নিজে বাঁচতে ব্যস্ত পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা নেই!

নিজে বাঁচতে ব্যস্ত পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা নেই!

মুক্তমত ডেস্ক: ভাইরাসের কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সচেতনতা চলে এসেছে। যে জাতি এর আগে ভাইরাস নামটি শুনলে খিলখিল করে হেসে ওঠে ব্যঙ্গ করতে থাকতো সেই জাতি এখন ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছে।

বিষয়গুলো দেখে এক ধরনের আশার আলো খুঁজে পাই।অন্তত এই দেশের মানুষের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণে যে সমস্ত রোগ ব্যাধি গুলো প্রতিবছর হয়ে থাকে তা আগের তুলনায় অনেক কমে যাবে।

বাইরে অধিকাংশ দোকানে দেখা যাচ্ছে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আগের মতো চায়ের কাপে করে চা পান করছে না। মানুষ বাসা-বাড়ির বাইরে ওয়ান টাইম কাপ ব্যবহার করে চা পান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এই কারণে এখন ব্যবসায়ীরাও চাইছে ওয়ান টাইম কাপের ব্যবহার বাড়িতে দিতে।

বর্তমান সময়ে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন সড়কটির নাম আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, সেই রোডের ছোটপুল নামক এলাকায় পুলিশ লাইন্সের গেইটের পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি পুনাক ক্যান্টিন। সেই কেন্টিনে ভেতরে যেমন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে ঠিক তেমনি বাইরে ও পার্সেল চা-নাস্তা বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পথচারীদের মধ্য থেকে অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও কেন্টিনের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সড়কের পাশে ওয়ানটাইম কাপে করে চা পান করে যাচ্ছে।

দুঃখজনক ব্যাপার হল,খাওয়া শেষ হলেই কাপটি ছুড়ে মারছে সেই দৃষ্টিনন্দন সড়কের পাশে। ব্যবহৃত কাপের স্তুপ জমে সড়ক এবং সড়কের পাশের নর্দমা পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে!

শুধুমাত্র পুনাক ক্যান্টিন বলে কথা নেই, শহরের অধিকাংশ দোকানপাট এবং গ্রামেগঞ্জেও এ ধরনের দৃশ্য প্রতিদিন চোখে পড়ে আমাদের।

ভাবতেও অবাক লাগে এই ধরনের কাজ গুলো করে যাচ্ছে শহরের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিতরা! এসমস্ত সার্টিফিকেটের অধিকারী মানুষ গুলো তাদের অর্জিত শিক্ষাগুলো মস্তিষ্কে ধারণ না করে করে কোথায় নিয়ে যায় সেই বিষয়ে জানতে আমার যথেষ্ট কৌতুহল রয়েছে!

বিদেশ থেকে ঘুরে আসা ব্যক্তিটিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়ম-কানুনের কথা বলে বিদেশের প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে। অথচ নিজের দেশে নেমে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে বাড়ির দরজা পর্যন্ত যেখানেই পারছে ইচ্ছামতন ময়লা ছুড়ে যাচ্ছে!

কিছু একটা বলতে চাইলে দেখা যাবে, উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেবে তিনি একা কি করবেন? এরকম একা একা করে হলেও আগামী এক দশকের মধ্যে আমরা পুরো দেশটাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারব সেই বিশ্বাস যাদের নেই তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে দেশপ্রেম নেই, মাতৃ প্রেম নেই।

দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যারা বিত্তশালী এবং ক্ষমতার মালিক শুধুমাত্র তারা, দরিদ্র এবং দুর্বল ব্যক্তিরা কখনোই দুর্নীতি করতে পারে না,ইচ্ছা থাকলেও তাদের মধ্যে সেই সুযোগ হয়ে উঠে না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অর্থ উপার্জন মুখি এর অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্রতা, লোভ এবং শিক্ষা বৈষম্য।

অন্যদিকে শিক্ষার রস আহরণ করতে না পেরে শিক্ষা গিলে ফেলার যে প্রবণতা রয়েছে তাতে করে জাতি কোনদিন দুর্নীতিমুক্ত হতে পারবে কিনা, জাতির মধ্যে নিঃস্বার্থে দেশকে ভালবাসবে এমন শতভাগ সন্তান জন্ম নিবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

যে দেশের শিক্ষকেরা দুর্নীতি দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে শিক্ষার্থীদের অনিয়মের হাতে খড়ি শিক্ষা দেয় সেই দেশে শুধুমাত্র স্বশিক্ষিত ব্যক্তিরাই শিক্ষার রস আহরণ করে নিজেদেরকে অনিয়মের ঊর্ধ্বে রাখতে পারবে। কারণ তারা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পারে জীবন কি? জীবনের সৌন্দর্য কি? সুখ কি?

এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী বেঁচে থাকার আশায় মানুষ নিজেদের দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে। জন্মিলে মরিতে হবে এই কথা মানুষ প্রতি মুহূর্তে ভুলে যায়।

যাহারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তাহারা প্রতি পদে পদে লাঞ্ছিত হয়, মৃত্যু না হলেও প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর যন্ত্রনা ভোগ করে চলতে হয় তাঁহাদের,এই যন্ত্রণা তাহাদের দেই চারপাশের অবুঝ এবং লোভী মানুষগুলো।

স্বশিক্ষিত মহৎ মানুষ গুলোর পাশাপাশি অন্যের দ্বারা শিক্ষিত মানুষ গুলোর মধ্যেও দেশপ্রেম এবং সচেতনতা জেগে উঠুক। এটাই একমাত্র প্রার্থনা।

লেখক: মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম

কবি ও সাংবাদিক

ঢা/আরকেএস

(Visited 3 times, 1 visits today)