ঢাবি’কে প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত ভালোবাসার ক্যাম্পাসে পরিণত করার শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন, দেশের প্রকৃতি রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য দূষণ পরিহারে সর্বদা সচেষ্ট থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করে শপথ গ্রহণ’ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ক্যাম্পাসে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নেচার কনজারভেশন ক্লাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত ভালবাসার ক্যাম্পাস ২০২০’ শীর্ষক শপথ গ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদবোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ.কে.এম গোলাম রব্বানী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ,কে,এম রফিক আহাম্মদ, প্রাণিবিদ্যাবিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হুমায়ুন রেজা খান প্রমুখ।

‘প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত ভালোবাসার ক্যাম্পাস ২০২০’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পরিবেশ মন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণের অন্যতম নতুন উপাদান প্লাস্টিক । অনতিবিলম্বে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধের বিকল্প নেই।

প্লাস্টিক ও পলিথিন বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণসহ সার্বিক পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক মানুষের শরীরে অনেক মরণ ব্যাধির পাশাপাশি ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

সকলে মিলে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ বর্জন করার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণমুক্ত বাসযোগ্য স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, আসুন সবাই প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করি।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সভ্যতার অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে এই ক্ষতিকর প্লাস্টিক। বর্জ্য প্লাস্টিক সাড়ে চারশ বছর পর্যন্ত নস্ট হতে সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়ান টাইম কাপ-গ্লাস, চামচ, বোতলজাত পানি, খাবারের প্লাস্টিকের মোড়ক, স্ট্র, পলিথিন ব্যাগসহ যাবতীয় এক বার ব্যাবহার্য্য প্লাস্টিকের বিকল্প খুজে বের করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা করতে হবে ।

তিনি এসময় দূষণের কারণে সংকটাপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের রক্ষায় করণীয় বিষয়েও গবেষণা করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহবান জানান ।

তিনি বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং এর পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং বাড়ানোর মাধ্যমে প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ভাবে উপযোগী করে তুলতে হবে।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও পলিথিন সরকারি ভাবে নিষিদ্ধকরণ এবং আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। ক্ষতিকর দিকটি অনুধাবন করে জনগণকেই এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্জন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করি। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ঘোষণা প্রদান করলে, দেশের সাধারন জনগণও উদবুদ্ধ হবে।

সার্বিক ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সরকার আইন করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের আইন প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে, গত দুই বছরে পরিবেশ দূষণের দায়ে এক হাজার ছয়শত পঁচানব্বই টি শিল্প প্রতিষ্ঠান/ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণ করে বিশ কোটি বাইশ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অপরদিকে একই সময়ে পরিবেশগত বিভিন্ন অপরাধ ,অবৈধ পলিথিন, ইটভাটাসহ পরিবেশ দূষকদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ষোল কোটি আটত্রিশ লক্ষ টাকা জরিমানা ছাড়াও ৪৬৫ টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস এবং তিনশত সাতাশি মেট্রিক টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন, পলিথিন দানা ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সরকার বৃক্ষরোপন কার্যক্রমও জোরদার করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, ‘মুজিববর্ষ’ পালনের অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সারাদেশে শতলক্ষ গাছের চারা রোপন করবে।

ডা/ এনএএইচ /মমি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )