ঢাকা১৮ ডটকমের সংবাদে গ্রেফতার হল সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্র

ঢাকা১৮ ডটকমের সংবাদে গ্রেফতার হল সাংবাদিক নামদারী চাঁদাবাজ চক্র
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরা থেকে থেকে সাংবাদিক নামধারী একটি চাঁদাবাজ চক্রকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হল, চাঁদাবাজ চক্রের দলনেতা রাসেল হাওলাদার ওরফে রাসেল হাসান ওরফে হাসান (২৯), মানিক হোসেন (২২), মোখলেছার রহমান ওরফে জনি (২৫), হাসানের স্ত্রী মোছা. সালমা আক্তার (২১) ও তার শালিকা আছমা আক্তার (২১)। এর আগে গত রোববার (২১ এপ্রিল) ওই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অনলাইন নিউজ পোর্টল ‘ঢাকা১৮ ডটকম’ নিউজ পোর্টালে ‘উত্তরায় চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে কথিত সাংবাদিকের হুমকি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের দুই দিন পরই তাদেরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে উত্তরা ৬ নম্বরের সেক্টরের আলাওল এভিনিউ এলাকা থেকে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) তাদেরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল।

গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত থেকে ৪ টি মোবাইল ফোন, নগদ ৬ হাজার ১৫০ টাকা, ২ টি হাতঘড়ি, ১ টি মোটরসাইকেল, ২ টি দাওয়াত কার্ড ও বিভিন্ন পত্রিকার অসংখ্য পেপার ক্লিপিং জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল, বরিশাল জেলার হিজলা থানাধীন চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের হাশেম হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার ওরফে রাসেল হাসান ওরফে হাসান (২৯), তার স্ত্রী সালমা আক্তার (২১) ও শালিকা আছমা আক্তার (২১), নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন সাদুরখিল গ্রামের আব্দুল মান্নান ছেলে মানিক হোসেন (২২) এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন কাছদহ এলাকার মোকছেদ মিয়ার ছেলে মোখলেছার রহমান ওরফে জনি (২৫) ।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল সারওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর উত্তরায় কতিপয় চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগকারীদের মতে, একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। চক্রটির বেশ কয়েকজন মহিলা সদস্যও আছে বলে জানা যায়।

চাঁদাবাজ চক্রটির প্রধান টার্গেট এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্কুল/কলেজের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন কোম্পানীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চক্রের মহিলা সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে টার্গেটের কাছে যায় এবং বিভিন্ন অযুহাতে ছবি তুলে। এছাড়াও তারা টার্গেটকৃত ব্যক্তির নিকট যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে ভূয়া দাওয়াত কার্ড তৈরী করে নিয়ে যায় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মামলার করার ভীতি প্রদর্শণ করে।

তাছাড়াও চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনা অনুমতিতে বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সংশি¬ষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জোড়পূর্বক টাকা আদায় করে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রধান টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে এবং তাদের বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে একই কায়দায় তাদেরও ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মামলার করার ভীতি প্রদর্শণ করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকে।

এমন একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার করে সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয় বলেও জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক।

গ্রেফতারকৃত ভুয়া সাংবাদিক রাসেল হাসানকে জ্ঞিাসাবাদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক সারওয়ার বিন কাশেম জানান, তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে সে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের নিকট প্রেরণ করে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে অন্যথায় ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মামলার করার ভীতি প্রদর্শণ করত।

তার জন্মস্থান বরিশালে এবং সে বিগত ১৯ বছর যাবৎ ঢাকায় বাস করছে। সে এই চক্রের মূল হোতা। তার নির্দেশেই চক্রের অন্যান্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্বনামধন্য ব্যক্তিদের নিকট হতে চাঁদাবাজি করে থাকে। পড়াশোনায় সে উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে না পারলেও নিজেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে পরিচয় দেয়। তার নিজ এলাকায় ও ঢাকাতে একাধিক স্ত্রী আছে বলে জানা যায়। ঢাকায় তার বর্তমান স্ত্রী সালমা আক্তার ও শ্যালিকা আছমা আক্তার তার বিভিন্ন অপারাধকর্মে সহযোগীতা করে থাকে।

শুরুতে ধৃত আসামী ৫/৬ বছর গার্মেন্টস সেক্টরে চাকুরী করে। এরপর সে উত্তরা বাণী, স্বাধীন সংবাদ, নতুন দিক, উত্তরা টাইমস, শ্যামল বাংলা ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদপত্রে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে বলে জানায়। বর্তমানে সে সরেজমিন নামক একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত।

এছাড়াও তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনা অনুমতিতে বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জোড়পূর্বক টাকা আদায় করে থাকে। তাদের কাঙ্খিত টাকা প্রদান না করলে রাসেল হাসান নিজেকে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সংবাদপত্রে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে থাকে।
তার বিরুদ্ধে বরিশালের মুলাদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১টি এবং মিরপুর থানায় জাল নোট পাচারের জন্য ১টি মামলা চলমান আছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও ধৃত অপর আসামী মানিক হোসেন ও মোখলেছার রহমান ওরফে জনি এই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে জোড়পূর্বক টাকা আদায়ের কাজ করে থাকে বলে জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

আরো পড়ুন: উত্তরায় চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে কথিত সাংবাদিকের হুমকি, থানায় জিডি

এপ্রিল ২৪, ২০১৯ ৮:২১

(Visited 20 times, 1 visits today)