প্যাট্রিয়টিজম – দেশপ্রেম নাকি দেশের জন্য দায়িত্ববোধ?

  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ ডেস্কঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মারা গিয়েছিল ১৬,৫৬৩,৮৬৮ জন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৩০,০০০,০০০ এর বেশি। সব যুদ্ধেই সৈনিক মারা পরে, ব্যাপারটা কে বলে কিলড ইন একশন অথবা ক্যাজুয়ালটি; আবার সাধারন অযোদ্ধা জনসাধারনও মারা পরে, যাকে বলা হয় কোলেটেরাল ড্যামেজ।

তবে যুদ্ধের সব মৃত্যুই কিন্তু দেশপ্রেম সংশ্লিস্ট না। জাপানে প্রথা ছিল যুদ্ধে হেরে গেলে কমান্ডাররা নিজের পেটে তরবারি ঢুকিয়ে আত্মহনন করতেন।

নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মরার ঘটনাও নেহায়েত কম না। এই প্রান ত্যাগের নেপথ্যে কারন কিন্তু দেশপ্রেম না, বরং গ্লানি অথবা ব্যর্থতার জ্বালা সইতে না পারার কষ্ট। সৈনিকদের কথা ভাবুন, যুদ্ধ লাগলে এদের যাওয়াটা গ্যারান্টেড। মানে এরা জেনেশুনেই আঠার-উনিশে ডেথ সার্টিফিকেট বুঝে নিয়ে আস্তিনে গুজে সারাটা জীবন কাটায়।

অগুনতি ভারতীয় সৈন্য প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রান বিসর্জন দিয়েছিল, তা কিন্ত ব্রিটিশ মহারাণী কিংবা ইউনিয়ন জ্যাকের জন্য না। নিজের রেজিমেন্ট আর কমান্ডারদের জন্য দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ থেকেই এই আত্মত্যাগ।

তাই, ভালবাসার মানুষের জন্য অথবা দেশের জন্য জান দিয়ে দেবার কথা শুনলে আমি অবাকই হই। জান দিয়ে দেয়াটা আসলেই এতোটা আহামরি কিছু না, বরং নিজের দায়িত্বটা ভাল করে বোঝা আর কর্তব্যটা ঠিকঠাক পালন করার চেস্টাটাই আসল কথা, এতে মৃত্যুর মুখে পরতেও হতে পারে, আবার নাও পারে।

পুনশ্চঃ প্যাট্রিয়টিজম বা দেশপ্রেম শুধু ইউনিফর্মেই মোড়ানো হতে হবে, তা কিন্ত না।
ট্রিভিয়াঃ পৃথিবীর দীর্ঘতম স্যান্ডি সী বিচ নিয়ে অনন্তকাল ধরে আমরা সমুদ্রতীরবর্তি দেশ হয়েও নিজেদের স্রেফ নদীমাতৃক বলতেই ভালবাসি।

ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপুর্ন হয়েও আমরা নিজেদের ক্ষুদ্র রাস্ট্র আর মধ্যম আয়ের দেশ এইসব নিয়ে আছি।

ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি আমরা, আবার রক্তগঙ্গা পেড়িয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। একসময় আমরা ভুবনখ্যাত মসলিন বুনতাম, এখনো বিশ্বসেরা তৈরি পোষাক আমরাই বানাই। আমরা বিশ্বশান্তি রক্ষায় অন্যদের চেয়ে ঢের এগিয়ে, আমাদের সাকিব-মুস্তাফিজ রেকর্ড বইয়ের পাতা দাবড়ে বেড়ায়। আমরা রোহিঙ্গা শরনার্থীও পালি আবার কাউন্টার ইনসারজেন্সিও লড়ি।

বিশাল একটা হাইড্রোকার্বন রিজার্ভ যেমন আমাদের আছে, তেমনি আছে বিশাল জনসম্পদ। ইতিহাস পড়ে দেখুন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বীর গাঁথা ঐ স্পার্টানদের চে কোন অংশেই কম না। অথচ, আমরা হিরো খুঁজি পশ্চিমে, আধাভরা গ্লাসটার খালি অর্ধেকটাতেই আমাদের চোখ আটকে থাকে সারাক্ষন। ষোল কোটির দেশে মেধার অভাব হবার কথা না। পাচার হয়ে যাবার পরও যেটুকু মেধা অবশিষ্ট রয়ে যায় দেশে তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।

সব সেক্টরে সবাই জান না দিয়ে বরং নিজেদের কাজটাই শুধু করলে যথেস্ট দেশপ্রেমও দেখাইতে পারত আর আমরাও কিঞ্চিৎ ভালো থাকতাম। জান দিতে আপনারে কেউ বলে নাই রে ভাই, আপনে শুধু নিজের কামটা ঠিকঠাক করলেই চলে।

পুনঃপুনশ্চঃ প্যাট্রিয়টিজমের বাংলা দেশপ্রেম না হয়ে দেশের জন্য দায়িত্ববোধ হলে বুঝি ভাল হত।

লেখক: ডেল এইচ খান।
[ঢা-এফ/এ]

জানুয়ারি ১০, ২০২১ ৯:৪৯

(Visited 21 times, 1 visits today)