‘ডাক্তার বলছে গুলি লেগেছে পিছন থেকে’ ফিরোজ রশীদের ছেলের বৌ

  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের ছেলের বৌ মেরিনা শোয়েব রবিবার (৭ জুলাই) রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পেছন থেকে গুলি লেগেছে মেরিনার। রাতে অস্ত্রোপচারের পর তাকে লাইফ-সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এখন আইসিইউতে আছেন।

তবে কাজী ফিরোজের পরিবারের দাবি, মেরিনার গুলি লেগেছে সামনে থেকে, পেটে। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। মেরিনার স্বামী কাজী শোয়েবের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে তিনি নিজের পেটে গুলি করেন। পরে খবর পেয়ে সংসদ থেকে বাসায় ফিরে পুত্রবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যান কাজী ফিরোজ।

ধানমন্ডি ৯এ সড়কে কাজী ফিরোজের বাসায় মেরিনা গুলিবিদ্ধ হন। মেরিনার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য কাজী ফিরোজের পরিবারের করা দাবির মতোই। তবে মেরিনার বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘আমার জামাই শোয়েব নাকি সে সময় বাড়িতে ছিল না। এখন বাকিটা আল্লাহ জানেন! আমার মেয়ের সঙ্গে নাকি তার ডিভোর্স হয়েছে। কিন্তু ডিভোর্স হওয়ার পরও কি কারও বউ এতদিন স্বামীর বাসায় থাকে?’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমন্ডি জোনের এডিসি মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, তিন বছর আগে ডিভোর্স হলেও শোয়েব ও মেরিনা একই বাড়িতে থাকতেন।

পরিবারের সদস্য ও ধানমন্ডি থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার পর কাজী ফিরোজের বাসায় মেরিনা গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় বাসায় কাজী ফিরোজের স্ত্রী ও মেরিনার দুই সন্তান ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে সংসদ থেকে বাসায় আসেন কাজী ফিরোজ। পরে মেরিনাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে রাতে অস্ত্রোপচার হয় মেরিনার। এরপর তাকে লাইফ-সাপোর্টে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর বাসা থেকে অস্ত্রটি জব্দ করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

সোমবার (৮ জুলাই) সকালে লাইফ-সাপোর্ট খুলে মেরিনাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ল্যাবএইড হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান লেনিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গুলি লেগেছে পেছন থেকে। এখনও গুলি ভেতরে রয়ে গেছে। রোগীর অবস্থার উন্নতি হলে গুলি বের করা হবে।’ মেরিনার শারীরিক সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ল্যাবএইডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাতে (রবিবার) উনার অস্ত্রোপচার হয়েছে।

৪ জন সার্জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উনি এখন আইসিইউতে আছেন। রাতে অস্ত্রোপচারের পর লাইফ-সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেটা এখন খুলে দেওয়া হয়েছে। উনি এখন স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। তবে উনি আশঙ্কামুক্ত কিনা তা বলতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগবে।’ এ ঘটনার পর থেকে কাজী ফিরোজের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির বাসায় গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

পরে বিকালে বাসার নিচে এসে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন কাজী ফিরোজের ছেলে কাজী শোয়েব। এর আগে কাজী ফিরোজের গাড়িচালক এলেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার সময় স্যারসহ ছেলে মানুষ কেউ বাসায় ছিলেন না। স্যার ছিলেন সংসদে। খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় এসে ম্যাডামকে (মেরিনা) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন শোয়েব স্যারও বাসায় ছিলেন না।’ কাজী ফিরোজের বাড়ির সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেরিনা, শোয়েব ও তাদের দুই সন্তান এবং কাজী ফিরোজ ও তার স্ত্রী একই ফ্ল্যাটে থাকেন। পাশাপাশি কক্ষে থাকেন শোয়েব ও মেরিনা। মেরিনার কক্ষ থেকেই তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মেরিনার স্বামী কাজী শোয়েব বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় বাসায় ছিলাম না। অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলাম। তখন আমার মেয়ে ফোন করে জানায় এ ঘটনা। ও (মেরিনা) মেন্টালি আনস্টেবল। ওষুধ খেলে ভালো থাকে। না খেলে সুস্থ থাকে না। আল্লাহর রহমতে সে এখন কামব্যাক করেছে। সে হাসপাতালে এখন কথা বলতে পারছে।’ তবে কী ধরনের অসুস্থতার জন্য মেরিনাকে ওষুধ খেতে হতো তা তিনি জানাননি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমন্ডি জোনের এডিসি মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মেরিনা সুইসাইডের অ্যাটেম্পট নিয়েছিলেন। তার মেয়ের বয়স ২০-২১ বছর। সে নিজেও আমার কাছে একই বক্তব্য দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ কেউ করেননি। তবে ঘটনার পর আমরা অস্ত্রটি জব্দ করেছি। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

ঢা/রারা

জুলাই ৯, ২০১৯ ১০:১২

(Visited 6 times, 1 visits today)