পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত দিবস আজ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ২৯ নভেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে পঞ্চগড় পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। অঞ্চলটিতে একাধিক সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধ করে হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে পঞ্চগড়কে মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে বাংলার দামাল ছেলেরা।

তাই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য পঞ্চগড় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পঞ্চগড় দখলে নিয়ে নির্বিচারে ধব্বংসযজ্ঞ চালায়।

হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও অমানবিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় লোকজন ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আবার কেউ কেউ ভারতের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও হানাদার বাহিনীর আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জামের কাছে টিকতে না পেরে সাময়িকভাবে পিছু হটে।

জুলাই মাসের প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাক বাহিনীর ওপর গেরিলা আক্রমণের পাশাপাশি তাদের ডিফেন্সের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা চালাতে থাকে। এতে পর্যুদস্ত হয়ে পাক বাহিনী পিছু হটতে থাকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী অগ্রযাত্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা মুক্ত হতে থাকে। ২৮ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী চারদিক থেকে পাকবাহিনীর ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ করে।

একপর্যায়ে সৈয়দপুর অভিমুখে পিছু হটে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলটি ছিল ৬ নং সেক্টরের অর্ন্তগত ৬-এ সাব-সেক্টর হিসেবে।

মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে জেলার সদর উপজেলার অমরখানায় অবস্থান নিয়ে ভজনপুরের চাওয়াই নদীর ওপর ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেন। এ কারণে পাক হানাদাররা আর তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তেঁতুলিয়া ছিল মুক্তাঞ্চল। যা দেশের ৪টি মুক্তাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে জেলার তেতুঁলিয়া দিয়ে দেশে প্রবেশ করে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিই। আমাদের উপর্যুপরি আক্রমণে খানসেনারা টিকতে না পেরে পিছু হটে।

এ ছাড়া হাড়িভাসা এলাকায় বেশ কয়েকটি দীর্ঘস্থায়ী সম্মুখ যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের মুখে পাকবাহিনীরা পিছু হটে। অবশেষে ২৮ নভেম্বর রাতেই পাকিস্তানী বাহিনী পঞ্চগড় ছেড়ে চলে যায়। পরদিন ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় মুক্ত হয়।

ঢা/এমএইচ/তাশা

(Visited 1 times, 1 visits today)