ধেয়ে আসছে ঘূর্নিঝড় “আম্পান”, উত্তাল বঙ্গোপসাগর

ধেয়ে আসছে ঘূর্নিঝড় “আম্পান” উত্তাল বঙ্গোপসাগর
  •  
  •  
  •  
  •  

কলাপাড়া প্রতিনিধি: কলাপাড়াসহ সমুদ্র উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান’র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সমগ্র দক্ষিন উপকুলসহ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ অতি প্রবল আকারে রূপ নিয়েছে। প্রচুর শক্তি বৃদ্ধি করে উপকুলের দিকে ধেয়ে আসছে এ ঘূর্ণিঝড়টি।

ক্রমশই কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরা ট্রলারগুলো নিরাপাদে আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সংকেত দিয়েছেন। পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বার বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সতকর্তামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন, পাকা ও নিরাপদ স্থাপনা এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক।
ধেয়ে আসছে ঘূর্নিঝড় “আম্পান” উত্তাল বঙ্গোপসাগর

উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৬৩ টি আশ্রয় কেন্দ্র। এছাড়া পায়রা বন্দর এলাকায় একটি বহুতল ভবন ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন এখানে ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। ঘূর্নীঝড় আম্পান মোকাবেলায় সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ১১ ইউনিয়নের পরিষদ চেয়ারম্যান ও সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থনীয়রা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পান নিয়ে সংকটে পড়েছেন সমুদ্র উপকূলীয় মানুষজন। ঝড়ের আগাম বার্তায় কর্মহীন এসব মানুষ যেন অজানা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয় কিংবা জীবন বাঁচানোর চিন্তা না করে তারা নিজেদের বসতঘর আর সম্পদ রক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের চোখ-মুখে আতংকের ছাপ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিবি) সহকারী পরিচালক মো: আসাদুজ্জামান খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান পায়রা বন্দর থেকে বর্তমানে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে অবস্থান করছে। ঘূর্নিঝড় কেন্দ্রর ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার। ঘূর্নিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতা ৫-৬ ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আলীপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি মো: আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, এলাকার মাছ ধরা ট্রলার সাগরে যা ছিল তার বেশির ভাগই
শিববাড়িয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। আলীপুরের আবাসিক হোটেলগুলো জেলেদের আশ্রয়ের জন্য ছেড়ে দয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো আবুল বাসার বলেন, তাদের ১৬০ টি প্রথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত রাখার জন্য স্ব-স্ব বিদ্যালয় প্রধানদের বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ঘূর্নীঝড় আম্পান মোকাবেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের সাইক্লোন শেল্টারগুলো
প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুকনো খাবার সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢা/আরকেএম/আরকেএস

মে ১৯, ২০২০ ৯:০৩

(Visited 44 times, 1 visits today)