‘নিজের কাজটা ঠিকমত করাই দেশপ্রেম’

‘নিজের কাজটা ঠিকমত করাই দেশপ্রেম’
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা১৮ প্রতিবেদক: করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে ঢাকা১৮.কমের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কবি, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক আনিসুল হক। ঢাকা১৮.কমের পক্ষ থেকে ফ্যাশন ডিজাইনার ও গ্রুমিং ইনস্ট্রাক্টর এবি ওয়ালিউদ্দিন আহমেদ সুজন এর নেয়া সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

উপস্থাপক: স্বাগতম স্যার।

আনিসুল হক: ধন্যবাদ।

উপস্থাপক: কেমন আছেন স্যার।

আনিসুল হক: আমি ভালো আছি।

উপস্থাপক: প্রথমেই আমার যে প্রশ্নটি, সবাইকে যেটা জিজ্ঞাসা করা হয়, অনেক ব্যস্ত মানুষ হিসেবে এই সময়টা (করোনাকালীন) কেমন করে কাটাচ্ছেন।

আনিসুল হক: মার্চের মোটামোটি শেষের দিকেই আমরা কোয়ারেন্টাইন হলাম, এর আগে ৮ মার্চ প্রথম দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনের অনুষ্ঠান সরকার জনসমাবেশ বাতিল করে দিল। স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। তারপর আস্তে আস্তে অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। আমি ১৪ এপ্রিল সর্বশেষ প্রথম আলো অফিসে গিয়েছি কারণ ওইদিন ১লা বৈশাখ ছিলো। এবং রেজোয়ানা চৌধুরি বন্যার লাইভ স্টুডিও থেকে করেছি। কিন্তু এরপর আমি টাইফয়েডে পড়ে যাই। ১৫ এপ্রিল জ্বর আসে, সেখান থেকে সর্বশেষ ১০মে আমি আমার টাইফয়েড এর ওষুধটা খেয়েছি। তার আগে আমি একটা পুরো উপন্যাস অনুবাদ করে পেলেছিলাম। ১৪ এপ্রিল থেকে ১০ মে প্রযন্ত আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। এর মাঝে আর কোন লেখালেখি হয়নি। তারপর থেকে বাসায় থেকে বই পড়ি আর সত্যজিত রায়ের সিনেমাগুলো ইউটিউব থেকে দেখছি। আর পেরা সাইট সিনামা যেগুলো অস্কার পেল কোরিয়ান সকল রেকর্ড ভাঙল সে ছবিটি দেখেছি। আর প্রচুর বই পড়তে শুরু করেছি।

উপস্থাপক: জাতীয় টেলিভিশন অথবা রেডিওতে যেটার দায়িত্ব হচ্ছে পরিণত ভাষাটা ছড়িয়ে দেওয়া কিন্তু আপনার নাটকে প্রথম খাইছিলাম, পড়ছিলাম, গেছিলাম, ঘুমাতেছিলাম। আঞ্চুলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল ৬০/৭০ এর দশকে বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়। কিন্তু আপনার নাটকে সর্বপ্রথম এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হলো। কিন্তু ভদ্রলোক যারা আছেন তাদের এই ভাষা গুলো গায়ে লাগলো, তাদের বিষয়ে কিছু বলেন।

আনিসুল হক: রেডিও টেলিভিশনের একটা দায়িত্ব আছে যে, প্রমিত ভাষাকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া, কারণ কোন ভাষায় পাঠ্য পুস্তক রচিত হবে। এখন আমি যদি বলি ঢাকায় আমরা ভদ্রলোকেরা যে ভাষায়, অফিসে, আদালতে, স্কুলে আমরা কিন্তু কেউ করেছি, খেয়েছি বলে কথা বলি না। এমনকি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার একদিন আমাকে ফোন করে বলতেছেন, মিয়া কেমন আছো, কি করতেছো। তো তুমি যে নাটকের শুরু করেছ এটা যদি করতে থাকো তাহলে তো ভাষাটা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি বললাম স্যার, এতক্ষণ আপনি আমার সাথে কিভাবে বললেন, তখন তিনি হেসে দিয়ে বললেন মিয়া তোমাদের অত্যাচারে আমাদের নিজেদের ভাষাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার মানে আব্দুল্লাহ আবু সাইদ স্যার ও যখন আমার সাথে ফোনে ইনপর্মাল বলেন তখন তিনিও করেছি, খেয়েছি বলেন, কিন্তু তিনিই যখন বক্তৃতা করেন, মঞ্চে উঠেন টেলিভিশনে যান, তখন তিনি সুন্দর ভাষায় কথা বলেন। কেউ কেউ আছেন যারা ঘরে এবং বাইরে প্রমিত বলেন। যেমন ডা. আনিসুজ্জামান। তিনি ঘরে বাইরে প্রমিত বলেন।

প্রমিত ভাষা নষ্ট করে দেওয়াই শিল্পের কাজ, যেটা রবীন্দ্রনাথ করেছেন, যেটা শহীদুল জহির করেছেন, যেটা সৈয়দ শামসুল হক করেছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে প্রমিত ভাষার বাইরে চলে যাওয়া। কিন্তু রাষ্ট্রের কাজ হবে প্রতিটা ঘরে প্রমিত ভাষা আমাদের বাংলা ভাষা পৌছে দেওয়া। আমাদের প্রতিটা ঘরে বর্ণমালা পৌছে দিতে হবে কিন্তু সে কাজটা আমরা করি নাই, আমাদের কিন্তু এখনো শতভাগ সাক্ষরতা হয় নাই, যদিও প্রায়  নব্বই, নিরানব্বই ভাগ ছেলে-মেয়ে স্কুলে যায়, কিন্তু স্কুলে গিয়ে কি তারা প্রমিত উচ্চারণ শিখে আমাদের স্কুলের শিক্ষকেরা ক্লাস নেন, তারা কি প্রমিত উচ্চারণ শিক্ষায় এইগুলো খুবই দূচিন্তার বিষয়। তারপর আমি বলবো এই যে আমি প্রমিত ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করছি, যদিও আমার উচ্চারণ ভালো না, কারণ আমি রংপুরের। এটা আমি কোথায় থেকে শিখেছি, অবশ্যই রেডিও থেকে শিখেছি, অবশ্যই টেলিভিশন থেকে শিখেছি, বিবিসি রেডিও থেকে শিখেছি। তাহলে আমার কথা হচ্ছে যখন আপনি নাটক করবেন তখন আপনি প্রমিত ভাষায় নাটক করতে বাধ্য নন।

আপনি যখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করবেন বঙ্গবন্ধু কিন্তু বলে নাই দাবিয়ে রাখতে পারবে না, ওনি বলছে দাবাই রাখতে পারবা না। এভাবেই তিনি বলবেন। কারণ তিনি মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করছিলেন। আমাদের আঞ্চলিক গান যে ভাষাতে আছে সে ভাষতেই হবে , কারণ এটা শিল্প। শিল্পীর জায়গায় শিল্পী স্বাধীন, তেমনি নাটকের জায়গায় নাটক স্বাধীন। কিন্তু আপনারা যারা রেডিও আরজে আছেন তারা যখন প্রমিত ভাষা ব্যবহার না করেন তখন আমার অন্তরে ব্যাথা লাগে। কিন্তু আমি জানি রেডিও যখন খবর প্রচার করে এবং খেলা ধারাভাষ্য করে তখন প্রমিত ভাষাই ব্যবহার করেন। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের ছেলে-মেয়েদের যোগাযোগ করার জন্য আপনাদের ভাষাটা কাজের। কিন্তু আমি এটা শিকার করি রেডিও ,টেলিভিশনর মাধ্যমে বাংলার প্রমিত ভাষা গ্রামগঞ্জে পৌছে দেওয়া। তা না হলে নৈরাজ্য হবে, তা না হলে আমাদের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট ঘোষণা করবেন কোন ভাষায় করবেন। তাই আমি বলি আমাদের প্রমিত ভাষার প্রচার জাতীয় গণমাধ্যমকেই করতে হবে।

উপস্থাপক: লেখক এবং পাঠকের মধ্যে আমরা যখন বই পড়ি তখন বইয়ের মধ্যেই পড়ি, কিন্তু আপনারা যখন বই পড়েন তখন সেটা কিভাবে পড়েন?

আনিসুল হক: আমি যখন রংপুরে ছিলাম তখন সৈয়দ শামসুল হক একবার রংপুরে আসেন তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম আপনি বলেছেন তরুণ লেখকের কর্তব্য হচ্ছে বই পড়া। পড়ার বাইরে তরুণ লেখকের জন্য উপদেশ দিন। তখন সৈয়দ শামসুল হক আমাকে বলেছেন পড়ার বাইরে তরুণ লেখকের উদ্দেশ্যে আমার তিনটি উপদেশ আছে। পড়, পড় এবং পড়। তারপর তিনি বললেন লেখকের পড়া আর পাঠকের পড়া এক নয়। পাঠক পড়ে আর মুগ্ধ হয়, কিন্তু লেখক পড়ে আর ভাবে আমি কেন মুগ্ধ হই? কেন রবীন্দ্রনাথ তার একটি গল্পে অনেক সংলাপ ব্যবহার করেছেন? আরেকটি গল্পে কোন সংলাপই ব্যবহার করেননি? আমি যখন একটি বই পড়ি তখন আমি হাসি, লেখক এখানে কি কায়দা ব্যবহার করলেন যে আমি হেসে পেললাম। আমি যখন কাঁদি কান্না হয়ে গেলে তখন আমি আবার পড়ি। আচ্ছা উনি কি ভাষা ব্যবহার করলেন, যে আমাকে কাঁদতে হলো। একটি উপন্যাস কিভাবে শুরু হয়? একটা গল্প কিভাবে শুরু হয়? লেখককে এই জিনিসগুলো খেয়াল করে লিখতে হয়।

উপস্থাপক: সক্রেটিসকে প্লেটো জিজ্ঞাসা করেছিলো সর্বোচ্চ দেশপ্রেম কী? ওনি বলেছিলেন নিজের কাজটা সুন্দরভাবে করা। এটাই হলো সর্বোচ্চ দেশপ্রেম। আপনার কাছে কোনটা মনে হয়?

আনিসুল হক: এই কথাটা আব্দুল আবু সাইদ ও খুব বলে, আবি ওনার কাছ থেকে শিখে শুনে আমিও বলি যে, সর্বোচ্চ দেশপ্রেম হচ্ছে নিজের কাজটুকু সব থেকে সুন্দরভাবে করা। একই কথা আমদের ক্রিকেটার মারশাফি বিন মর্তুজাও বলেছেন। তিনি বলেন, সবাই কেন ক্রিকেটের মাঝে দেশপ্রেম খুঁজে? ক্রিকেট ছাড়াও অনেক দেশপ্রেমী আছে। তিনি বলেছেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা, যারা শহীদ হয়েছেন, জীবন দিয়ে দেশের জন্য লড়াই করেছেন তারা অনেক বড় দেশপ্রেমীক। তিনি বলেন আমাদের যারা ডাক্তার আছেন। যারা কৃষক ধান ফলান তারা দেশপ্রেমীক। সত্যি সত্যি আজ করোনার মধ্যে আমাদের ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল এসিস্ট্যান্টরা সরাসরি সামনে থেকে যে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, এমনকি আমাদের বাচ্চা ছেলেগুলো যে ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিচ্ছে এরাই সবাই দেশপ্রেমীক। তেমনি নিজের কাজটুকো করা যেমন দেশপ্রেম তেমনি নিজের কাজের বাইতে গিয়ে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যে আদর্শ স্থাপন করলো সেটাও দেশপ্রেম। যেটা আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা করেছিলো। তাই আমি বলবো, প্রথমেই নিজের কাজটা করা, আর সেটাই দেশপ্রেম। সবাই যদি নিজের কাজটা ঠিকমতো করে তাহলে দেশ আপনা-আপনি সুন্দর হয়ে যাবে ।

উপস্থাপক: আপনি কখন ব্যক্তি আনিসুল হক ও লেখক আনিসুল হক এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলেন?

আনিসুল হক: ব্যক্তি আনিসুল হক লেখক আনিসুল হক এগুলো সব একই সর্তে। এটাতো কোন শার্ট না যে পরিবর্তন করে পেললাম। আমার মাঝে যে দোষ গুণ, অলসতা, পরিশ্রম করার ক্ষমতা আছে এই সব নিয়েই আমি ব্যক্তি আনিসুল হক ও সাংবাদিক লেখক আনিসুল হক।

উপস্থাপক: আপনি সুখ বলতে কি বুঝেন? সুখের সংজ্ঞাটা কি আপনার কাছে?

আনিসুল হক: সুখ সুখ বলে কাঁদার কিছুই নাই। সংসার সুখ-দুঃখের তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা। আমি খুব আশার বলার পক্ষে। আমি সবসময় আমার প্রথম আলোর লোকজনকে বলি আশার কথা লিখতে। এটা আমাকে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইদ স্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন মিথ্যা হলেও আশার কথা লিখবে। কারণ আশা হচ্ছে লাভজনক। আমি নিজেকে খুব সুখী মানুষ মনে করি। তবে আমি এই মূহুর্তে করোনার মধ্যে আমার দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে বড়ই অসুখী ও দূচিন্তাগ্রস্থ।

উপস্থাপক: হুমায়ুন আহম্মেদ স্যারের সাথে যেকোন একটা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চল ছিলো, পরে এটা কিভাবে সমাধান করলেন?

আনিসুল হক: হুমায়ুন আহম্মেদ স্যারের বাড়িতে সপ্তাহে একদিন সব কবি, সাহিত্যিক, নাটকের শিল্পীরা জড়ো হলেন। তখন একজন এসে স্যারকে বললেন বই মেলায় সময় স্টলে একজন এসে বললেন জাফর ইকবালের বই আছে? তখন আনিসুল হক সাহেব বললে জাফর ইকাবালের বই কোথায় থাকে আমি জানি না। এ কথা শুনে হুমায়ুন আহম্মেদ পার্টিতে খুব ক্ষেপে গেলেন এবং বললেন আনিসুল হক খুব বেড়ে গেছেন, আর আমার প্রকাশক ফরিদ আহম্মেদকে ডাকো এখনি ওর বিচার করা হবে। পরের দিন এই কথা শুনে আমি খুবই দূচিন্তা পড়ে গেলাম এবং আমি জাফর ইকবাল স্যারের কাছে বললে ওনি আমাকে বলেন আমার বই নিয়ে ফরিদ আহম্মেদ আনিসুল হক কি বললো এটা নিয়ে-তো হুমায়ুন স্যারের দূচিন্তা করার-তো কিছু নাই। তাহলে আমি আপনি কেন দূচিন্তা করবো। তখন আমরা আমাদের বইয়ের অনলাইন এ প্রকাশনার জন্য একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলাম। এক থেকে দুই বছর পরে একদিন কাকলি প্রকাশনের সেলিম ভাই দুই প্যাকেট মিষ্টি আর হুমায়ুন স্যারের বই নিয়ে আমার বাসায় আসে। বাসায় এসে বললো হুমায়ুন স্যার আপনার জন্য এটা পাঠিয়েছে। তখন আমি দেখলাম তিনি আমাকে একটা বই উৎসর্গ করেছেন ‘আনিসুল হক সুকনিষ্ঠেসু শক্তিমান গদ্যকার’ তারপর অনার নিজ হাতে লিখা ‘আনিসুল হক আমার ব্যবহারের জন্য আমি লর্জিত। পরে একটা অটোগ্রাফ দেওয়া ছিল । পরে আমি স্যারকে ফোন দিয়ে আমার বই নিয়ে কথা বলি এবং আমিও ওনার বাসায় যাই। পরে ওনার সাথে আমার খুব খাতির হয়ে গেল। এবং তার গেটু পুত্র কমলা ছবিটি একসাথে উদ্বোধন করি ।

উপস্থাপক: এমন কোন গল্প বা উপন্যাস আছে যা লিখতে গিয়ে আপনি আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছেন?

আনিসুল হক: ‘আমার মা’ উপন্যাসে একজন মুক্তিযোদ্ধার মা মুক্তিযোদ্ধা আজাদ ধরা পড়ার পর জেলখানায় ছেলের সাথে দেখা করতে যায়। তখন ছেলে ভাত খেতে চায়। পরে মা ভাত নিয়ে যায়, দেখে ছেলে বেচে নেই পরে মা ১৪ বছর ভাত খায় নাই। এই সত্য ঘটনা লিখেও আমি আবেগ প্রবণ হই নাই। কিন্তু যখন বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরে যখন আজাদের মায়ের প্রিয় গানটি আমি শুনি তখন আমার হাউমাউ করে কেদে পেলি। যখন আমি বইটা লিখি তখন আমার আবেগটা দমিয়ে রাখি কিন্তু বইটি প্রকাশের সময় আমি আর আবেগ ধরে রাখতে পারি নাই।

উপস্থাপক: অরুন্ধতী রায় এক ইন্টারভিউতে বলেছেন তিনি লেখার জন্য লেখেন না। এই বিষটা নিয়ে আপনি কি বলবেন?

আনিসুল হক: অরুন্ধতী রায় একজন আর্কিটেক। তিনি সিনেমাও করেছেন। ওনার সাথে পরিচালকদের সম্পর্ক ভালো ছিলো এবং নাটকের স্ক্রিপ লিখতেন। অন্য দিকে তিনি ছোটবেলা থাকে প্রচুর বই পড়তেন। এছাড়াও ‘গড অফ স্মল থিঙ্ক’ এ তার জীবনের অভিজ্ঞতা আছে। তার উপন্যাসটা অনেক ভাল হয়েছে। যখন তিনি উপন্যাসটা প্রকাশককে পাঠান তখন প্রকাশক নিজে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে দেখা করেন। এবং তা নিউজে প্রকাশ করে দেন যার ফলে বইটির প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রকাশ পায়।

উপস্থাপক: নতুন লেখকদের জন্য কি ধরনের উপদেশ দিবেন?

আনিসুল হক: নতুন লেখকদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনি যদি আজকে প্রথম লিখতে বসেন আপনার যে বেদনা যেমন আমি আজকে লিখবো আমার বেদনা এক। বড় লেখক, ছোট লেখক বলে কোন কথা না প্রতিটি লেখক নতুন লেখক প্রতিটি লেখকের বেদনা এক। আপনি যদি শিল্পী হন আপনি ব্যার্থ হবেন আর আপনি যদি ব্যার্থ হন তাহলে আপনি শিল্পী হবেন। ব্যার্থাকে ভয় পেলে চলবে না। আপনি কিছু লিখলে লোকে বলবে ভালো হয়নি, বেশির ভাগ লোকই আপনাকে নিঃউৎসাহিত করবে। আপনি আপনার জায়গায় অটুট থাকেন আর চেষ্টা করে যান। দুঃখ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন, ব্যার্থ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন। একদিন ব্যার্থতা থেকেই সফলতা আসবে।

ঢা/এএইচ/কেএম

(Visited 46 times, 1 visits today)