMG – ওরে আমার আল্লাহ রে – বলিয়া আবেগের ঝুড়ি ঝাড়িয়া দিবার জন্য চিক্কুর পাড়িয়া লেখা OMG
HBD – ওরে খোকা, ওরে খুকি – আজ তোমার শুভ জন্মদিন – এটাকে কাটিয়া ছাঁটিয়া ছোট্ট বানাইয়া জন্মের সময়ের মতো ছোট্ট সাইজে আনা এক শুভেচ্ছা বার্তা, সংক্ষেপে HBD
WTF – আসল উত্তর বলিতে শরম লাগে! তবে ইহাকে কেহ বলিয়া থাকে – ফইরনি কয় কি? (What The Foirni)
* [টিকা এইখানে বাংলা সিনেমার নাম করণের পদ্ধতি অনুসরণ করা হইয়াছে, যেমন – ভালোবাসা – সিনেমার ইংরেজি The Heart is on Fire, তোমাকে চাই এর ইংরেজি You are Wanted, ছায়াছন্দ – Shadow is Dancing – এই রকম নামকরণ পদ্ধতি )
ILU – আঁই তোঁয়ারে পিয়ার করিচ্চি (তওবা তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ – ইতা শরমের কতা) – ইহা সংক্ষেপে বলিয়া দেয়া। হিন্দিমে অথবা বাংলামে অনেকেই ইহাকে ইলু ইলু বলিয়া থাকে।

৩(ক) – সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ফেসবুকের ভুমিকা বর্ণনা

উত্তর: আঙুলের ঘনঘন চাপাচাপির মাধ্যমে মোবাইল বা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে বা আই-প্যাডে বা অন্য যে কোনও ডিজিটাল বুকে (ক্রোমবুক) অতি সহজ পদ্ধতিতে আরাম কেদারায় বসিয়া কিংবা পাটি পাতিয়া চিৎপটাং হইয়া কিংবা নৌকার গলুইতে কাত হইয়া বসিয়া কিংবা নরম বিছানায় ডুবিয়া যাইয়া চক্ষু আধো আধো খুলিয়া অথবা ডাগর ডাগর চউক্ষে চাহিয়া – ইত্যাকারভাবে তাবৎ দুনিয়ার সাথে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক এক অতুলনীয় ভুমিকা পালন করিয়াছে।

সামাজিক মাধ্যম নাম হইলেও অসামাজিক কার্যকলাপের বা আচরণের জন্যও ইহা সুনাম ও দুর্নাম দুইই অর্জন করিয়াছে। যে কোনও ধরণের সংবাদ, সত্য এবং মিথ্যা এই মাধ্যম দ্রুত দাবানলের মতো ছড়াইয়া দেয়ার ক্ষমতা রাখে। ইহা প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ছাপাখানা হিসাবেই কাজ করে।

ঘরের, বাইরের, নিজের, অন্যের যাবতীয় খবরা খবর, বিনোদন অনুষ্ঠান (গান, নাটক, কৌতুক, নাচ, আবৃত্তি, কবিতা ও সাহিত্য চর্চা, রম্য ঘটনার বিবরণ, ইত্যাদি), আলোচনা, ভালোচনা, ঝগড়া, ফ্যাসাদ, দল বেঁধে ছবিসহ লাইভ আড্ডা, শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা, যে কোনও শ্রেণীকক্ষের জন্য ক্লাস, পণ্য ও ব্যবসায়ের বিজ্ঞাপন, আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, লাইভ অপারেশান, ইন্টার্ভিউ, সিলি-বৃটিদের নানান রঙ্গ ও ঘটনা, রান্নার ক্লাস, ধর্ম ক্লাস, হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির ক্লাস, আমি কী খাইয়াছি, সে কী খাইয়াছে,

কে কবে কী খাইয়াছে, কী খাইবে, ভ্রমণ, সাজিয়া গুজিয়া আলোকচিত্রের বন্যা, পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনাচক্র ছবি ও ভিডিও সহ, বাগানের ছবি, ছাদের ছবি, বারান্দার ছবি, বৃষ্টিতে ভেজার আহ্বান, কোকিলের গান, পাখির কলতান, এলো চুলের বক্র চাহনির আলোকচিত্র, হেন কোনও বিষয়বস্তু নেই যাহা এই সামাজিক মাধ্যমে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না। জীবন ও জনপদের যাবতীয় সবকিছুই এই মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বের দুয়ারে দুয়ারে ছড়াইয়া বিশ্বকে চাঙ্গা করিয়া রাখিয়াছে ফেসবুক।

৩(খ) – একজন Add Me আবাল এর দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা কর

উত্তর: Add Me একটি আশ্চর্য বোতাম যাহা ফেসবুকের স্কুলে ইথারে ইথারে ভাসিয়া বেড়ায়। তবে অনেকেই এই বোতামে জামা কাপড় পরাইয়া ঢাকিয়া রাখিতে পারে। তবে একজন Add Me আবাল (তওবা, তওবা, এখানে বুদ্ধিহীন জ্ঞানী হিসাবে এই শব্দের ব্যবহার হইয়াছে, এবং প্রশ্নপত্রে এভাবেই লেখা হইয়াছে) কাউকেই না চিনিয়া খুঁজিয়া খুঁজিয়া সুন্দর সুরত পরিদর্শন সাপেক্ষে এই বোতামে চাপিয়া বেড়ায়।

তাহারা নিদ্রাভঙ্গের পরবর্তী মুহূর্ত হইতে শুরু করিয়া নিদ্রাযাপনের অন্তর্বতীকালীন সম্পুর্ণ সময় এই বোতামের ব্যবহারে ন্যস্ত থাকে। কেহ কেহ বোতাম চাপিয়া দেবার পর অপরপ্রান্তের সাড়া না পাইয়া নিমন্ত্রণ বাতিল করিয়া নতুন করিয়া বোতাম চাপিয়া দেয়। প্রয়োজনে লাগাতার বোতাম চাপিতে থাকে। কোনও কিছুতেই কার্য সমাধা না হইলে, মুহূর্তেই বন্দুক লইয়া হাজির হইয়া পড়েন অপর প্রান্তের ডিজিটাল নাগরিকের গোপন বাক্সের মাধ্যমে, তাহার কাছে কৈফিয়ত তলবের জন্য এবং তাহাকে গ্রহণ না করিবার কারণ দর্শাইতে হইবে বলিয়া হুমকি সম্প্রচার করিতে থাকে।

Add Me আবালের এহেন ব্যবহারে লাল জামা পিন্দিয়া ডিজিটাল পোষ্টম্যান (Notification) তিতি-বিরক্ত হইয়া মাঝে মাঝেই এইসব খবর সুন্দর সুরতের ডিজিটাল নাগরিকের আগানে বাগানে ফেলিয়া যায়, যাহা পরবর্তীতে ফ্লাড লাইট জ্বালাইয়া খুঁজিলেও খুঁজিয়া পাওয়া যায় না (ডিজিটাল ফেসবুক ইতিহাস ক্লাসের কল্যাণে এই তথ্য প্রকাশ হইয়াছে যে – একজন নিরীহ ডিজিটাল নাগরিক হুমিকির প্রেক্ষিতে যখন নোটিফিকেশান খুঁজিতে থাকে এবং খুঁজিয়া না পায় তখন এইরূপ ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে)। নোটিফিকেশান পোষ্টম্যানকে গালি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তিনি বরাবরই সুরক্ষিত থাকেন।

৩(গ) – টাইমলাইন কি? এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরো

উত্তর: প্রত্যেক ডিজিটাল নাগরিকের জীবনের মতো ফেসবুকেও জীবনের সময় অনুযায়ী একটা লাইন টানা আছে। সময় পার হইয়া গেলে এই লাইন স্পষ্ট হইয়া থাকে আলাদা আলাদা ভাবে। শুধুমাত্র বর্তমানের কিংবা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা বিষয় (৩-ক তে বর্ণিত) এই টাইম লাইনে মুরগীর ডিমের মতো সাবধানে ছাড়িয়া দেয়া যায়। তবে বাস্তব জীবনে অতীত পরিদর্শন করিতে পারা যায় না, অতীতকে পাল্টানো যায় না।

অথচ এই ডিজিটাল টাইম লাইনে আসিয়া অতীতে যাইয়া অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্খিত কিছু নজরে পড়িলে তাহা মুছিয়া দিতে পারে ডিজিটাল জীবনের টাইম লাইন হইতে। এমনকি ডিজিটাল অতীতকে টানিয়া বর্তমানে আনিয়া হাজির করা যাইতে পারে। ইহা এক অবাক করা ক্ষমতা এই টাইম লাইনের। তবে অতীতে যাইয়া টাইম লাইনে নতুন কিছু সংযোজন করিতে পারা যায় না, এমনকি অতীতের দিন তারিখ পাল্টে দেয়া যায় না!
[চলমানঃ শেষপর্ব]

আলী আহসান প্রিন্স
আলী আহসান প্রিন্স

লেখক পরিচিতিঃ ইউকে প্রবাসী বাংলাদেশী; তিনি পেশায় ম্যাকলারেন রেসিং কোম্পানীতে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট অফ বিজনেস টেকনোলোজি হিসাবে কর্মরত আছেন।

[ঢা-এফএ]

(Visited 4 times, 1 visits today)