“দিয়াবাড়ি” উত্তরা

এসকে আবদুল্লাহ্ মোঃ ফরিদ: “দিয়াবাড়ি” কংক্রিটের শহরে শুভ্রতার এক কোমল রাজ্য; কর্মব্যস্ত শহর ঢাকা। এখানে ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নিয়ে প্রশান্তি ভরে দম নেয়ার তেমন কোনো জায়গা নেই বললেই চলে।

ইট, কাঠ, কংক্রিটের এই শহরে এক টুকরো সবুজের দেখা মেলা ভার। তবে উত্তরা দিয়াবাড়িতে গেলে এই কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

রাজধানীর উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে দিয়াবাড়ি

দিয়াবাড়ি রাজধানীর উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে। এখানার সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে শুভ্রতার এক কোমল রাজ্যে নিয়ে যাবে। শরৎকালে এখানে দেখা মেলে কাশফুলের। পুরো দিয়াবাড়ি জুড়েই দেখা মিলবে কাশফুলের।

তারপরও এখানকার কাশফুল দেখে আপনার মনে পড়বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কথা। কবিতার ‘একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা’ এই লাইনটা মনে চলে আসবে নিজের অজান্তেই।

দিয়াবাড়িকে ঢাকার কাশফুলের রাজ্য বললেও ভুল হবে না। সপ্তাহের ছুটির দিন অথবা যে কোনো উৎসবের ছুটিতে ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা এখন ছুটে যান দিয়াবাড়িতে। জায়গাটির চারদিকে বিরাজ করে নীরবতা। একটু পর পর সেই নীরবতা ভাঙ্গে উড়োজাহাজ।

তারপরও এখানকার কাশফুল দেখে আপনার মনে পড়বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কথা ..

আপনার মাথার উপর দিয়ে সাঁই সাঁই করে উড়ে যাবে উড়োজাহাজ। অদ্ভুত এক সুন্দর দৃশ্য। দিয়াবাড়ি এয়াপোর্টের খুব কাছে হওয়ায় এখানে একটু পর পর উড়োজাহাজ দেখা যায়।

দিয়াবাড়ির অন্যতম দর্শণীয় জায়গা বিশাল বটগাছ। বর্তমানে নাটকে এই বটগাছটি প্রায়ই দেখা যায়। বিশাল বটগাছটির দুপাশে রাস্তা। এই জায়গারটার নাম এখন ‘দিয়াবাড়ি বটতলা’। প্রায় সময় সেখানে কোনো না কোনো নাটকের শুটিং চলে।

এর বেশ কিছুদূর সামনে গেলে দেখা মিলবে একটি মরা নদীর। এটি তুরাগ নদীর একটি শাখা। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি নান্দনিক সংযোগ সেতু। এই সেতুর উপর দাড়ালে আঁকা-বাঁকা নদীর নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

এখানকার পাড়বাঁধানো লেক দিয়াবাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। ভ্রমন আরো উপভোগ্য করতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে লেকের এদিক ওদিক থেকে নৌকায় করে ঘুরে আসার সুব্যবস্থা। অদ্ভুত রোমাঞ্চকর ও মনোরম পরিবেশে প্রিয়জনকে নিয়ে আপনিও কাটিয়ে আসতে পারেন দারুন একটি বিকেল।

লেখক পরিচিতিঃ শৌখিন লেখক, উত্তরাবাসী।
[ঢা-এফ/এ]

ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ ৪:৩৯

(Visited 1 times, 1 visits today)