পোল্ট্রি খামারে অজ্ঞাত ভাইরাস, কয়েকশ খামার বন্ধ

  •  
  •  
  •  
  •  

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় পোল্ট্রি খামারে রানীক্ষেতসহ অজ্ঞাত ভাইরাস রোগ দেখা দিয়েছে। খামারগুলো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশিরভাগ মুরগী মারা যাচ্ছে।

কোন ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আর এতে চরম আতংকিত হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত হাজারো খামারী। লাখ লাখ টাকা লোকসানগুনে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

ইতিমধ্যে কয়েকশ মুরগী খামার বন্ধ হয়ে গেছে। খামার বন্ধ হয়ে গেলেও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের কোন মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ খামারীদের।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লোকবল সংকটের অজুহাত তুলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার মুরগীর খামার রয়েছে।

এসব খামারে বয়লার, সোনালী ও কক জাতের মুরগী পালন করা হয়ে থাকে। বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নানান অনুষ্টান হওয়ার কারনে মুরগী বিক্রি বেশি হয়।

তাই  খামারীরা দামও বেশি পায়। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম।

গত বছর এ সময় প্রতিকেজি মুরগী ২৩০/২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ বছর বিক্রি হচ্ছে ১৮০/১৯০ টাকা দরে।

এরপরও খামারীরা কোন মতে তাদের পুঁজি ঘরে তুলতে পারছিল। কিন্তু হঠাত করেই রানীক্ষেতসহ অজ্ঞাত ভাইরাস দেখা দিয়েছে মুরগী খামারে।

আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে মুরগীগুলো ঝিমাচ্ছে।

এরপর ২০-৩০ ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে। এতে গত ১৫-২০ দিনের মধ্যে হাজার হাজার মুরগী মরে কয়েকশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে পুঁজি হারিয়ে অনেক খামারী পথে সবার উপক্রম হয়েছে। রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগী মারা যাচ্ছে এ খবরে অনেকে মুরগী খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে।

জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়পাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম ঢাকায় একটি  বেসরকারী ফার্মে চাকুরী করতেন।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ৪ বছর আগে চাকুরী ছেড়ে গ্রামে এসে মুরগী খামার গড়ে তোলেন। প্রায় ৫ হাজার মুরগী ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সেড রয়েছে তার।

মনিরুল জানান,  খামার করে বেশ লাভও হচ্ছিল। তবে চলতি বছর দুই দফায় তার খামারে ভাইরাস লাগে। ভাইরাস লাগার ১/২ দিনের মধ্যেই মুরগী মারা গেছে।

বিক্রি করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। মরে যাওয়া বস্তা বস্তা মুরগী ফেলে দিতে হয়েছে।  কোন ঔষধে কাজ হয়নি। বর্তমানে তার খামার বন্ধ রয়েছে।

গত ৩ মাসে দুই দফায় ৫ হাজার মুরগী পালন করি। অর্ধেক টাকাও ঘরে তুলতে পারিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে চুয়াডাঙ্গা হোমিও প্যাথি কলেজ পাড়ার( মুসলিম  পাড়া) আকতার হোসেন ৩ বছর আগে মুরগী খামার তৈরী করেন।

বাড়ীর ছাদে সেড দিয়ে খামার গড়ে তোলেন।  আড়াই হাজার মুরগী ধারন ক্ষমতা তার খামারে।

সে খামারে  সোনালী মুরগী পালন করে আসছিল। খামার গড়ে বেশ আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন।

কিন্তু এবার তার খামারে  রাণী ক্ষেত রোগ দেখা দেওয়ায়  সব হিসাব উলোট পালট করে দিয়েছে। শেষ চালানে তার খামারে দুই হাজার মুরগী ছিল।

গেল সপ্তাহে তার খামারে কিছু মুরগী ঝিমাতে দেখে দ্রুত  ১ হাজার মুরগী অপেক্ষাকৃত কম দামে  বিক্রি করে দেন। বাকী ১ হাজার মুরগী আর বিক্রি করা হয়নি। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আর মুরগী তুলছেন না বলে তিনি জানান।

চুয়াডাঙ্গা নুরনগর মুন্না  মোড়ের মুরগী ব্যবসায়ী জহুরুল বলেন, অন্যন্য বছরের থেকে এবার মুরগী দাম অনেক কম। মুরগী কিনে দোকানে আনলে ঝিমাতে থাকছে।

প্রায় দিনই ৪/৫ টা করে মুরগী মারা যাচ্ছে। এই কারনে মুরগী বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না।  এসব কারনে অনেকেই আতংকে মুরগী কিনছে না।

অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা চাকুরী শেষে পেনশনের টাকা দিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। এ বছর তাদের মাথায় হাত। তারা কিভাবে লোসকাস পুষাবে তা নিয়ে চিহ্নিত।

খামারীদের অভিযোগ একের পর এক খামারগুলো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এতে হাজার হাজার মুরগী মারা গেলেও প্রাণী সম্পদ অধিদপÍরের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা দ্রুত সরকারী সাহায্য কামনা করছেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত খামার রয়েছে ১ হাজার ২৩৬টি।

এর মধ্যে ব্রয়লার ১০০২টি, সোনালী ২২৭টি হ্যাচারী ৬টি ও সরকারী মুরগী খামার রয়েছে ১টি। খামারগুলোতে রানীক্ষেতসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগী মারা যাচ্ছে।

সেইজন্য অনেকেই সাময়িক খামার বন্ধ রেখেছে। আমরা খামারীদেরকে এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে পরামর্শ দিচ্ছি। তবে ভেটেনারী সার্জনসহ লোকবল সংকটের কারনে সব খামারে যেয়ে মুরগীর চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। 

ঢা/কেএস/মমি

মার্চ ১৬, ২০২০ ২:৪২

(Visited 41 times, 1 visits today)