প্রদীপের গোপন তথ্য জেনে যাওয়ায় জীবন দিতে হলো মেজর সিনহাকে?

প্রদীপের গোপন তথ্য জেনে যাওয়ায় জীবন দিতে হলো মেজর সিনহাকে?
  •  
  •  
  •  
  •  

কক্সবাজার প্রতিনিধি : ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়। ছোট ইয়াবা কারবারিদের নির্মূল করে বড় কারবারিদের রেহাইয়ের সুযোগ করে দেওয়াসহ বহু অভিযোগ কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সদ্য কারাগারে যাওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। কিছু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি হয়েছিলেন সাময়িক বরখাস্ত। তাঁকে প্রত্যাহার ও বদলিও করা হয়েছিল। এরপরও অদৃশ্য ইশারায় পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসির দায়িত্ব।

টেকনাফকে মৃত্যুপুরী বানানো ভয়ঙ্কর সেই ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে এখন নির্যাতিত মানুষেরা কথা বলতে শুরু করেছেন। একের পর এক বেরিয়ে আসছে তার চাঁদাবাজি, ইয়াবাবাজিসহ নানা লোমহর্ষক কর্মকাণ্ড।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মরহুম ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর কন্যা এবং সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বোন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী তার টাইম লাইনে লিখেছেন, ‘সাবাস হিরো শহীদ সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। তোমার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হলেও আমরা সকল নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিচার পাবো। ‘তামিল সিনেমার নায়কের গ্রেপ্তারের সাথে সাথে আমরা, সিনেমার প্রযোজককেও (এসপি) অপসারণ ও রিমান্ডের দাবি জানাই।’

তিনি লিখেছেন ‘দীর্ঘ দিন ধরে জেলা পুলিশ, মিথ্যা মামলা হামলায় উখিয়া টেকনাফসহ সারা জেলায় নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। যার সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খুন হওয়া।’ ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে নিরাপরাধ ব্যক্তিকেও ক্রসফায়ার করা হয়েছে, হাতিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা কড়ি, শেষসম্বলও।

কাবেরী আরও লিখেছেন, রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে উখিয়া টেকনাফ আজ নেতৃত্বশূন্য। ইয়াবার টাকায় দাপটে চলছে ডনরা। তারা ওসি প্রদীপের অ্যাকাউন্ট মজবুত করে বাহুলগ্নতা পেয়েছে। পুলিশ সুপার সব কিছু জেনেও অচেতন ছিলেন। পুলিশি বর্বরতার এই দায় কি সুপার মাসুদ এড়াতে পারেন? নিরপরাধ মানুষকে ইয়াবায় ফাঁসানোর বিভিন্ন প্রয়াসের প্রতিবাদ করলে বলা হতো ইয়াবা ব্যবসায়ীকে উসকানি ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। উখিয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটে ইয়াবা দিয়ে টাকা ছিনতাই অতঃপর মারধর ও জেলে অন্তরীণ করার বিরুদ্ধে কথা বলায় ও আইজিপির কাছে লিখিত বিচার প্রার্থনা করায় এসপির ক্ষোভের অন্ত নেই? কেন সিনহার মতো মেধাবী মানুষ যিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে হত্যার পরও ইয়াবা, গাঁজা, বিদেশী মদ ও অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে সাফাই গাইলেন এসপি সাহেব! এর মাধ্যমে তিনি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি! এতেই কি প্রমাণ হচ্ছে না, এসপি নিজেই প্রদীপের আশ্রয়দাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন!

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করায় সংশ্লিষ্ট সব মহলের কাছে অপরিচিত ছিলেন না। অনেকবার তিনি শাপলাপুর চেকপোস্ট অতিক্রম করেছেন পুলিশের বিনা বাধায়।

সূত্র আরও জানায়, তিনি কক্সবাজারের প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভিডিও চিত্র সংগ্রহের পাশাপাশি তার চোখে ধরাপড়া টেকনাফ পুলিশের মাদক কারবার সম্পর্কেও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তার এই ভূমিকায় দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হন ওসি প্রদীপসহ তার পালা দুর্বৃত্ত চক্র। তাই সিনহাকে শেষ করার পরিকল্পনা আগে থেকেই নিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ। শুধু অপেক্ষা করছিলেন সুযোগের। সেই মতে ঈদের সময়ে অর্থাৎ ৩১ জুলাই রাতের অন্ধকারে সিনহাকে পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ক্রসফায়ারের নির্দেশ দেন প্রদীপ। শুধু তাই নয়, গুলি করার পর ওসি প্রদীপ দ্রুত থানা থেকে এসে গুলিবিদ্ধ সিনহার দেহ থেকে প্রাণ বের হচ্ছিল এমন অবস্থায় লাথি মেরে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর সিনহার সেই ভিডিও, সেই তথ্য ধ্বংস করে দেন।

এজাহারে সিনহার বোন অভিযোগ করেন, ওসি প্রদীপের ফোনে পাওয়া নির্দেশে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলী গুলি করেছিলেন সিনহাকে। এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ‘ইচ্ছাকৃত নরহত্যা’, ২০১ ধারায় আলামত নষ্ট ও মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি এবং ৩৪ ধারায় পরস্পর ‘সাধারণ অভিপ্রায়ে’ অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে (২১) মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনার দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় তাকেও আসামি করা হয়।

ঢা/কেএম

(Visited 719 times, 1 visits today)