চলে গেলেন কিংবদন্তি টকশো উপস্থাপক ল্যারী কিং

  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ শফিকুল আলম: কিংবদন্তি টকশো নিমন্ত্রক ল্যারী কিং ৮৭ বছরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করলেন। কিংবদন্তি টকশো উপস্থাপক ল্যারী কিং যিনি সিএনএন এ ‘ল্যারী কিং লাইভ’ শো’র মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এবং খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

গত শনিবার লস এ্যান্জেলেসে শেষ নি:শেষ ত্যাগ করেন। এ মাসের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আমেরিকা জুড়ে প্রত্যেকটি ঘরের টিভি রুমে ল্যারী কিং ছিলেন একজন জীবন্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ মেহমানের উপস্থিতি। তিনি কখনোই বিরক্তিকর আত্মসাম্মুখ্যপূর্ণ ছিলেননা। তিনি কখনো কথা বলার সময় উঁচু গলায় কথা বলতেন না।

অর্থাৎ, তাঁর গলার ধমনী দেখা যেতো না। দর্শকদের নিশ্চয়ই তাঁর বিশেষ ধরনের পশুর শিং সংমিশ্রনে তৈরী চশমা দৃষ্টি এড়ায়নি। আবার তাঁর কাঁধের সাথে ইলাস্টিক বেল্ট দিয়ে প্যান্ট বেধে রাখারও কখনো ব্যত্যয় ঘটেনি। জামার হাতা কিছুটা গোছানো রাখাও ছিলো নিয়মিত।

তাঁকে সাক্ষাৎকার নিতে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট, লেখক, সাংবাদিক, অভিনেতা, আধ্যাত্মিকদের, নায়ক, খলনায়ক বা সমাজের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির 

একই অবয়বে তাঁকে সাক্ষাৎকার নিতে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট, লেখক, সাংবাদিক, অভিনেতা, আধ্যাত্মিকদের, নায়ক, খলনায়ক বা সমাজের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির দিনের পর দিন। তাঁর এই পেশার সময়কালের ব্যাপ্তি অর্ধ শতাব্দীর।

এভাবেই তিনি হয়েছিলেন বিশ্বে অন্যতম একজন বিখ্যাত টকশো নিমন্ত্রক এবং মতামত সংগঠক। তাঁর ফুরফুরা, হাসি-খুশি মেজাজ দিয়ে এবং খুনসুটি, পরিহাস, ঠাট্টা, মশকরা ইত্যাদি ব্যতিরেকে তাঁর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথির সাথে কথপোকথনের মাধ্যমে চমৎকারভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য যা’ তিনি চাইতেন তা’ বের করে নিয়ে আসতেন। তিনি কখনোই দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেননা।

শনিবার Ora Media ৮৭ বছর বয়স্ক এই কিংবদন্তি ল্যারী কিং এর Cedars-Sinai Medical Centre এ মৃত্যু সংবাদ ঘোষনা করে। Ora Medea ই মূলত: তাঁর দু’টি প্রগ্রাম “Larry King Now’ এবং “Politicking With Larry King” এর পেছনে কাজ করেছে। কিং সিএনএন এর সাথে ২০১০ দীর্ঘদিন পরিচালিত প্রগ্রামের সমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন।

কিন্তু, বারবার সিএনএন এ মডারেটর হিসেবে ফিরে গেছেন এবং মাঝে মাঝে তাদের কমার্শিয়ালও করেছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের ওপর দাপটের সাথে “Larry King Live” করেছেন। তিনিই প্রথম ইন্টারন্যাশনাল লাইভ phone-in TV টকশো করেছেন। কিং “America’s yak-master, ” “Pope of talk” এবং “Top banana of talk-show hosts” ইত্যাদির ডাবিং করেছেন।

কিং সব সময় তাঁর চুল ব্যাক-ব্রাশ করতেন। আগেই বর্ননা করেছি তাঁর চশমার কথা, লং স্লিভ হাত গুটিয়ে রাখা বা কাঁধের সাথে ইলাস্টিক দিয়ে প্যান্ট আটকে রাখার চিত্র। এমতাবস্থায় তিনি বেশির ভাগ সময় দুই কনুই ডেস্কের ওপর রেখে কাঁধ উঁচু করে সামনের দিকে একটু ঝুঁকে ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মাইক্রফোনের সামনে যাদের ইন্টারভিউ নিতেন তাদের ভেতর এবং বাহির অংকিত করতেন।

কিং সব সময় তাঁর চুল ব্যাক-ব্রাশ করতেন। তাঁর চশমা, লং স্লিভ হাত গুটিয়ে রাখা বা কাঁধের সাথে ইলাস্টিক দিয়ে প্যান্ট আটকে রাখা 

ল্যারী কিং ইন্টারভিউ করেছেন Frank Sinatra বা Henry Kissinger কে, Don Rickles বা Dalai Lama কে বা গর্ভাচবকে। দশকের পর দশক সফল সেলিব্রেটিস, রাজনীতিক, হরেক রকম সংবাদ তৈরীকারী সাংবাদিক এবং বিশেষজ্ঞগন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ল্যারীর প্রশ্নের উত্তর দিতেন। ল্যারী তাঁর টকশোতে সহজ নিয়ম অনুসরন করতেন। ল্যারী এবং তাঁর গেস্ট মোটামুটি দীর্ঘ আলোচনা করতেন এবং তারপর দর্শকদের ফোন কল নিতেন।

ল্যারী ১৯৮৫ সালের জুন মাসে সিএনএন এ প্রথম নিউ ইয়র্কের গভর্নর Mario Matthew Cuomo’র ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে শুরু করেন।

“Larry King Live” তখন হাইয়েস্ট রেটেড শো হিসেবে পরিচিতি পেলো এবং ল্যারীর নামটিও ঘরে ঘরে পরিচিতি পেলো। ১৯৯২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন ক্যাম্পেইন মূলত: ল্যারী’র শো অসাধারন উঁচু মাত্রায় পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারীতে টেক্সাসের বিলিয়নার রস পেরোট ল্যারীর সাথে সাক্ষাৎকার শেষে উঠে এসে যখন বললেন যদি ৫০টি স্টেটের সাধারন মানুষ ব্যালোটে তাঁর নাম সংযুক্ত করতে চান তা’হলে তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

রসের এই বক্তব্য পুরো আমেরিকার গনমাধ্যমে হেডলাইন হলো এবং একই সাথে মনে হলো ল্যারীর “ল্যারী কিং লাইভ” অনুষ্ঠান যেনো আমেরিকান রাজনীতিকদের জন্য অনেকটা অপরিহার্য উপস্থিতি তৈরী করলো। ঐ বছর প্রায় ডজেন খানেক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী ল্যারীর ক্যামেরা ফেইস করেছিলেন।

১৯৯২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন ক্যাম্পেইন নিয়ে টিভি অনুষ্ঠান সম্পর্কিত সমালোচনায় লস এ্যাজ্ঞেলেস টাইমস এর সাংবাদিক হাওয়ার্ড রজেনবার্গ ল্যারী কিংকে আমেরিকার একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৯৩ সালে ল্যারী তাঁর টকশোতে নাফটা (North American Free Trade Agreement) নিয়ে বিতর্কে নিয়ে আসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর এবং এবং পেরোটকে। ঐ সময়ে ল্যারীর বিতর্ক অনুষ্ঠানটি ২৬.৩ মিলিয়ন ভিউয়ারস দেখেছিলো (ঐ সময়ে সর্বোচ্চ ভিউ)।

ওয়াশিংটন বেইজড একটি ম্যাগাজিন তখন ল্যারীকে সবচাইতে প্রভাবশালী গনমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করে। ল্যারীর খ্যাতির পাশাপাশি সমালোচনা ছিলো। তিনি সেলিব্রেটিদের সহজ প্রশ্ন করতেন; অপরদিকে রাজনীতিকদেরও তিনি ফলো আপ প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজতর প্রশ্ন করতেন যাতে রাজনীতিকরা চতুরতার আশ্রয় নিয়ে যথাযথ উত্তর এড়িয়ে যেতেন।

রজেনবার্গ সবচাইতে কর্কশ ভাষায় ল্যারীর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ল্যারী নিজেকে কখনো সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে রাজী ছিলেননা। তিনি নিজেকে ইনফর্মেশন এনটারটেইনার হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে টকশো উপস্থাপক হিসেবে ল্যারী তাঁর সফলতা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন তাঁর আন্তরিকতা এবং আগ্রহ তাঁর সফলতা এনে দিয়েছে হয়তো।

গেস্টরা যা’ ভাবতেন ল্যারী তার ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি বলতেন গেস্ট যা’ তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতেন তা’ই শুনতেন এবং সেখানে তার নিজস্বতা তিনি যোগ করতেননা।

এমনকি উত্তরদাতা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিলেও তিনি তা’ উল্লেখ করতেননা। উত্তরদাতার উত্তর জানানোই ছিলো তাঁর কাজ। একবার রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গর্ভাচবকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো কেনো তিনি ল্যারীর শোতে অংশগ্রহন করেছিলেন। গর্ভাচব বললেন প্রথমত: ল্যারীর শো, দ্বিতীয়ত: লাইভ এবং তৃতীয়ত: সমগ্র আমেরিকানরা ল্যারীর শো দেখে।

১৯৯২ সালে ওয়াশিংটনে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে ল্যারী যেভাবে শুরু করলেন, “মি: প্রেসিডেন্ট শেষতক আবার এই শহরে ফিরে আসতে কষ্ট হয়নিতো? ওয়াটারগেট দিয়ে গাড়ী চালাতে কষ্ট হয়নিতো?” নিক্সন বললেন, “ আমি কখনো ওয়াটারগেটে থাকিনি তাই আমার জন্য কষ্ট হওয়ার কথা নয়।”

ল্যারী বললেন, “কখনোই ওয়াটারগেট পোর্ট ডগলাস রেস্তোরায় যাননি?” যখন নিক্সন সিরিয়াসলি ওয়াটারগেট কেলেংকারীর ওয়াটারগেট বিল্ডিং এর কখা ভেবেছেন ঠিক তখনই ল্যারী ওয়াটার্গেট পোর্ট ডগলাস রেঁস্তোরার কথা বলে পরিবেশ হাল্কা করে দিলেন। ল্যারী যখন ২০১০ সালে ঘোষনা দিলেন তিনি এ বছরের শেষ নাগাদ সিএনএন এ আর এই শো করবেননা তখন মূলত: তার শো এর দর্শক সংখ্যা একেবারেই নিম্নগামী ছিলো।

তখন অবশ্য তাঁর সপ্তম স্ত্রী শনের সাথে সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করছিলেন। দু’জনেই ডিভোর্সের জন্য কেস ফাইল করেছিলেন। সমঝোতাও হয়েছিলো; তাঁরা পূনরায় ২০১৯ এ এসে ডিভোর্সের জন্য আবার কেস ফাইল করেন। তিনি সিএনএন ত্যাগের ঘোষনা দিলেও বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান করতে ফিরবেন বলেছিলেন। তবে তখনই তাঁর শো সময়ের বিবেচনায় দীর্ঘতম ছিলো এবং গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ স্থান পেয়েছিলো। ল্যারী কিং নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ১৯৩৩ সালের ১৯ নভেম্বর জন্ম গ্রহন করেছিলেন।

৮৭ বছরে চলে গেলেন কিংবদন্তি টকশো উপস্থাপক ল্যারী কিং

ল্যারীর বয়স যখন ১০ তখন তাঁর বাবা ১৯৪৪ সালে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান। ল্যারীর মা ল্যারী এবং তার ছোটো ভাই মার্টিনকে নিয়ে ম্যানহাটনের গার্মেন্টস পল্লীতে চাকুরী নেন। পিতার মৃত্যু ল্যারীর জীবনে প্রচন্ড প্রভাব ফেলে। পড়াশুনায় অমনোযোগী হতে শুরু করেন। জুনিয়র হাই স্কুলে দুষ্টু ছাত্র হিসেবেই চিহ্নিত হোন। হাই স্কুলে ফলাফল অত্যন্ত পুওর গ্রেডে থাকে। ১৯৫১ সালে কোনো রকমে স্কুল শেষ করেন। স্কুল শেষ করে নানা রকম অড জব করেছেন।

১৯৫৭ সালে তিনি জানতে পারলেন মায়ামিতে রেডিও জব পাওয়া যেতে পারে। তখনই তিনি ২৩ বছর বয়সে ফ্লোরিডায় গমন করেন।

কিন্তু একটি ছোটো রেডিও স্টেশনে (AM station) তিনি ফ্লোর ঝাড়ু দেয়ার জব পেলেন।  তবে কেউ একজন জব ছেড়ে দিলে তাঁর অন-এয়ার জব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’সপ্তাহ পরে একজন জব ছেড়ে দিলে জেনারেল ম্যানেজার ল্যারীকে অন-এয়ার জব অফার করেন। কিন্তু জেনারেল ম্যানেজার তাঁর প্রথম নামটি বাদ দিয়ে দ্বিতীয় নামটি ব্যবহারের জন্য বললেন। কারন, ম্যানেজারের মতে প্রথম নামটির সাথে ইহুদি এবং জার্মানের গন্ধ রয়েছে।

১৯৫৮ সালে ল্যারী একটি বড় রেডিও স্টেশনে (WKAT) জব পান যেটি মূলত: একটি বিখ্যাত রেঁস্তোরা থেকে পরিচালনা করতেন। রেঁস্তোরায় আগত বড় বড় সেলিব্রেটিদের ইন্টারভিউ দিয়ে ল্যারী শুরু করলেন। ল্যারী সাক্ষাৎকার নিলেন লেনী ব্রুস, ববি ডারিন, এলিনা ফিতজেরাল্ডসহ তখনকার অনেক সেলিব্রেটিদের।

১৯৬০ সালে ল্যারী মায়ামীর স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনেও রবিবারে টকশো শুরু করলেন। দু’বছর পরেই মায়ামি রেডিও স্টেশন ল্যারীকে নিয়োগ দিলো। তিনি তখন একটি হাউজ-বোট বা আবাসযোগ্য বজরা থেকে ইন্টারভিউ শো শুরু করলেন। এই বজরাটি তখন জনপ্রিয় টিভি প্রাইভেট ডিটেক্টিভ সিরিজ “Surfside 6” এ ব্যবহৃত হয়েছিলো।

যার ফলে ল্যারীর স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ার আরেকটি কারন ছিলো মায়ামি ডলফিনস ফুটবল ব্রডকাস্ট করতেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় ফুটবল নিয়ে কলাম লিখতেন। ল্যারীর তখন ১৯৬৬ সালে বার্ষিক আয় ছিলো $70,000। কিন্তু হর্স রেসে বেটিং করা এবং ল্যাভিস লাইফ স্টাইলের কারনে তিনি ঋণে ডুবে যান।

“আমার খ্যাতির শিখরে থাকার সময়ে আমার অনেক ছিলো, অনেকে ছিলো। মনে হতো আমি পুরো মায়ামির মালিক হয়েছি। এবং আমি সেভাবেই জীবন যাপন করতাম” ল্যারী তাঁর ১৯৮২ সালে লেখা আত্মজীবনী “Larry King by Larry King” এ এভাবেই লিখেছেন। ল্যারী আরও লিখেছেন, “ল্যারী কিং যা’ চায় তা’ পাওয়া উচিত এবং আমি সর্বোত্তমটি চাইতাম।”

দিনের পর দিন আয়ের অধিক ব্যয় করে, জুয়া খেলে তিনি এতোটাই ঋণি হলেন যে অর্থের জন্য বন্ধুদের কাছে মিথ্যা বলতে এবং প্রতারনা করতে শুরু করলেন। যে কারনে ১৯৭১ সালে ল্যারীকে এ্যারেস্ট করা হয়েছিলো।

জাজ যদিও তাঁর মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন; কিন্তু সর্বত্র তাঁর দুর্নাম ছড়িয়ে পড়লো। এবং তাঁর ক্যারিয়ার অনেকটা টুটে যাওয়ার মতো হলো।

তিন সন্তান, নয় জন নাতি-নাতনি এবং চার জন গ্রেট-গ্রান্ডচিল্ড্রেন রেখে তিনি কথা বন্ধ করে চলে গেলেন

ল্যারী মায়ামি রেডিও স্টেশনের জব হারালেন, সাইড লাইন জব মায়ামি ডলফিনস, বোটশো, পত্রিকায় কলাম লেখা ইত্যাদি সব হারালেন। স্থির কোনো জব পাচ্ছিলেননা; যখন তিনি ঋণে নিমজ্জিত ছিলেন। ল্যারী কোনো রকম ফ্রিল্যান্স রাইটার, ব্রডকাস্টার হিসেবে জীবন ধারন করছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে আবার ঘুরে দাঁড়ালেন যখন মায়ামি রেডিও স্টেশনে নতুন ম্যানেজার পূনরায় যোগদানের সুযোগ দিলেন।  তারপরও তিনি ১৯৭৮ সালে আর্থিকভাবে দেউলিয়া ঘোষিত হলেন।

কিন্ত একই বছর যখন মিউচুয়াল ব্রডকাস্টিং সিস্টেম তাঁকে late night call-in radio show করার অফার দিলো তখনই ল্যারীর ক্যারিয়ারে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটলো। অবশ্য “Larry King Show” মিউচুয়ালে মুভ করার পূর্বেই মায়ামীতে শুরু হয়েছিলো। তবে মিউচুয়াল তখন ১৯৭৮ সালে তাঁর শো ২৮টি স্টেশন থেকে একযোগে প্রচার করতো যা’ ১৯৮০ তে এসে ৫০টি স্টেটের ২৫০টি এফিলিয়েটস থেকে পরিচালিত হতে শুরু করে।

১৯৮৩ সালে এসে ল্যারী ৯০ মিনিটের একটি টিভি টকশো ১১৮টি স্টেশনের সাথে সিন্ডকেশনে প্রচারের উদ্যোগ গ্রহন করেন; কিন্তু সফল হোননি। তারপর তিনি ১৯৮৫ সালে সিএনএন এ আসেন এবং “Larry King Live” শুরু করেন। এরপর আর তাঁকে পিছু ফিরতে হয়নি। ২০১০ পর্যন্ত তাঁর “Larry King Live” এর ভিউ ছিলো ১.৬৪ মিলিয়ন যা’ ১৯৯৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত গড়ে ছিলো ৭ লক্ষ।

১৬ ডিসেম্বর ২০১০ “ল্যারী কিং লাইভ” দেখতে টিউন করেছিলো ২.২৪ মিলিয়ন ভিউয়ার। “জীবনে একটি দিন ছিলোনা যে আমি কথা বলিনি” প্রতিটি শো শেষে তিনি এই বাক্যটি উচ্চারন করতেন। তিনি আরও বলতেন, “আমি মনে করিনা এভাবে দীর্ঘ দিন চলবে।” তিন সন্তান, নয় জন নাতি-নাতনি এবং চার জন গ্রেট-গ্রান্ডচিল্ড্রেন রেখে তিনি কথা বন্ধ করে চলে গেলেন। সবাইকে চলে যেতে হয়। শুধু কর্ম থেকে যায়।

মোঃ শফিকুল আলম

লেখক পরিচিতিঃ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।
[ঢা/এফএ]

জানুয়ারি ২৭, ২০২১ ৪:১৬

(Visited 29 times, 1 visits today)