নেতা বা কর্মীদের অপরাধের দায় ছাত্রলীগের নয়

নেতা বা কর্মীদের ভুলের দায় ছাত্রলীগের নয়
  •  
  •  
  •  
  •  

মুক্তমত ডেস্ক : ছাত্রলীগের পদে থাকলেই সে অপরাধী হবেনা এমন কথা কোনো অপরাধ বিজ্ঞানী বলেননি। মানুষ ব্যক্তিগতভাবেই অপরাধ প্রবন হয়ে থাকে। তবে অপরাধী হতে বা অপরাধ সংঘটনে পরিবেশের প্রভাব বিস্তর। অপরাধ সংঘটনে মনোজগতেরও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত চলমান অপরাধ গুলোর মধ্যে নারী এবং শিশুর ওপর নৃশংসতা অন্যতম। নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী। তাদের অর্থ, বিত্ত এবং ক্ষমতা রয়েছে। বিগত প্রায় এক যুগ ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। সংগত কারনে ছাত্রলীগের ক্ষমতার প্রভাব রয়েছে। ক্ষমতা চর্চা করতে এখন সবাই ছাত্রলীগ করে। তারা বিভিন্ন ইউনিটে হয়তো পজিশন নিয়েছে বা সবার কাছে ছাত্রলীগ নেতা বা কর্মী হিসেবে পরিচিত।

এদের মধ্যে যখন কেউ কেউ ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধে জড়িত হয় তখনই ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে অকারন অস্বীকারের প্রবনতা দেখা যায়। সিলেটের ধর্ষকরা যদি ছাত্রলীগের নেতা হয়ে থাকে তাতে ছাত্রলীগের কোনো অপরাধ নেই।

ছাত্রলীগের কমিটি নেই, ধর্ষকরা ছাত্রলীগ নেতা নয় এটা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সেটি জাতির সাথে প্রতারনা করা হবে। ছাত্রলীগ সেটা করতে পারেনা। ছাত্রলীগের ঐতিহ্যের সাথে এ আচরন যায়না। ছাত্রলীগকে সাহসের সাথে বলতে হবে ওরা ছাত্রলীগ নেতা কিন্তু ধর্ষক। ধর্ষকের বিচারের দাবী ছাত্রলীগও করে। ধর্ষকের স্থান যখন কারাগার হবে তখন আর তাদের অপরাধী বই কেনো পরিচয় থাকবেনা।

গত এক যুগ ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা সেখ হাসিনা জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় কি করেননি? বাংলাদেশের উন্নয়ন তো দৃশ্যমান। ছাত্রলীগ কি শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া বাংলাদেশের নতুন রূপ দেখতে পাওনা? শেখ হাসিনার মিশন এবং ভিশন সম্পর্কে তোমরা কি অবগত নও?

তোমরা কি দেখতে পাওনা শেখ হাসিনার সকল উন্নয়ন, মিশন, ভিশন মাত্র কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ ম্লান করে দিচ্ছে? ছাত্রলীগের কি কোনো দায় দায়িত্ব নেই? দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচনে তোমাদের কোনো ভূমিকা নেই। এসবের দায়িত্ব কি তোমরা নুরুর ওপর ছেড়ে দিয়েছো? তোমরা কি মনে করো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা?

না, সরকার প্রধানকে দুর্নীতি দমনে তোমাদের সহায়তা করার জন্যই দুর্নীতিবাজ নেতা, এমপি, মন্ত্রী এবং আমলাদের বিরুদ্ধে তোমাদের কথা বলতে হবে। এতো বড় সংগঠনের সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক জয় এবং লেখক সারা বাংলাদেশে তোমাদের ক’জন চিনে? বরং সমগ্র বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্বে বাঙ্গালীরা এখন নুরুকে চিনে। নুরুকে অযথা বিভিন্ন সময়ে তোমরা এবং পুলিশ প্রশাসন বাঁধাগ্রস্ত করে এখন জাতীয় নেতায় পরিনত করেছো। নুরুকে তোমরা হয়তো সংসদ সদস্যও বানিয়ে ছাড়বে।

ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক নেত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রত্যেকটি কর্মসূচীকে সবার আগে জনগনের মধ্যে প্রচার করা। ছাত্রলীগের দায়িত্ব শুধু ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নয়; আওয়ামীলীগে যারা জামায়াত-বিএনপির অনুপ্রবেশ ঘটায় তাদের সাবধান করে দেয়া, রুখে দেয়া। আর তা’ নাহলে শেখ হাসিনা যতো দক্ষতার সাথেই দেশ পরিচালনা করুননা কেনো জুলুমবাজদের কারনে দেশের মানুষের জনপ্রিয়তা হারাবেন। তোমরা জয়-লেখকরা কিন্তু জনরোষ থেকে রেহাই পাবেনা।

আমি আশা করছি ছাত্রলীগের যেই পর্যায়ের নেতা যেখানেই যে অপরাধের সাথে যুক্ত থাকবে তাতে ছাত্রলীগ বলবেনা যে সে ছাত্রলীগের কেউ নয়। ছাত্রলীগ সততার সাথে মাথা উঁচু করে বলবে সে ছাত্রলীগ নেতা কিন্ত অপরাধী। ছাত্রলীগ সকল অপরাধীর দেশের আইনানুযায়ী শাস্তি চায়।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক পরিচিতি: মোঃ শফিকুল আলম, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ; অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।

ঢা/আরকেএস

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ ৯:৫৩

(Visited 58 times, 1 visits today)