ঢাকা১৮ ডটকম’র সংবাদে দুর্নীতিবাজ শিক্ষক প্রতিনিধি মালেক প্রত্যাহার

উত্তরা হাইস্কুলের শিক্ষক আব্দুল মালেক

নুরুল আমিন হাসান : ঢাকা১৮ ডটকম’র প্রকাশিত সংবাদের পর এবার টনক নড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের। সংবাদ প্রকাশের পরই উত্তরা হাইস্কুর এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল মালেককে প্রত্যাহার করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার সকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা১৮ ডট কম নামের একটি নিউজ পোর্টলে ‘উত্তরা হাইস্কুল: শিক্ষকের শিক্ষকের যদি থাকে এত দুর্নীতি, শিক্ষা দিবেন কি!’ শিরোনামে গত ৩ এপ্রিল একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। পরবর্তীতে সংবাদটি ঝাচাই করে এর সত্যতা পাওয়ায় উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল মালেককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : উত্তরা হাইস্কুল : শিক্ষকের যদি থাকে এত দুর্নীতি, তাহলে শিক্ষা দিবেন কি!

তিনি বলেন, উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক শাখার কমিটিতে অবৈধভাবে শিক্ষক প্রতিনিধি থাকার অভিযোগে শিক্ষক মো. আব্দুল মালেকের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজকে দেওয়া গত জানুয়ারির ৩০ তারিখে বোর্ডের প্রত্র নং- ২৬৫/ক/অনু/০৯/২৫০১ এর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শিক্ষক প্রতিনিধি মো. আব্দুল মালেকের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। যা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্ভনিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা ২০০৯ অনুসরণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা১৮ ডট কমে ‘উত্তরা হাইস্কুলের উচ্চমান সহকারীর রমরমা ফরম ফিলআপ বাণিজ্য’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদের প্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য মো. আবেদ আলী ও দেলোয়ার হোসেন নামের দুই জনের সদস্যপদ বাতিল করা হয়।

শিক্ষাবোর্ড জানায়, কলেজের গভর্নিং বডির মাধ্যমিক শাখার আবেদ আলী ও দেলোয়ার হোসেন নামের দুই জন অভিভাবকের সন্তানদের কেউ অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত নেই। তারা অবৈধভাবে গভর্নিং বডিতে অভিভাবক সদস্য ছিলেন। তাই তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ঢাকা১৮ ডটকম’র রিপোর্টে টনক নড়েছে শিক্ষা বোর্ডের, উত্তরা হাইস্কুলের ২ অভিভাবক সদস্য প্রত্যাহার

যেভাবে দুর্নীতি করা হয়

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির উচ্চ মাধ্যমিক শাখার বেআইনী ও অবৈধভাবে দুই অভিভাবক সদস্যে আবেদ আলী ও দেলোয়ার হোসেন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল মালেকের সদস্যপদ বাতিল করার প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন একজন অভিভাবক।

আবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক শাখার গভর্নিং বডিতে থাকা অভিভাবক সদস্য আবেদ আলী ও দেলোয়ার হোসেন নামের দুই জন অভিভাবকের সন্তানদের কেউ অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত নেই। সুতরাং তারা কেউই অভিভাবক নন। অপরদিকে প্রাথমিক শাখার শিক্ষক হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি হয়েছেন মালেক। যা নিয়ম বহির্ভুত।

অবৈধভাবে উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজের কমিটিতে থাকা দুই জন অভিভাবক সদস্য ও এক জন শিক্ষক প্রত্যহারের ঘটনায় ‘ঢাকা১৮ ডটকম’কে সাধুবাদ জানিয়েছেন  উত্তরা হাইস্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবকরা। তারা বলেন, গভর্নিং কমিটিতে থাকা এসব দুর্নীতিবাজ সদস্যদের কারণে স্কুলের সম্মান নষ্ট হচ্ছিল। যা তাদের প্রত্যারের পর কিছুটা হলেও কমবে।

আরো পড়ুন : উত্তরা হাইস্কুলের উচ্চমান সহকারীর রমরমা ফরম ফিলআপ বাণিজ্য

তারা বলেন, প্রাথমিক শাখার জুনিয়র শিক্ষক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রাথমিক শাখার জুনিয়র শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক শাখার এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে সরকার ও অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়  ২০ বছর যাবৎ অবৈবধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

তাছাড়াও প্রায় ১০ মাস তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে উত্তরা হাইস্কুলের দিবা শাখার ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। এমন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। অভিভাবকদের দাবি, এমন অভিযোগ শুধু মালেকের বিরুদ্ধে নয়, প্রাইমারী শাখার অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে রয়েছে। স্কুলের সুনাম রক্ষার্থে এসব তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ঢা/এনএএইচ/এমএম

(Visited 3 times, 1 visits today)