‘নকশা-কাগজপত্র কলেজ প্রশাসনকে না বুঝিয়ে দিলে কঠোর ব্যবস্থা’

  •  
  •  
  •  
  •  

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: বাঙলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন স্বপন কুমার পাল। কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কলেজের জমি বিভিন্ন ভূমি দস্যুদের দখল করতে সহায়তা ও নিজের স্ত্রী`র নামে কলেজের একাধিক প্লট সাব কবলা রেজিস্ট্রি করে নেন তিনি।

ওই সময়ে তিনি কলেজের ভূমি কমিটির প্রধান (আহ্বায়ক) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাঙলা কলেজের জমি সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বও ছিল তার ওপর।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোন সরকারি কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলে বা তৎসংলগ্ন এলাকায় জমি ক্রয় করলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ নিজ কর্মস্থলে বা তৎসংলগ্ন এলাকায় জমি ক্রয় করলে তার পেনশন বাজেয়াপ্তসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই নিজের স্ত্রীর নামে অবৈধভাবে কলেজের জমি লিখে দেন। তাছাড়াও কলেজের জমি দখলে বিভিন্ন ভূমি দস্যু বাহিনীদের সহয়তা করেন তিনি।

সূত্রে জানা যায়,২০১২ সালে নিজের স্ত্রীর নামে দলিল করে নেন তিনি। দলিল নং- ২৭৪৯। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কলেজের দখলে থাকা ৩ কাটা জমি দুই জনের নামে সাব-কবলা রেজিস্ট্রি করা হয় -১/মিসেস তাহমিনা হোসেন, স্বামীঃ প্রফেসর এস.এম মকফুর হোসেন(তৎকালীন অধ্যক্ষ)২/প্রতিভা রানী দে, স্বামীঃ স্বপন কুমার পাল।

সূত্রে আরও জানা যায়, স্বপন কুমার পাল ২৭/১০/২০১৩ তারিখে দলিল নং ১১৫২৭ আমমোক্তা দলিলের মাধ্যমে স্বয়ং স্বপন কুমার পাল কলেজের ১ কাঠা জমি নিজের নামে দলিল করে নেয় যাহা ২৪/৩/২০১৬ তারিখে দলিল নং ৩৫৩৬, ট্রান্সপার করে প্রতিভা রানী দে,স্বামীঃস্বপন কুমার পাল এর নামে সাব কবলা রেজিস্ট্রেশন করা হয়। বর্তমানে কলেজের বেদখল হওয়া সমস্ত জমি’ই তার সময়ে বেদখল হয়েছে। কলেজের পিছনের দশতলা ভবন নির্মানাধীন জমিটিও তার সময়েই বেদখল হয়েছে বলে যানা যায়।

বিষয়টি সামনে আসলে বাঙলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পরে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বপন কুমার পালের পেনশনসহ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকার থেকে যেসকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে তা স্থগিত অথবা বাতিল করার দাবি জানায়।

সরকারি বাঙলা কলেজের বর্তমান ভূমি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ড. মোঃ গোলাম রাব্বানী বলেন,তিনি দীর্ঘদিন সরকারি বাঙলা কলেজের ভূমি কমিটির আহবায়ক ছিলেন এবং যাবতীয় নকশা-দলিল পত্র তার হেফাজতে সংরক্ষিত ছিল।

তিনি বলেন,তিনি কলেজ থেকে বদলি হয়ে যাবার সময় কলেজের প্রয়োজনীয় মূল্যবান নকশা-কাগজপত্র ,কলেজ প্রশাসনকে না বুঝিয়ে দিয়ে উল্টো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি।

যা কলেজের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট পূর্বক বর্তমান ভূমি কমিটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বাধা ও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করছে বলেও জানান তিনি।

গত আগস্টে ভূমি কমিটির সভায় অধ্যক্ষসহ প্রায় ৪০/৪৫ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে তিনি তার পূর্বকার কাজ কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরবর্তীতে এই ধরনের কাজ না করার অঙ্গিকার করেন স্বপন কুমার পাল।

এসময় স্বপন কুমার পাল দাবি করেন,তিনি তার স্ত্রীর নামে কলেজের পাশে জমি কিনেছেন।

জমি ক্রয়ের ব্যাপারে সরকারি অনুমতি নিয়েছেন কি না এবং জমির কাগজপত্র আছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি ঠিক উত্তর দিতে পারেননি। সেই সাথে বিষয়টিকে এড়িয়ে যান বলে জানিয়েছে বর্তমান কমিটি।

তিনি যদি তার এই ধরনের কার্যক্রমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাসহ কলেজের সকল কাগজপত্র কলেজ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দেয় তাহলে আমরা অতিসত্বর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলে জানিয়ে ড.গোলাম রাব্বানী বলেন,কলেজের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে যেই আর যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক।

উল্লেখ্য, গত কিছুদিন ধরে সরকারি বাঙলা কলেজের সাবেক শিক্ষক এবং তৎকালীন ভূমি কমিটির প্রধান স্বপন কুমার পাল কলেজের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে নিজের জমি বলে দাবি করছে। এই বিষয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন।

ঢা/মমি

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ ৭:৫১

(Visited 96 times, 1 visits today)