নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইকের

  •  
  •  
  •  
  •  

খাইরুজ্জামান সেতু: চুয়াডাঙ্গা শহরে ইজিবাইকের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইজিবাইক বাড়ার কারণে শহরে যান চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা থাকছে না। যে যার ইচ্ছা মতো এসব যান চালাচ্ছে। এতে প্রতিদিন শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে অফিস টাইমে এবং বিকেলে অফিস শেষ হওয়ার সময় ইজিবাইকের জট লাগে প্রধান সড়কগুলোতে।

বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে ইজিবাইকগুলো। অদক্ষ চালকের কারণে যেখানে-সেখানে ইউটার্ন নেয়া ও যাত্রী ওঠানো-নামানোতে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক
নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ থেকেও প্রতিদিন শতশত ইজিবাইক চলে আসছে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে। ভিড় করছে হাসপাতাল চত্বরসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এলাকার শরিফুল ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালক জানান, সহজ পেশা হিসেবে সহজেই অর্থ আয়ের আশায় ইজিবাইক চালাচ্ছি।

বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব ইজিবাইকগুলোর সংখ্যা হবে প্রায় চার হাজারের মতো। অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইজিবাইক চালকদের কারণেই সড়কে যানজট হচ্ছে। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা বলছে শহরে ইজিবাইকের যানজট কমাতে পৌরসভা থেকে লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। শহরের ভিতর যে ইজিবাইকগুলো দেখা যায় তার অধিকাংশই অন্য উপজেলা থেকে এসে শহরে ভাড়া খাটে। যার কারণে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। নতুনভাবে এই সমস্য সমাধানে পৌরসভা থেকে চার উপজেলার

নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক
নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক

ইজিবাইকের রংয়ের ভিন্নতা অনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে অন্য উপজেলার ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। পৌরসভার হিসাব অনুয়ায়ী শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা এক হাজারের মতো।

শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বর, কোর্ট চত্বর এলাকা, একাডেমি বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট রোড, হাসপাতাল সড়ক, রেলওয়ে স্টেশনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইজিবাইকের যানজট দেখা যায়।

যানজট নিরসনে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে অনেক সময়।

চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, সাতগাড়ী থেকে তার স্কুলে আসতে সময় লাগে দশ মিনিট। কিন্তু ইজিবাইকের যানজটে পথে বসে থাকতে হয় ৩০ মিনিট।

নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক
নেই শৃঙ্খলা, সড়কে দাপট ইজিবাইক

বাস চালক সিরাজুল ইসলাম জানান, শহরের তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হতে অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ইজিবাইকের যানজটে অল্প এইটুকু রাস্তায় শহীদ হাসান চত্বর থেকে বাসস্ট্যান্ডে আসতে সময় লাগে প্রায় আধাঘণ্টা।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ সম্পাদক হোসেন জাকির বলেন, অদক্ষ চালকের কারণে ইজিবাইকের দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দিন দিন ইজিবাইকের সংখ্যা বাড়ার ফলে যানজট কমানো এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক ইজিবাইক চালালে দুর্ঘটনা কম হবে বলেও মনে করেন তিনি। ইজিবাইকের যানযটের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ইজিবাইকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার উপজেলায় ইজিবাইকগুলোর ভিন্ন রঙের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে কোনো সড়কে ইজিবাইক চলতে পারবে না।

ঢা/কেএস/মমি

জানুয়ারি ১৬, ২০২০ ৭:১০

(Visited 47 times, 1 visits today)