পোশাক খাতকে বাঁচাতে বাংলাদেশী শ্রমিককে অগ্রাধিকার দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে রাজত্ব কায়েম করছে ইন্ডিয়া ও শ্রীলংকানরা। পোশাক খাতে রপ্তানির সিংহ ভাগই তাদের পকেটে। অথচ টেকনিকাল স্কিল ডেবলোপমেনট ও পেশাদারিত্বের জন্য আমরা তাদের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু কিছু কিছু মালিকের সদিচ্ছার কারণেই আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে পিছিয়ে পড়ছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিএম কমে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিযোগিতামুলক বাজারে শ্রীলংকান ইন্ডিয়ানদের নিয়োগের মানে হল খরচের পরিমান বৃদ্ধি করে লাভের পরিমান কমানোর উপায় বের করে প্রতিষ্ঠান বন্ধের পায়তারা করা।

অথচ এদের তুলনায় বাঙ্গালিরা কঠোর পরিশ্রমী এবং বাঙ্গালি এরা ব্যবহার না করে অধিক পরিমাণে বেতন নিয়ে পোশাক খাতকে ধংসের দাড়প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

একটা ফ্যাক্টরিতে যখন হেড অব অপারেশন বা সিও বা সিনিয়র সিইও বা ঐ বিদেশীরে যে পোষ্টে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে পোষ্টেই যদি একজন বাংলাদেশীকে নিয়োগ দেয়া হয়, কি হবে?

সেলারি তুলানামুলক কম হবে! কারন আমরা বাঙ্গালিরা বিশ্বাস করি বিদেশি জিনিস দামী এবং ভালো, দেশী থেকে! হেইড অভ আইই বাংলাদেশী হলে তার সেলারি কত আর শ্রীলঙ্কানের কত? অথচ দুজনেই একই কাজ করবে!

বাঙ্গালির পিছনে ফ্যাক্টরির সবাই আঙ্গুল দিবে, বাঙ্গালীও এসবে অভ্যস্ত এবং সে নেগোসিয়েশন করবে তার বিপরীত পক্ষদের সাথে! কারন চাকরি ত টিকাতে হবে,এত স্যালারির চাকরি,চলেগেলে আবার কবে পাব না পাব! সো নেগোসিয়েশন!

বিদেশীদের সেলারি বেশি থাকে, তাদের সাথে কয়েক বছরের চুক্তিও থাকে! বাঙ্গালী কেউ পিছনে আঙ্গুল দিবে? ফুটা খুজতে খুজতেই সময় শেষ, তার পিছুটান কম থাকে! ইয়েস অর নো? এই দুই নিয়ে সে কাজ করে, মাঝখানে থাকেনা।

কারণ তার আন্ডারে যারা কাজ করে, তাদের নিয়ে তার কোন ইমোশন কাজ করে না! তুমি এটা পারো? ওকে থাক! পারো না চলে যাও!

মালিক ফুল্লি সাপোর্ট দেয়, কারন অনেক টাকা দিচ্ছি, হেল্প না করলে তো আমারই লস! কি লাগবে বলেন? যার কারনে বাকিরাও তাকে খুব সহজেই মান্য করতে বাধ্য হয় এবং সেই বিদেশি খুব সহজেই তার মন মত ডিসিশন দিয়ে কাজ করতে পারে! প্রোডাকশন ১০ পিস বাড়লেই অনেক কিছু!

অথচ বাঙ্গালি কেউ থাকলে,জামান সাহেব কালকে আর অফিসে আইসেন না। কবে যেন এই কথা শুনতে হয়,ভয়ে অনেক কাজই করা হয় না! বা সেই ক্ষমতা থাকেনা!

বিদেশিরা প্রায় সবাই প্রোফেশনাল! কাজের জন্য কোন ছাড় নাই! আমাদের কেউ যদি জিএম পর্যায় যায়,তার সাথে কথা বলার আগে আপনার এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে,তার নিচের লোকদের মানুষই মনে করবেনা সে! অথচ বিদেশি যে ই আছে,কাজের জন্য ওপেন মাইন্ডে কথা বলে!

ভাষার কারনে,আমাদের দেশের পিছনে আঙ্গুল দেয়া লোকেরা তার সাথে খুব একটা কথা বলে না,আবার তার কাছেও যেতে চায় না,ভয়ে থাকে! লজ্জা, ইংরেজিতে দুর্বল! তাই ঝামেলাও কম হয়! আর বাঙ্গালী কেউ থাকলে তো খাটি বাংলায় ও মাঝে মধ্যে কথা হয়!

বিদেশিরা এদেশে এসব কারনে একটা ব্রান্ড তৈরি করতে পারছে, যার কারণে নামে বেনামে শ্রীলঙ্কান, ইন্ডিয়ান দিয়েও তারা কাজ করছে, কারন ব্রান্ড! আর তাদের অধিনস্ত বাঙ্গালীদের কুত্তার মত খাটায়া মারতেছে!

“আমি একটা কোম্পানিতে ছিলাম, একদিন মালিক আমাদের টিমকে ডাকলো,তিনি বলতেছেন

-আমি একজনের সাথে কথা বলেছি,সে সেলারি চাচ্ছে সাড়ে ছয় লাখ, হাউজ রেন্ট এবং চব্বিশঘণ্টা ড্রাইভার সহ গাড়ি! আমি সাড়ে তিন লাখ এবং একটা গাড়ি দিতে চেয়েছি রাজি হয় নাই!

কথার প্রসঙ্গে আমি বলেই দিলাম,

‘এই টাকার অর্ধেক সেলারি আমাদের দেন,টিমটা একটু বড় করি! আমাদের একটু সাপোর্ট দেন! আপনাকে আমরা তার ২০০% কাজ দিব।’

ফ্যাক্টরি মালিক সেই কথা শুনে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। সোজাসাপটা কোন উত্তর পাইনি!

তখন হেইড অভ আইইর সেলারি ছিল ৬৩ হাজার টাকা! কই ৬৩ হাজার আর কই বাড়ি,গাড়ি সহ সাড়ে তিন লাখ! এটা হলো আমাদের মানসিকতা!

মালিকপক্ষ একজন বিদেশিকে যে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে,তার ৭০% ও যদি একজন বাঙ্গালীকে দেয়,সে ঐ বিদেশির থেকে কয়েকগুন বেশি কাজ দিবে! কিন্তু দিবেনা!

মালিকের সাথে এদেশীয় কারো যদি দেখা হইলো,কোন কারনে যদি সে সালাম না দিল! এমনও হতে পারে কালকে আপনার চাকরি নাই! অথচ একজন বিদেশি হলে,তার সাথে একই গাড়ি কিংবা ডাইনিং এ বসে খেতেও তার কোন সমস্যা হয় না! আমাদের মেন্টালিটি এই পর্যায়েই আটকায়া আছে!

তবে এসব থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ, আমাদের জন্যই! বিদেশি জিনিস ভালো,এই মেন্ট্যালিটি যতদিন থাকবে,শুধু গার্মেন্টস সেক্টর না,সব ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে থাকবো, বিদেশিরা রাজ করবে! নিজের মেধার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে,যতদিন এই বিশ্বাস তৈরি না হবে,আমরা শুধু হায়হুতাশ করবো কিন্তু কিছুই হবেনা!

ঢা/আ/ইআ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )