ঢাকা কলেজ নিয়ে শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: প্রায় বছর খানেক আগে ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন ফ্ল্যাটটিতে উঠি।এখানে ওঠার পর একটা নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই।সেটা হলো- ছাত্রাবাসের ছাত্রদের দুর্দান্ত রাত জাগরণ।

প্রায় রাতেই ওরা দল বেঁধে ছাদে উঠে সারারাত গলা ছেড়ে গান করে। চলে আড্ডা, গল্প, হৈ হুল্লোড় । কখনও- বা মাঝরাতের নিয়ম ভেঙ্গে ছুটে আসে শ্লোগানের আওয়াজ।

ঘন ঘন হুন্ডা আসা যাওয়ার শব্দ থাকে শেষ রাত অব্দি। এখানেই শেষ নয়।কখনও কখনও দু পক্ষের সংঘর্ষের ধাওয়া -পল্টা ধাওয়াও চলতে থাকে রাতের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে।

আমি মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে শব্দ থেকে বাঁচার জন্য বেড রুম ছেড়ে অন্য রুমে চলে যাই নিঃশব্দে নিরিবিলি শান্তিতে ঘুমাবো বলে//

আজ ৬/৭ দিন হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ায় ছাত্ররা ক্যাম্পাস ছেড়েছে।ঢাকাকলেজ ছাত্রাবাস লক ডাউন।ছাত্ররা কেউ কোথাও নেই।

স্তূপীকৃত অখন্ড জমাট নিস্তব্ধতা চারিদিক।গভীর রাত। বাতাস ও বড় বড় গাছের পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নাই। আমি তো এমনটাই চেয়েছিলাম। এমন মোহনীয় স্তব্ধতায় শান্তির ঘুম।
তবে?তাহলে?আমার ঘুম আসে না কেন?

আসলে–

আমার অজান্তেই আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রাণপণ প্রত্যাশা করছে রাত জাগানিয়া সেইসব উত্তাল শব্দ , গান ও হট্টগোল ।ছাত্রাবাসের রুফ টপে ছাত্রদের বেসুরো
গানের সুরই হবে আমার ঘুমের একমাত্র টনিক।আমি প্রমান পবো যে, আমরা এখন নিরাপদ।আর ভয় নেই একত্রিত হওয়ার।

ঐতো ওরা কাঁধে হাত রেখে আড্ডায় মেতেছে।ছোঁয়াছুঁয়িতে আর জীবননাশী জীবানুর ভয় নাই। ওদের দলগত উপস্থিতিই হবে, “কোয়ারান্টাইন, আইসোলেশন,ইমারজেন্সি, কার্ফ্যু” এই শব্দগুলো চিরবিদায়ের সংকেত। আতংকহীন নিরাপদ স্বাভাবিক জীবনের বার্তা।

ঢা/মমি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

***ঢাকা১৮.কম এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ( Unauthorized use of news, image, information, etc published by Dhaka18.com is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws. )