নতুন প্রজন্ম ভিন্নদেশী সংস্কৃতি চর্চায় হারিয়ে ফেলছে দেশীয়

নতুন প্রজন্ম ভিন্নদেশী সংস্কৃতি চর্চায় হারিয়ে ফেলছে দেশীয়
  •  
  •  
  •  
  •  

মায়ের মুখে শুনে শিশু যে ভাষায় কথা বলতে শেখে তাকেই আমরা মাতৃভাষা বলে থাকি। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেরই রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত একটি নির্দিষ্ট মাতৃভাষা রয়েছে। আমাদের দেশের মাতৃভাষা হলো বাংলা। বাংলা এখন পৃথিবীর আটটি বড় ভাষার মধ্যে একটি। এই ভাষার কবি সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন, কিন্তু প্রচুর ভাষাভাষী থাকার পরও যতই দিন যাচ্ছে, অবহেলায় ক্রমেই মুমূর্ষু হয়ে পড়ছে বাংলা।

আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, বছরের একটি দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার জন্য সাদা-কালো জমিনে বর্ণমালা। বছরে একদিন ভোরে ওঠে বর্ণযুক্ত পোশাক জরিয়ে খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য সমাগত হয় তবে শহীদদের ও ভাষার মর্যাদার পূর্ণতা কি একটি বিশেষ দিনের? কিন্তু পরদিন থেকেই সে মাতৃভাষাপ্রেম তাদের মাঝে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা এখন উঁচুতলার অহংবোধ শুধু নয়। তারা ভাবেন যে যাদের অর্থকম আধুনিকতা জানেন না অশিক্ষিত তারাই ভিক্ষারির মতো দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলা মাধ্যমে পড়ছে।

বছরের অন্য দিন গুলোতে লক্ষ্য করলে যা দেখতে পাই, দেশের যারা বিভাগীয় শহরে থাকে ইংলিশ মিডিয়ামের অনেক শিক্ষার্থীদের দিকে দেখা যায় তারা সব সময় ইংরেজি চর্চায় নিজেকে ব্যস্থ রাখে, বিনোদনের চোখলেও তারা হিন্দি, ইংরেজি, বা ভিনদেশি ভাষা কর্ম ও জ্ঞানের পরিধি এবং তাদের সংষ্কৃতির দিকেই ঝুঁকছে। আরা দেখা যায় কিছু সংখ্যাক উচ্চ শিক্ষিত এই ধরনের পরিবারের সন্তানেরা ছোট থেকে বাংলা ভাষার শেখার পরিবর্তনে ইংরেজি ও ইংরেজিকে মাধ্যম অনুসরণ করতে কার্টন সিনেমা নাটক দেখানো হয়। কারো সাথে কথা বললে বাংলাটাও বলতে চাই না, যদিও বলে সেটা শুদ্ধ নয়, তাদের কাছে মনেহয় বাংলা ভাষা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।

এই ধরনের পরিবারের কাছে মনেহয় বাংলা বলাটা সম্মান নষ্ট করা, এটা ভাবেন বাংলা ভুলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ইংরেজি শিখতে হবে। তারা এটা মনে করেন ইংরেজি বলতে পারা গর্ববের বিষয়।

আমাদের মাতৃভাষা অন্য দেশের মতো এত টা সহজে আসেনি ইতিহাসের পিছনে ফিরলে আমরা দেখতে পাবো সেই ভাষা কেউ কেড়ে নিতে চায়নি। ভাষার জন্য নয় বাংলা ভাষা আন্দোলন এই দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, আর সেই ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় করার জন্য তাজা রক্ত দিয়েছে শত শত মায়ের সন্তান। সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছি। কিন্তু জিততে পারিনি নিজের সঙ্গে।

আমি মনেকরি আমাদের উচ্চ শিক্ষা বা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ইংরেজি ভাষা বা বিদেশী সংষ্কৃতিতে জ্ঞান অর্জন করা অতি প্রয়োজনীয় কিন্তু এই নয় নিজের দেশের ভাষা-সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিতে হবে।

নিজের দেশীর সংস্কৃতিও গ্রহণ করবো সেই ভিন্নদেশীও। এভাবে ভিন্ন ভাষা বা ইংরেজির চাপে কোন এক সময় বাংলা ভাষার মৃত্যু হতে পারে। নিজের দেশকে বিশ্বের বুকে ঠাঁয় করার জন্য নিজের দেশীয় মাতৃভাষায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রতিনিয়ত চর্চার ওপর ভরসা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের প্রথম অহংকার আমার ভাষা, রক্তে কিনেছি এই বাংলা ভাষাকে।

লেখক পরিচিতি:
মো: সোহেল রানা
ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল,
উত্তরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

ঢা/এসআর

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ ৫:৪৩

(Visited 44 times, 1 visits today)